শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২   মাঘ ৮ ১৪২৮

সৎ ও প্রতিবাদী আইভীতেই ভরসা নগরবাসীর

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

 নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। শেষ মুহুর্ত্বের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ১৮৯ জন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (নৌকা) ও এড. তৈমুর আলম খন্দকার উভয়ই বলছেন, সাধারণ ভোটাররা কাকে ভোট দিবেন সেই সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে ফেলেছেন। এখন কেবল ১৬ জানুয়ারি ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা। এদিকে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ড ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন গত দুইবারের নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। 

 

উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডের পাশাপাশি এই নগরীতে সৎ ও প্রতিবাদী চরিত্রের কারণেই আইভীকে এগিয়ে রেখেছেন তারা। জানা যায়, দীর্ঘ ১৮ বছর নগরকর্তার দায়িত্বে সেলিনা হায়াৎ আইভী। দুইবার মেয়র ও একবার পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। নগরবাসীর অভিমত, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও নীতিভ্রষ্ট হননি তিনি। প্রতিপক্ষ শক্তির ইন্ধনে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে কিছুই প্রমাণ পায়নি। আইভীর এই সৎ ইমেজ নগরবাসীর সমর্থন আরও বাড়িয়েছে। নগরবাসী আরও বলছেন, এই শহরে উন্নয়ন কাজও কম করেননি আইভী। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ঘুরলেই তার চিত্র দেখা যায়। অলি-গলির রাস্তায়ও পাকা করেছেন তিনি। পয়নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনও নির্মাণ করে দিয়েছেন। 

 

খাল, জলাশয় উদ্ধারের পাশাপাশি মাঠ ও পার্ক নির্মাণ করেছেন আইভী। নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছেন মসজিদ, মন্দির, গীর্জাতে। সৎ ইমেজের অধিকারী আইভীর কারণে বিদেশী উন্নয়ন সংস্থাও এই নগরীতে উন্নয়নকাজের জন্য আইভীকে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে। এদিকে নগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আইভীর জনপ্রিয়তা কেবল আওয়ামী লীগে নয়। 

 

বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতাদর্শী লোকজনও আইভীকে পছন্দ করেন। এর পেছনে যুক্তিও রয়েছে তাদের। উন্নয়ন কাজের সময় দল-মত বিচার করেননি তিনি। নিজে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজির মতো কার্যক্রমের সাথে যেমন নেই, তেমনি তার কোনো বাহিনীও নেই। চাঁদাবাজি, তোলাবাজিতে কখনও তার পরিবারের কারও নাম আসেনি। এই কারণে সকল দলের লোকজনের কাছে জনপ্রিয় আইভী। ভোটের মাঠ জানতে কথা হলে বন্দরে কথা হয় নূরতাজ বেগম নামে এক নারীর সাথে। কথায় কথায় তিনি জানান, তার পরিবার বিএনপি সমর্থিত। তবে গত দুইবারই তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন ভোট দিয়েছেন আইভীকে। এর কারণ হিসেবে নূরতাজ বলেন, ‘আইভী ভালো মানুষ। আমি নিজে ধানের শীষের লোক হয়েও আইভীরে ভোট দিছি। আইভী ভোটের মান রাখছে। আবারও তাকেই ভোট দিমু।’ দলবাজি না করার বিষয়টি সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজেও বারবার বলেছেন। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ করলেও মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর কখনই দলবাজি করেননি। উন্নয়ন কাজের বেলায় দল-মত বিচার করেননি। দল-মতের উর্ধ্বে উঠে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করেছেন। এর প্রতিদানও গত দুইবার মানুষ তাকে দিয়েছে। এইবার ব্যতিক্রম ঘটবে না বলেই আশা তার।

এই বিভাগের আরো খবর