শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২   মাঘ ৮ ১৪২৮

১নং ওয়ার্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে হাজী ওমর ফারুক

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের লড়াইয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন ঝুড়ি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর হাজী মো: ওমর ফারুক। প্রায় দুইশত কোটি টাকার উন্নয়ন, করোনা মহামারী কালীন সময়ে জীবনের পরোয়া না করে দিন-রাত হাজার হাজার মানুষকে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, বর্জ্য অপসারণে নিজ অর্থায়নে গাড়ীর ব্যবস্থা  সহ ওয়ার্ডবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভুতপূর্ব ভুমিকা রাখার কারণে কাউন্সিলর ফারুক এবার জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোন পেশী শক্তির কাছে ওয়ার্ডবাসী তাদের পবিত্র দায়িত্ব হস্তান্তর করবেনা বলে জনসাধারণ নিরব বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধিকে বেছে নিবেন বলে প্রত্যাশা ওয়ার্ডবাসীর। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহুর্তে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নিয়ে প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। জানা যায়, এবার এ ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক ঝুড়ি, সাবেক কাউন্সিলর মো: আব্দুর রহিম ঘুড়ি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান লাঠিম, বিশিষ্ট শিল্পপতি মো: আনোয়ার ইসলাম ঠেলাগাড়ী ও তাঁর বড় ছেলে মো: মাহাবুব আলম মিষ্টি কুমড়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম ট্রাকটর ও ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মালিক রেডিও। নির্বাচনী মাঠে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক ও সাবেক কাউন্সিলর মো: আব্দুর রহিমের মধ্যে। তবে, এবার নবাগত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের জৈষ্ঠপুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান এবং এইবার সহ তৃতীয় বারের মত নির্বাচন করছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মো: আনোয়ার ইসলাম। শতকোটি টাকার উন্নয়নের ঝুলি, করোনা মহামারী কালে সাধারণ নাগরিকদের ত্রান সহায়তা এবং অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভোট যুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক।

 


নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্ব পাড়া, পাইনাদী পূর্ব পাড়া ও বাতেনপাড়া এলাকাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩,১০৫ ভোট। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬,২৭৮ জন, নারী ভোটার ১৬,৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। এ ওয়ার্ডে প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়াদকালে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় দেড়শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পান্ন হয়েছে এবং আরো ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ ওয়ার্ডে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও বেরেছে ভুমিদস্যুতা, চাঁদাবাজী, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন হাজী ওমর ফারুক।


ওই ওয়ার্ডের পাইনাদী এলাকার দিন মজুর আব্দুর রশিদ জানায়, করোনার মহামারীর সময় কাউন্সিলর ফারুক আমাদেরকে চাল-ডালসহ আর্থিক সাহায্য করে বিপদে পাশে দাড়িয়েছে আমরা আবারো তাকে চাই।


হিরাঝিল এলাকার দুলাল নামে এক ব্যক্তি জানায়, ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনের আগে এ ওয়ার্ডের রাস্তাÑঘাটগুলা এতই খারাপ ছিলে যে চলা-ফেরা করতে খুবই সমস্যা হত। ফারুক ভাই কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়ার্ডের এমন কোন অলিগলি নাই যে, সে সেখানে কাজ করেনি। সে গরীব দু:খী মানুষের বন্ধু।


আলামিন নগর এলাকার বিধবা ফুলবানু জানিয়েছেন, আমার স্বামী নেই। দুই মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হত। কাউন্সিলর ফারুক আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়ায় আমার চলতে এখন আর সমস্যা হয় না। আমরা তাকেই চাই।


পাইনাদী সাপলা চত্বর এলাকার আমিরন নামে এক নারী জানায়, আমার স্বামী একজন রিক্সা চালক। আমার শিশু সন্তানকে দুধ কিনে খাওয়ানোর সামর্থ্য নেই। কাউন্সিলর সরকারী সহায়তা দেয়ায় আমার অনেক উপকার হইছে। তার মত কাউন্সিলর বার বার চাই।


সিআইখোলা বৌবাজার এলাকার সামছু মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী জানায়, কাউন্সিলর ফারুক ভাই নির্বাচিত হওয়ায় এলাকার অনেক উন্নয়ন হইছে। সে একজন পরোপকারী মানুষ। তার কাছে কেউ সাহায্যের জন্য গেলে খালি হাতে ফিরায় না। এ ব্যাপারে বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক বলেন, আমি গত ৫ বছরে ওয়ার্ডবাসীর জন্য রাস্তা-ড্রেনসহ ১৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি এবং বর্তমানে আরো ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আর করোনা মহামারীর কালে ওয়ার্ডেবাসীর পাশে থেকে ত্রান সহায়তা দিয়েছি। আমার ওয়ার্ডবাসী আমার কাজে সন্তোষ্ট। করোনার কারণে আমি তিন বছর কাজ করতে পেরেছি বাকি দুই বছর কাজ করতে পারি নাই। এছাড়া বিগত ৫ বছর এ ওয়ার্ডের তেমন কোন কাজ হয় নাই। সেই দিক দিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি বলেও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা খুশী। আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান লক্ষ্য ছিল মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা। আমার এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূলে সফল হলেও মাদকটি পুরোপুরি নির্মূল করতে পারি নাই। এ কারণেই পারিনাই যারা মাদক সেবন করে ও বিক্রি করে তাদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে বলেই আমি মাদক পুরোপূরি নির্মূল করতে পারি নাই। যারা মাদক সেবন করে ও বিক্রি করে তারাই কিশোর গ্যাংকে শেল্টার দেয়। এ জন্যই আমি সেটা নিয়ন্ত্রন করতে পারি নাই। আমি এ বিষয়টি নানান সময় প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতাও পেয়েছি। আমি সুখে-দু:খে ওয়ার্ডবাসীর পাশে ছিলাম। আমি সাধ্য অনুযায়ী ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ওয়ার্ডবাসীর প্রতি আমার শতভাগ বিশ্বাস রয়েছে তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

এই বিভাগের আরো খবর