বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১   বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

শেষ পর্যায়ে শহরের জল্লারপাড়া লেকের নির্মাণ কাজ

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২১  

আগামী জুন মাসের আগেই শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের জল্লারপাড়া লেকের কাজ। গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দ্রুত এগিয়ে চলেছে এই লেকের কাজ। ফলে লেকটি নির্মাণ হলে একেবারে বদলে যাবে জল্লারপাড়া আমহাট্টা এলাকার চেহারা। এ বিষয়ে জানতে এই কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, শিগগিরই এই লেকসহ বাবুরাইল খালের কাজ শেষ হবে।

 

আগামী জুন মাসের মধ্যে আমরা পূরো কাজ শেষ করে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেবো। তাই এখন রাতদিন কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন মন্ডলপাড়া ব্রিজ হইতে জল্লারপাড়া লেক সহ কাশীপুর আমবাগান পর্যন্ত পূরো বাবুরাইল খালের নির্মাণ কাজ এক সঙ্গেই চলছে। ফলে আগামী জুনের মধ্যে আমরা পুরো কাজ শেষ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। ফলে জুনের মধ্যেই সিটি করপোরেশনকে কাজ বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।


এবিষয়ে জানতে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা সরেজমিন গিয়ে দেখুন কি কাজ হচ্ছে। এরই মাঝে কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই কাজ শেষ হবে এবং শুভ উদ্বোধন করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। আশা করি পূরো কাজ শেষ হওয়ার পর যেকোনো মানুষ ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলে তাদের মন জুড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, জল্লারপাড়া লেকটিও শেখ রাসেল পার্কেরই বর্ধিত অংশ এবং এটিও শেখ রাসেল পার্কের আদলেই নির্মান করা হচ্ছে। লেকটি নির্মাণ শেষ হলে চারিপাশে বৃক্ষরোপন করা হবে। লেকপাড়ে মানুষ যাতে বিশ্রাম নিতে পারে সেই ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাই আশা করি শেখ রাসেল পার্ক এবং বাইবুরাইল খালসহ গোটা এলাকাটিই নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য একটি আকর্ষণীয় এলাকা হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। পূরো কাজটি শিগগিরই শেষ হবে এবং এর সুফল স্থানীয়রা ছাড়াও গোটা এলাকাবাসী ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ।

 

তিনি আরো জানান, পুরো এলাকাটিতেই বিশেষভাবে লাইটিং করা হবে। যার ফলে রাতের বেলা সৃষ্টি হবে আরো অপরূপ এক মনোরম দৃশ্যের।
এদিকে গতকাল জল্লারপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ হয়। ওই এলাকার জামাল উদ্দিন দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে লেকের নির্মান কাজ দেখছিলেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান তিনি ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

 

তিনি বলেন এই লেকটি নির্মান করায় আমরা খুবই খুশী এবং মেয়র আইভীকে ধন্যবাদ। কারণ এই লেকটি ময়লা দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছিলো। আমাদের জন্য দূর্গন্ধে এলাকায় থাকা দায় হয়ে পরেছিলো। তাই এই লেক থেকে কয়েক হাজার ট্রাক ময়লাই সড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেখতেই পাচ্ছেন লেকটির পাড় বাধাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাড় বাধাই শেষ হলে লেকে পানি ছাড়া হবে। লেকপাড়ে মানুষ এসে যাতে বিশ্রাম নিতে পারে তার জন্য বেশ কয়েকটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। তাই জল্লারপাড়বাসী সবাই খুশী। আমরা মেয়রের কাছে কৃতজ্ঞ।তার পাশেই দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ দেখছিলেন বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীন।

 

তিনি বলেন, এখানে ছিলো ময়লার ভাগার আর মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানা। এখানে গড়ে উঠেছিলো বস্তি। আর বস্তিতে ছিলো অপরাধীদের বসবাস। তাই পূরো লেক এলাকাটি আমাদের জন্য একটি গলার কাঁটা ছিলো। কিন্তু এখন আর বস্তি নেই, ময়লা নেই, অপরাধীরাও নেই। বরং এলাকাটি গড়ে উঠছে পর্যটন এলাকা হিসাবে। তাই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হিসাবে আমরা খুশী হবো সেটাই স্বাভাবিক। আমরা মেয়রের সাফল্য কামনা করছি। 
 

এই বিভাগের আরো খবর