রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না ডিম-আলু-পেঁয়াজ

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

 

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস, তখন কিছুটা কমিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয় ডিম, আলু, পেয়াজের। ঘোষণার পর থেকেই বাজারে এ দাম কার্যক্রর হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়,

 

 

এখনো পর্যন্ত পূর্বের দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। নানা অজুহাতে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া দাম মানছেন না বিক্রেতারা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতারা বলছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন বেঁধে দেওয়া দাম বাস্তবায়নে ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকরা বাজার মনিটরিং করবেন।

 

 

জেলা-উপজেলাসহ বড় বড় শহরে মনিটরিং চলবে। সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। তবে, আমরা বাজারগুলোতে কোনো ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম দেখছি না। আর এই সুযোগে বিক্রেতারা আগের দামে, কেউ কেউ আবার আগের চেয়েও বেশী দামে বিক্রি করছে আলু-পেয়াজ। তবে, ডিমের দাম না বাড়লেও কমেনি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

 

নগরীর সবচেয়ে বড় কাচা বাজার তথা দিগু বাবুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেঁধে দেয়ার ৩ দিন পরও ডিম, আলু ও পেয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা ডজন (পিস প্রতি সাড়ে ১২টাকা), আলুর কেজি ৪২-৪৫ টাকা এবং পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৭৬ টাকা কেজি দরে।

 

 

ব্যবসায়ীরা বলছে, পাইকারী বাজার ও আড়তে দাম না কমলে আমাদের কিছু করার নেই। বেশী দামে কিনে এনে তো লোকশান দিয়ে ব্যবসা করতে পারবো না। তাই আগে পাইকারী বাজার ও আড়তগুলোতে অধিকহারে বাজার মনিটরিং করার তাগিদ দেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, সেখানে কমলে খুচরা বাজারে অটোমেটিক দাম কমে আসবে। তখন এখানে আর মনিটরিংয়ের দরকার হবে না।

 

 

সরকারের বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রি করছেন না কেন? জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলছেন, আমরা তো ব্যবসা করি লাভের জন্য। সরকারের দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। আড়ৎদারদের কাছ থেকে আলু কিনেছি ৪০ টাকায়, খরচসহ দাম গিয়ে পড়বে ৪১ টাকা, তাহলে কিভাবে ৩৫-৩৬টাকায় বিক্রি করবো আপনিই বলেন।

 

 

একইকথা বলছেন পেয়াজ ও ডিম বিক্রেতারাও। আড়তে দাম বৃদ্ধির অজুহাতসহ নানা খাতে খরচের কথা উল্লেখ করে, সরকারের বেঁধে দেয়া দামে কোনোভাবেই পেয়াজ ও ডিম বিক্রি করা যাবে না বলে জানান তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর বাবুরাইল বউ বাজার, খানপুর বউ বাজার, কাশিপুর বাংলা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারেও দেখা গেছে একইচিত্র।

 

 

এসব বাজারেও পূর্বের দামে, কেউ কেউ আবার খরচের অযুহাতে আরও বাড়তি দামে ডিম-আলু-পেয়াজ বিক্রি করছে। শহরের অলিগলির মুদি দোকানে দাম আরও বেশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্থিতিশীলতায় অসহায় ক্রেতারা। নিত্যপণ্যের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠছে।

 

 

বাজারে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। সরকারের নির্ধারিত দামে কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। আলু, ডিম, পেঁয়াজ, চিনি, তেল সবকিছুই আগের মতো বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজারের বিক্রেতারা খেয়ালখুশি মতো পণ্যের দাম আদায় করে। নিয়মিত  বাজার মনিটরিং করা উচিত।

 

 

আরেক ক্রেতা জনি বলেন, সরকারের বেঁধে দেয়া দামে কিছুই কিনতে পারলাম না। সরকার আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এজন্য ব্যবসায়ীরা আগের দামেই সবকিছু বিক্রি করছে। আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ ভালো নেই। কারণ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেশি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমরা নাভিশ্বাস। নিম্নবিত্ত বা দারিদ্র্য মানুষের কষ্টের সীমা নেই।

 

 

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা শীর্ষক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তিন পণ্যের বেঁধে দেওয়া দাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম হবে সর্বোচ্চ ১২ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৬ এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা।   এন. হুসেইন রনী   /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর