সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

সমন্বয় না থাকাতেই জলাবদ্ধতার প্রকট

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২১  

গতবছর একটি পাম্প চালিয়েই অনেকটা দুর করা গিয়েছিলো সিদ্ধিরগঞ্জসহ ডিএনডি অধ্যুষিত বেশ কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধতা। তবে, এবার একই শক্তিমত্তার ৪টি পাম্প থাকা সত্ত্বেও দুর হচ্ছে না জলজট। এর কারণ হিসেবে ডিএনডি প্রজেক্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন সমন্বয়হীনতা।  অর্থাৎ রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপদের উন্নয়ন মূলক কাজে পানি প্রবাহের কিছু জায়গা ভরাট করে দেয়া হয়েছে।  

 

একই ভাবে সড়ক ও জনপথের উন্নয়ন কাজেও কিছু জায়গা ভরাট হওয়ার পথে। তাই জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকার পানি খালে আসতে না পেরে পানি প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বেশ কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এছাড়া, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকায় খালকেই ডাম্পিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে স্থানীয়রা। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় উপস্থিত থেকে ডিএনডি প্রজেক্ট ডিরেক্টর এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার আমাদের পাম্প আরো বেশি। গতবার একটা পাম্প দিয়ে কাজ হলো। কিন্তু এবার আমাদের ৪টা পাম্প দিয়েও কাজ হচ্ছে না। একটা পাম্প প্রতি সেকেন্ডে সাড়ে ৫ হাজার লিটার পানি সেচ করে থাকে। তার মানে ৪টা পাম্পে ২০ হাজার লিটার পারসেকেন্ডে সেচ হচ্ছে। এরপরও জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকছে! আসলে আমাদের পাম্প হাউজের খালে তেমন পানি নেই। পাম্প চালালেই খালে পানি থাকছে না। এরপরও জলাবদ্ধতার মানে হচ্ছে খালের সাথে ড্রেনের সংযোগ নেই। লালপুর এলাকাটি খালের তুলনায় অনেক নিচু। তাই খালে পানি আসছে না। 

 

এছাড়া, আমরা আইডেন্টিফাই করে জানতে পেরেছি যে, এবার যেমন রেলওয়ের কারণে কিছু জায়গা ভরাট হয়েছে। সড়কের কাজের জন্য বাধ হওয়ার কারণে পানিগুলো আটকে যাচ্ছে বা অন্যদিক দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার সমন্বয়। সমন্বয় না থাকায় এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ক্যানেলগুলোর বিষয়ে যদি সমাধান না করি, তাহলে যতই আমরা পাম্প চালাই, এই সমস্যার সমাধান কিন্তু হবে না। পানিটা আমাদের খালে আসতে হবে। আর শুধু ডিএনডি প্রজেক্ট দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে না। ময়লা ফেলার জায়গা না থাকলে মানুষ কিন্তু খালে ময়লা ফেলবে। তাই গৃহস্থালির ময়লা ফেলার জায়গা প্রয়োজন। 

 

এসময় সাংসদ শামীম ওসমান অনুরোধের প্রেক্ষিতে ডিএনডি প্রজেক্ট অফিসার জানান, ‘ডিএনডির বাইরে জলাবদ্ধতা নিস্কাশনের জন্য এনায়েতনগরে তারা ভেকু দিবে। এছাড়া, লালপুর বা ইসদাইর এলাকা যেহেতু তাদের প্রজেক্টের মধ্যে নেই, সেহেতু এসব এলাকা যদি প্রজেক্টের অন্তর্ভূক্ত করা যায়, তাহলে তারা সেখানেও জলাবদ্ধতা দূরকরণে কাজ করবে। ইতিমধ্যেই তারা প্রজেক্ট এড়িয়ার বাইরে ইসদাইর ও লালপুর এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানান।’ অন্যদিকে, ডিএনডি প্রজেক্টের মধ্যে যাতে লালপুর ও ইসদাইরসহ বাদপরা এলাকাগুলো সংযুক্ত করা যায়, বা আলাদা বাজেট আনা যায়, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান শামীম ওসমান। এমনকি সভায় বসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুককে ফোন করেও তিনি এই বিষয়ে কথা বলেন। এসব প্রতিমন্ত্রীও মুঠোফোনে সকলকে আশ্বস্ত করেন এবং আগামী রোববার সরেজমিনে পরিদর্শনে আসার কথা বলেন।