সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

সমস্যা অনেক, জনপ্রতিনিধিরা নেই

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২১  

# বেশিরভাগ সড়কেরই বেহাল দশা


# অবৈধ ইটভাটায় সয়লাব গোটা এলাকা


# চিকিৎসাসেবা নেয়ার ভালো ব্যবস্থা নেই

 

একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধি জনগণের সুখে দুখে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আগলে রাখে, নিজেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। জনপ্রতিনিধি যদি জনগণের কোন কল্যাণেই আসতে না পারে তবে সে জনপ্রতিনিধির একটি পদ ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু জনগণের আদর্শ প্রতিনিধি হতে পারে না। বন্দরের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ের যে প্রতিনিধিরা আছেন তারা নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনবান্ধব মনে করলেও স্থানীয় জনগণ বলছে ভিন্ন কথা। তারা কখনো সাধারণ মানুষের কথা চিন্তাও করে না, বরং তাদের ভান্ডার ভারী করার ফিকিরে থাকে।

 

বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশীদ ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তা। তারা শুধু  কোন নির্দিষ্ট জনগণ বা এলাকার লোকের জনপ্রতিনিধি না, তারা জনপ্রতিনিধি গোটা উপজেলা পরিষদের। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদগুলো তাদের আওতাভ‚ক্ত। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তারা কতটুকু জনগণের হতে পেরেছেন।


 
বন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানকার সড়কগুলোর যাচ্ছে তাই অবস্থা। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ফরাজীকান্দা থেকে কলাগাছিয়া সড়ক, কল্যান্দী থেকে জিউধরা ও আদমপুর হয়ে সাবদী সড়ক, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের বন্দর বাস স্ট্যান্ড থেকে কাইকারটেক ও সাবদী সড়ক, মুছাপুর ও ধামগড়ের ইস্পাহানী থেকে লাঙ্গলবন্দ সড়ক এবং মদনপুর ইউনিয়ন এলাকার গোলদাসেরবাগ জাঙ্গাইল সড়কসহ স্থানীয় গ্রামগুলোর ভিতরকার বেশীরভাগ সড়কেরই খুব করুণ অবস্থা। এই সব রাস্তায় যানবাহন দিয়ে চলাচল করা সাধারণ মানুষের পক্ষেই খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে রুগী, বৃদ্ধ ও শিশুসহ গর্ভবতী মায়েদের চলাচল যে কতটুকু ঝুকিপূর্ণ তা এই রাস্তাঘাট একবার দেখল যে কেউ বলে দিতে পারবে। এখানকার বেশীরভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানই একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন।

 

এতে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি স্থানীয়দের ভাগ্য। এখানকার স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র গুলোর কথাতো কল্পনাও করা যায় না। স্থানীয় কোন স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রেই নাই কোন চিকিৎসার পরিবেশ। মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য নুন্যতম যে চিকিৎসা সামগ্রীর প্রয়োজন তার কোন ব্যবস্থা না থাকায় ঠান্ডা-জ্বর কিংবা সর্দির মত সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে শুধু রোগীরা এখানে আসে। এসব উন্নয়নের দিকে এখানকার জনপ্রতিনিধিদের সাফল্য না থাকলেও সাফল্য আছে তাদের ব্যাক্তিগত উন্নয়নে। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয় না হলেও উন্নয়ন হচ্ছে অবৈধ ইটভাটার, উন্নয়ন হচ্ছে অবৈধ বালু ব্যবসার।

 

এখানকার অনেক জনপ্রতিনিধির নামেই আছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা কিংবা বালুর সিন্ডিকেট। এতে পরিবেশ দূষণ কিংবা নদী ভাঙন হলেও তাদের কোন ক্ষতি নাই। যা ক্ষতি তা শুধু জনগণের। তারা জানতে চান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছাড়াও উপজেলায় যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ার দখল করে আছেন তারা কয়দিন এসব সমস্যার খবর নিতে এসেছেন ? আর এখানে যে ব্যাঙের ছাতার মত ইটভাটাগুলো হচ্ছে অবৈধ বালুর ব্যবসা হচ্ছে এসব খবর কি তাদের কানে পৌছেনি ? তারাতো কখনো এখানে এসে জনগণের সমস্যা জানতে চাননি ? তারা চেয়ার দখল করে এসি রুমে বসে আছেন। এইসব জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কোন খোজ খবর নেয়ার প্রয়োজন হয় না।


 
স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি সময় যাবত দেশে করোনা মহামারী চলছে। বন্ধ আছে সকল প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমে গেছে প্রায় সব শ্রেণির মানুষের উপার্জন। এতে স্বচ্ছল ও বিত্তবানদের অন্তত দৈনন্দিন চলাচলে সমস্য হয় না। কিন্ত সমস্যায় পড়ে নি¤œ আয়ের সাধারণ মানুষ। তারা প্রশ্ন করেন, যেসব জনপ্রতিনিধি চেয়ার দখল করে টু পাইস কামিয়ে গাড়ি-বাড়ি, জায়গা-জমি, অর্থ-সম্পদ উপার্জনসহ নিজেদের আধিপত্য ও প্রাধান্য বিস্তারে বিস্তর পয়সা খরচ করছেন তারা তাদের জনগণের পাশে এই বিপদে কতটুকু দাঁড়িয়েছেন! তাদের উপার্জন তো আর বন্ধ নাই। শুধু তাদের কেন? তাদের নামের প্রভাব বিস্তার করে তাদের ভাই-ভাতিজা, নিকটাত্মীয়সহ তাদের তোষামোদকারীরা দেদারসে উপার্জন করছে। কিন্তু জনগণের বেলায় কাঁচকলা। জনগণ এইসব জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা চাইবে তো দুরের কথা, তাদের সাথে দেখা করারও সাহস বা সৌভাগ্য কোনটাই তাদের কপালে জুটে না। এসব জনপ্রতিনিধিদের চারপাশ ঘিরে রাখে তাদের পোষা কিছু তোষামোদকারী। এখানে জনগণের ব্যক্তিগত সমস্যাতো দুরের কথা স্থানীয় সমস্যার কথাও জানানোর জন্যও তারা কাউকে পাশে পায় না।


 
স্থানীয় জনগণের আক্ষেপ, আওয়ামী লীগ সরকারের মতো একটি উন্নয়নবান্ধব সরকার ক্ষমতায়, স্থানীয় সাংসদ যিনি উন্নয়ন ও জনসেবার জন্য দানবীর হিসেবে পরিচিত তারও সুদৃষ্টি আছে তাদের উপর। অথচ এইসব ইউনিয়ন গুলোর রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে মনে হয় অন্তত দশ বছরের মধ্যে রাস্তার উপর কোন প্রকার সংস্কারের ছোঁয়া পর্যন্ত লাগেনি। এসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বক্তব্য, এলজিইডি’র কোন ফান্ড না থাকায় এসব রাস্তার কিছু অংশের সংস্কার কাজ করা হবে তবে কোন সড়কেরই সম্পুর্ণ সংস্কার কাজ করা সম্ভব হবে না। 


 

এই বিভাগের আরো খবর