শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১০ ১৪২৮

সব কিছুই তার চাই

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

# মানুষের সেবা করার জন্যই নির্বাচন করবো, আগেও চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের সেবা করেছি : মোমেন শিকদার

 


ক্ষমতাসীন দল ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন। এছাড়াও দেওভোগ হাজ্বী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং কাশিপুর দারুচ্ছুন্নাহ কামিল মাদরাসার কমিটির সভাপতি দায়িত্বে রয়েছেন এম সাইফ উল্লাহ বাদল।

 

সচেতন মহল মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের ফতুল্লা থানার দায়িত্বে থাকার পর আর কিছু লাগে না। তারপরেও একাধিক পদে সাইফ উল্লাহ বাদল দায়িত্বে আছেন। এছাড়া মসজিদ, কবরস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে তার বলয়ের লোক পদ-পদবী দখল করে আছে। কাশিপুরে চেয়ারম্যানি থেকে শুরু করে সব কিছুই যেন তার চাই। রাজনীতিবীদদের কেউ কেউ বলছেন ক্ষমতাসিন দলের এত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চেয়ারম্যান হওয়াটা তার ডিমোশন বলে আখ্যা দিয়েছেন। সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, একটা মানুষের কত কিছু লাগে। সেখানে কি অন্য কোন যোগ্য মানুষ নেই। যদি থেকেই থাকে তাদেরকে কেন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। না কি জোর করে এতগুলো পদ তিনি দখল করে আছেন। এতগুলো পদে কি এমন মধু আছে, যা একজন ব্যক্তিকেই থাকতে হবে। দলের ভিতরে এবং বাহিরে এগুলো নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা তৈরী হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যক্তিরা বলছেন সাইফ উল্লাহ বাদলের এখন বিশ্রাম প্রয়োজন। তার বয়স অনেক হয়েছে। এছাড়াও তিনি তেমন একটা নড়াচড়া করতে পারেন না।

 


কাশিপুরের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল আবারও কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকতে চান। তাও আবার ২০১৬ সালের মত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে কাশিপুরের মানুষ এবার ভোট দিতে চায়। কেননা ভোট মানুষের অধিকার। প্রার্থী যেই হউক তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে কোন বিরোধ নেই। কয়েকজন জানান ভোট দিতে না পারায় নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক মানুষ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ভোটাররা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের ভোট দিতে পারে না। তাই এবার কাশিপুরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দাবী উঠেছে তারা ভোট দিতে চায়। সেই সাথে ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়।

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বাদল চেয়ারম্যান এখন আগের মত চলাচল করতে পারেন না। তিনি বাসায় বসে সকল ধরনের কার্যক্রম চালান। কাশিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কোন সেবার প্রয়োজন হলে ইউপি পরিষদে না গিয়ে তার বাসায় যেতে হয়। বাসায় গিয়ে দেখা যায় তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তখন ওই ব্যক্তির সেবা পেতে বিলম্ব হয়। এছাড়াও বাদল চেয়ারম্যান এখন বেশির ভাগ সময় অসুস্থ্য থাকেন। তিনি তিনি দলীয় সব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদেও যেতে পারেন না। বিচার কার্যও আগের মত পরিচালনা করতে পারেন না। তাই তার এখন ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিৎ।

 


এদিকে কাশিপুরবাসী তাকেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে চায় যারা তাকে সুখে দুখে কাছে পায়। যার কাছে গিয়ে ভোটাররা তাদের মনের কথা বলতে পারবে। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনটা হবে পজিটিব পরিবর্তন। যা মানুষের এবং কাশিপুরের উন্নয়নের জন্য। অন্যদিকে এবার কাশিপুর ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মোমিন শিকদারও দল থেকে মনোনয়ন চাইবে। মোমিন সিকদারকে ২০১৬ সনের ইউপি নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমান বলেছে এবার বাদল ভাই চেয়ারম্যান হউক পরের বারের জন্য আপনি প্রস্তুতি নেন। বাদল চেয়ারম্যানও তখন তার এ কথা মেনে নেন। প্রশ্ন উঠেছে এবারকি তারা নিজেদের ওয়াদা রাখবেন নাকি ভঙ্গ করবেন। সেই সাথে এমপির কথা অনুযায়ী এবার কাশিপুর ইউপি নির্বাচনের জন্য মোমেন সিকদার প্রস্তুত আছেন বলে তিনি জানান। কিন্তু এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন তিনি। দলীয় নেতারা সেই অপেক্ষায় আছে গুরুর দরবার থেকে কি নির্দেশ আসে। গুরু কাকে সমর্থন দিবেন তার দিকে তাকিয়ে আছে কাশিপুরের মানুষ।

 


এদিকে কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যানপ্রার্থী মোমেন শিকদার যুগের চিন্তাকে জানান, সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েই আমি এগুচ্ছি। নির্বাচনে আমি যাতে খুব ভালো ফলাফল করার  ব্যাপারেও আমি আশাবাদী। আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রার্থী হতে চাইবেন এটি স্বাভাবিক। আমি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছি। কাশিপুরে আমি চেয়ারম্যানও ছিলাম। আবার চেয়ারম্যান হতে চাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে এবং মাঠ সাজাতে আমি আমার নেতা এমপি শামীম ওসমানের সাথে আলোচনা করবো। আশা করি, অতীতেও যেভাবে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমি কাজ করে গেছি, সামনেও নির্বাচিত হলে আগের তুলনায় আরো ভালোভাবে মানুষের সেবা করতে পারবো। নির্বাচনের অংশগ্রহণের জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি এটিই সত্য।

এই বিভাগের আরো খবর