মেয়রের বিরুদ্ধে মসজিদের জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন (ভিডিও)
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:০৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে এবার ৫৩৯ বছরের পুরনো (মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ) একটি মসজিদের ওয়াকফ জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শহরের রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এই অভিযোগ করেন। এ সময় মসজিদ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদটি ওয়াকফ এস্টেটের সম্পূর্ণ নিজস্ব জমি দাবি করে মসজিদ সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই মসজিদটি শহরের কয়েক’শ বছরের পুরনো একটি মসজিদ হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত। এটি প্রায় ৫৩৯ বছরের পুরনো। কয়েক’শত বছর ধরে আমাদের পিতামহ মীর শরীয়ত উল্লাহ’র পূর্ব পুরুষ ও তার পরবর্তী বংশধররা খাদেমী সূত্রে এটি দেখভাল করছে। ১৯৩৫ সালে এই মসজিদ ও আশেপাশের মোট ৮২ শতাংশ জায়গা মরহুম মীর শরিয়ত উল্লাহ ওয়াক্ফ এস্টেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় এবং ব্রিটিশ পর্চা অনুযায়ী মোট ১৬ শতাংশ জমি পাকা মসজিদ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে (এস.এ) পর্চায় শরীয়ত উল্লার বংশধরদের মসজিদ নামেই লিপিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও আরএস পর্চাতে এই ৮২ শতাংশ জমি মসজিদ কমিটি ও এস্টেটের নামেই লিপিবদ্ধ হয়েছে। এক পর্যায়ে আমাদের ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গাটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেদের বলে দাবী করলে সেটি নিম্ন আদালতের রায়ে আমাদের পক্ষে চলে আসে। রেলওয়ে এই আয়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে উচ্চ আদালতেও আমাদের পক্ষেই রায় ঘোষিত হয়। তাই এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মীর শরিয়তউল্লাহ ওয়াক্ফ এস্টেট এর মোট ৮২ শতাংশ জমিটি পুরোটাই ওয়াকফ এস্টেটের নিজস্ব সম্পত্তি।
মেয়র আইভীর নির্দেশে জোরপূর্বক ওয়াক্ফ এস্টেটের নিজস্ব জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সাল থেকে এই সম্পত্তির উপর নজর দেন আইভী। তিনি আমাদের সাথে মৌখিকভাবে ওয়াকফ এস্টেটের জায়গাটি কখনও সিটি করপোরেশন আবার কখনো নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবী করেন, যা আমাদের রীতিমতো অবাক করেছে।
রিয়াজ উদ্দিন আরো জানান, মেয়রের নির্দেশে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে এই এস্টেটের স্থাপনা উচ্ছেদের সময় নিজস্ব সম্পত্তিতে অবৈধভাবে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চালিয়ে মসজিদের ১৬টি ঘরের মধ্যে ১১টি ঘরই ভেঙে ফেলা হয়। এর ফলে আমাদের মসজিদ পরিচালনায় বেগ পেতে হওয়ায় ২০১৮ সালে এর ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমরা মেয়র আইভীর কাছে একটি আবেদন করি। মেয়রের কাছ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাইনি।
ওয়াকফ এস্টেটটি মেয়র আইভীর কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করার দাবি জানিয়ে মসজিদের সেক্রেটারি আরো বলেন, আইভীর এমন অনৈতিক কর্মকান্ড চলমান অবস্থাতেই বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমাদের মীর শরিয়ত উল্লাহ ওয়াকফ এস্টেটের জায়গায় জেলা মডেল মসজিদ স্থাপনের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। তাঁদের ৪৩ শতাংশ জমির প্রয়োজন আছে বলে জানায়। আর এতে আমরা সম্মতিও প্রদান করি। কিন্তু আমাদের সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চুক্তি হওয়ার পরপরই বিষয়টি ভালোভাবে গ্রহণ করেনি মেয়র।
তিনি বলেন, জেলা মডেল মসজিদের টেন্ডার হওয়ার পরই তিনি অযাচিতভাবে গত ১২ জানুয়ারি মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর নিয়ে তার নিজের নামের একটি ‘নাম ফলক’ লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি আমাদের দেয়া ৪৩ শতাংশ জমির বাহিরের ৪০ শতাংশ জমিও তিনি গ্রাস করার পায়তারা শুরু করেন।
রিয়াজ উদ্দিন জানান, মেয়রের উদ্দেশ্য পুরো জায়গা দখল করে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভবন তৈরী করবেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই মীর শরীয়ত উল্লাহ এস্টেটের এক ইঞ্চি জায়গাও রেলওয়ে কিংবা সিটি করপোরেশনের নয়। অথচ মেয়র আইভী অনেকটা গায়ের জোরে আমাদের পুরনো মসজিদটি ভেঙে এস্টেটের জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। তাই আমরা নারায়ণগঞ্জ’র ৪র্থ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি এবং মহামান্য বিচারক পুরো বিষয়টি অনুধাবন করে সেখানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছেন। তাই আমরা সবাই মোঘল আমলে নির্মিত এই ইতিহাস ঐতিহ্যের বাহক মসজিদ তথা ওয়াকফ এস্টেটটি মেয়র আইভীর কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে আমাদের সাহায্য করুন।
উল্ল্যেখ যে, এর আগেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত জামে মসজিদ ভেঙে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ করে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের নেতারা সমাবেশ করে। যদিও মেয়রের বিরুদ্ধে করা সেই সমাবেশে যৌক্তিকতা নিয়ে এখন বহু প্রশ্ন রয়েছে সকলের মাঝে।


