সোমবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৪ ১৪২৯

সদর-বন্দরে জটিল হিসাব

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২২  

 

# বড় তিনদলেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বছর খানেক আগেই। বড় দুই দল আওয়ামীলীগ-বিএনপি নানা কর্মসূচি নিয়ে সরব রয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়েও নানা রকম আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামীলীগের জোটগত কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দুই দলের কেউই নিজেদের দলের প্রার্থী দেয়নি।

 

 

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তার অন্যতম শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে। আওয়ামীলীগের ভুরি ভুরি নেতা মনোনয়নপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত সবাই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে সেলিম ওসমান আওয়ামীলীগের ১৪দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

 

 

এদিকে বিএনপিও তার পরীক্ষিত নেতা সাবেক সাংসদ আবুল কালামকে মনোনয়ন বঞ্চিত রেখেছেন গত নির্বাচনে। জোটে থাকার দরুণ নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরামকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনী ফলাফলে সেলিম ওসমান বিএনপির এসএম আকরামের বিপরীতে জয়ী হন।

 

 

এসএম আকরামই একমাত্র প্রার্থী যারা আওয়ামীলীগ, স্বতন্ত্র এবং বিএনপির হয়ে একই আসনে নির্বাচন করার নজির রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে বিএনপি। রাজনৈতিকভাবে তাকে মোকাবেলায় ব্যস্ত আওয়ামীলীগ। জাতীয় পার্টি দৌড়াচ্ছে এখন আদালতে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের সাথে জোটে থাকবে কি থাকবেনা সেটি নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়।

 

 

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সেলিম ওসমান। তবে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ ও সেলিম ওসমানের বড় ভাই নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান বর্তমানে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি গত নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হবার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

 

 

তবে সেলিম ওসমানের তীব্র বিরোধীতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে যান পারভীন ওসমান। এবার জাতীয় পার্টির দ্বিখণ্ডিতা এবং সেলিম ওসমানের অসুস্থ্যতার দরুণ আসন্ন নির্বাচনে গত নির্বাচনের চেয়ে শক্তিশালী ভাবে প্রার্থীতা দাবি করতে পারেন পারভীন ওসমান এমন মত বিশ্লেষকদের।

 

 

বিএনপির অবস্থাও এই আসনে জটিল আকার ধারণ করেছে। সাবেক সাংসদ আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য। গত নির্বাচনের সময় তিনি দলীয় প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সেবার  তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তবে অসুস্থ্যতার দরুণ তিনি কর্মসূচিতে সরব না থাকায় মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়।

 

 

সদ্য মহানগর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে বেছে নেয়া হয়। আবুল কালামের অনুপস্থিতিতে মহানগর বিএনপির দাপুটে অবস্থা এখন ফিকে হয়ে এসেছে তার বলয়ে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে নিয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে মহানগর এলাকায়।

 

 

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দরেও নতুন নেতৃত্বে বিএনপি কর্মীদের শক্তিশালী অবস্থান খেয়াল করা গেছে। আবুল কালামের ভাই আতাউর রহমান মুকুল মহানগর বিএনপিতে স্থান পেলেও তীব্র বিদ্রোহের কারণে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। আর তাই মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটি আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

 

 

এদিকে গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির জোট থেকে প্রার্থী হওয়া এসএম আকরামও আর তেমন আগ্রহ দেখাননি এই আসনে। ফলে বিএনপিতে আগামীতে এই আসনে কারা মনোনয়ন চাইবে এখনও তা পরিষ্কার নয়। এই মুহুর্তে বিএনপি ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। জাতীয় পার্টির জোর প্রভাবে আওয়ামীলীগের অনেক প্রার্থী আগ্রহ প্রকাশ করেও শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

 

 

এই আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল কাদির, আরজু রহমান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের হিসাবে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে যান।

 

 

এবার পরিস্থিতি একেবারে উল্টো। জাতীয় পার্টির বিভক্তি এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি না হলেও আওয়ামীলীগের তরফ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এবার কেউ মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে এখনও আগ্রহ প্রকাশ করেনি। গত ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের পর থেকে আওয়ামীলীগ বর্তমানে নীরব অবস্থানে রয়েছে।

 

 

তেমন কোন তৎপরতা নেই। মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় তাতে আরো ভাটা পড়েছে কার্যক্রমে। চলতি ডিসেম্বরেই আওয়ামীলীগের সম্মেলন। আর তার পর থেকেই পুরোদমে মাঠে নামবে আওয়ামীলীগ এবং জোটের ব্যাপারেও নানা সমীকরণের পর সিদ্ধান্তে আসবে।

 

 

জাতীয় রাজনীতি এবং স্থানীয় রাজনীতি বিবেচনায় বড় তিন দলের মধ্যেই প্রার্থী নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এই আসনে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। সময় গড়িয়ে নির্বাচন আরো সামনে আসলে প্রার্থীতার বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর