মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

সাজনুকে ঠেকাতে শাহ্ নিজামীয় টোটকা

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৪  

 

 

সাজনুকে ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখতে শাহ্ নিজাম টোটকার আশ্রয় নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে কানাঘুষা চলছে। তিনি ওসমান পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন। আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা নির্ধারণ করতে গিয়ে অচিন্তনীয় ঝামেলায় পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তার হাত ধরে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নেতার সারিতে জায়গা করে নিয়েছেন শাহ্ নিজাম ও শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু। 

 

শাহ্ নিজাম বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাজনু নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে আসীন। প্রায় ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরক্ষণেই এরা দু’জন  চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণায় নেমে পড়েন। শুরু হয় উভয়ের বাগযুদ্ধ। কথার মারপ্যাঁচে একে অপরকে ঘায়েল করার নগ্ন প্রতিযোগিতা মিডিয়ার কল্যাণে জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়ে গেলে চারদিকে কানাঘুষা বাড়তে থাকে। 

 

বাগযুদ্ধের পাশাপাশি ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলতে থাকে দু’জনের কালারিং পোস্টারিং যুদ্ধ। দুই শিষ্যের এই নোংরামী পর্যবেক্ষণ করে স্বয়ং শামীম ওসমান কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। দু’জনইতো তার খুব ঘনিষ্ঠ। তিনি কাকে থামতে বলবেন কিংবা কার পক্ষে কথা বলবেন! এমনিতরো অবস্থায় শামীম ওসমান উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করে কৌশলী হতে বাধ্য হন। তিনি আচমকা নোটিশে কাশীপুরে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা আহ্বান করান। 

 

সেই সভায় শাহ্ নিজাম ও সাজনুকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছিলো বলে কোন কোন সূত্রের দাবি। সভায় শামীম ওসমান দু’জনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে কেউই বিব্রত করবেন না। থানা আওয়ামী লীগ বা আমাকে বাইপাস করে কেউ প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করলে এর ফল শুভ হবে না। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কেউ ইগো প্রব্লেম তৈরী করবেন না। নিয়ম না থাকলেও আমি নির্বাচনের মাঠে থাকবো।’

 

এর আগে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীতা বাছাইয়ে শামীম ওসমানকে এ ধরণের বাড়তি ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয়নি। কাশীপুরের ওই বর্ধিতসভার পর নিজাম কিংবা সাজনু কাউকেই নির্বাচন  নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়নি। ফলে সবাই ধরে নিয়েছেন, শামীম ওসমানের কৌশল কাজে লেগেছে। কিন্তু বসে নেই শাহ্ নিজাম। তিনি সাজনুকে ঠেকানোর মিশন নিয়ে তলে তলে টোটকা প্রয়োগ করছেন। 

 

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রমতে, নির্বাচনি মাঠে শাহ্ নিজামের চাইতে সাজনুর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। সদরের ভোটারদের কাছে সাজনু একটি পরিচিত নাম। তার নামের আগে পরে কোন নেতিবাচক কর্মকান্ডের সিল ছাপ্পর নেই। কিন্তু শাহ্ নিজামের গায়ে বদনামের অনেক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে। তার ভয়টাও সেখানেই। আর কারণেই তিনি সাজনুকে ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখতে টোটকার আশ্রয় নিয়েছেন।

 

 ওসমান পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যেই তিনি পৃথকভাবে প্রয়াত নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমান এবং শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সাথে হাসিখুশিতে সময় কাটিয়েছেন। এ দুজনের সাথে তোলা ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে তিনি সবাইকে কী ম্যাসেজ দিতে চাইছেন, তা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। 

 

কিন্তু তিনি হয়তো জানেন না, ওসমান পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সাথে সারোয়ার পরিবারের ওঠাবসা অনেকদিনের পুরানো। সারোয়ারের পরিবার যখন উত্তর চাষাঢ়ার থাকতেন তখন থেকেই প্রয়াত নাসিম ওসমান এবং শামীম ওসমানের সাথে সারোয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠতা। সারোয়ার এবং তার দুই ভাই হেলাল ও সাজনু ছোট থেকে বড় হয়েছেন চাষাঢ়ায় ওসমান পরিবারের চোখের সামনে। 

 

ওসমান পরিবারের সাথে সারোয়ার, হেলাল এবং সাজনুদের সম্পর্ক রক্তের চাইতেও বড়। শাহ্ নিজামের টোটকা কতোটুকু কাজে লাগবে তা বলার সময় এখনো আসেনি বলে মনে করেন বোদ্ধা মহল। এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও সাজনুুর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরো খবর