সোমবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৪ ১৪২৯

খালাতো শালার এতো দাপট

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২২  

 

পুরো জেলায় টেন্ডারবাজির রাম-রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন; জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক (খালাতো) পরিচয়দানকারী এহসানুল হক নিপু। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদরে এলজিইডির টেন্ডার জমা দিয়ে কাজ পেয়েও নিপুর হুমকি-ধমকির কারণে আতঙ্কে রয়েছেন এরিষ্টোক্রেটিক কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী তানভীর রশিদ মজুমদার। 

 

 

সূত্র বলছে, কমিশন না পাওয়ায় ঠিকাদার তানভীরের কাজ বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে নিপু; তার ভয়ে তটস্থ প্রকৌশলীরাও। এমপির নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদারী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের নিপুর মুখোশধারী ভয়ঙ্কর চেহারা, আবারো উন্মোচিত হল!

 

 

সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলায় ২ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৩ টাকার একটি কাজ পেয়েও নিপুর হুমকি-ধমকির কারণে কাজের সাইটে যেতে পারছেননা  তানভীর। এদিকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীও। 

 

 

সূত্র জানিয়েছে, পাগলাবাজার থেকে গোদনাইল ইউপি অফিস ভায়া কুতুবপুর ইউপি অফিস ৩ হাজার ২১৪ মিটার (৩.২ কিলোমিটার) কাজের টেন্ডার স্বচ্ছতার সাথে ড্রপ করেই ২ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৩ টাকা কাজ পান তানভীর রশিদ মজুমদার। 

 

 

এলজিইডির কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্টের তারিখ ১/১১/২২ইং।  কাজ শুরু করার তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২২। কাজ শেষ করার তারিখ ৭ মার্চ ২০২৩। গত ২২ নভেম্বর এলজিইজি তানভীরকে কাজের সাইটও বুঝিয়ে দেয়। তবে নিপুর হুমকি-ধমকির জন্য কাজ শুরু করতে পারছেননা তানভীর।

 

 

সূত্র বলছে, প্রভাবশালী এমপির শ্যালক পরিচয় দিয়ে টেন্ডারবাজির হোতা যুবলীগ নেতা এহসানুল হক নিপুর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নানা সময়ে উঠে এসেছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে চান কমিশন। তাতে কেউ রাজি না হলেই নানা উৎপাত শুরু করেন নিপু।  

 

 

দীর্ঘদিন ধরেই নিপু নারায়ণগঞ্জ প্রভাবশালী এমপির শ্যালক পরিচয়ে, প্রভাব খাটিয়ে, নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির টেন্ডারগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যেসব টেন্ডরগুলো তার নিয়ন্ত্রেণের বাহিরে চলে যাচ্ছে সেসব টেন্ডার জমাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় এমপির দোহাই দিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

 

 

আর এই হুমকি-ধমকি দিয়েই নারায়ণগঞ্জ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মুখ বন্ধ রেখে নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেন নিপু। এর বদৌলতেই এই নামধারী কথিত যুবলীগ নেতা নিপু; নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে টেন্ডারবাজির মহোৎসব করে বেড়াচ্ছেন।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, ২২/১১/২০২২ তারিখে পাগলা বাজার-গোদনাইল ইউপি কার্যালয় ভায়া কুতুবপুর ইউপি অফিসের ৩ হাজার ২১২ মিটার কাজটি সরেজমিন অত্র উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কাজের সাইট বুঝাইয়া দিয়ে আসা হয়। 

 

 

কিন্তু এরপর থেকেই শামীম ওসমানের শ্যালক হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু এই কাজের টেন্ডার পাওয়া এরিষ্টোক্রেটিক কন্সট্রাকশন লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী তানভীর রশীদ মজুমদারকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।এবং কাজের সাইটে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন। 

 

 

সূত্র জানায়, তানভীরকে সদর উপজেলার প্রকৌশলী কাজটি বুঝিয়ে দেয়ায় তাকেও হুমকি-ধমকি শুরু করে দেয়। এমনকি কাজটি বুঝিয়ে দেয়ার আগেও কাজটি যেন না বুঝিয়ে দেয়া হয় এজন্য এমপি সাহেবের দোহাই দিয়ে প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেন নিপু। 

 

 

কিন্তু তারপরেও সদর উপজেলার প্রকৌশলী এরিষ্টোক্রেটিক কন্সট্রাকশনকে কাজটি বুঝিয়ে দেয়। এরপর থেকেই সেই প্রকৌশলীর উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে নিপু। 

 

 

এ বিষয়ে এরিষ্টোক্রেটিক কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী তানভীর প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ করেও কোন রকম সুরাহা পাচ্ছে না। পরবর্তীতে তানভীর নিপুর হুমকি ধমকির এই ঘটনা এলজিইডি সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোসা. শামসুন নাহারকে জানালে, ‍তিনি এমপি এবং তার শ্যালক নিপুর সাথে কথা বলে ম্যানেজের কথা বলেন।"

 

 

এসব ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন তানভীর। সূত্র জানিয়েছে, ‍‍‍“তানভীরকে এহসানুল হক নিপুর সাথে কথা বলে কাজ শুরুর পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী।”

 

 

এরিষ্টোক্রেটিক কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী তানভীর রশিদ মজুমদার জানান, “এই কাজের টেন্ডার জমা দিলাম কেন; এটা জানতে চেয়ে এমপি সাহেবের এক কাজিন ফোন দিল। আমি বললাম, টেন্ডার জমা দিতে তো কেউ নিষেধ করেনি, ভাই। নিপু একদিন ফোন দিয়েও একই কথা।

 

 

আরো কয়েকজন ফোন দিল। নানাভাবে থ্রেট দিল। কিন্তু এতোকিছুর পরও যখন উপজেলা থেকে আমাকে কাজের সাইট বুঝিয়ে দিল, তখন ইঞ্জিনিয়ারকেও হুমকি-ধমকিও শুরু করল, এবং কাজ না বুঝিয়ে দিয়েই আসতে বললো। আমি কাজ বুঝে পেলেও এখন নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলছেন।”

 

 

এলজিইডি সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোসা. শামসুন নাহার যুগের চিন্তাকে বলেন, “তানভীরকে তার কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি। হুমকি-ধমকির ব্যাপারটি আমার জানা নেই। কাজ বুঝিয়ে দেয়ার পর তানভীর আমাকে কোন কিছু জানায়নি; এমনকি আমার অফিসেও আসেনি। কাজ বুঝিয়ে দেয়ার পর কোন ভয়-ভীতি তৈরির করার কথা আমার জানা নেই।”

 

 

এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এন.এইচ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর