লেখক মুশতাকের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বিভাগীয় তদন্ত দাবি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:২৪ পিএম
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, লেখক মুশতাকের মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও বিচার এবং শাহবাগে প্রতিবাদ মিছিলে হামলাকারী পুলিশের শাস্তি ও গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা।
রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ মানববন্ধন ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন।
নিখিল দাস বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত একটি কালো আইনের শিকার হয়ে বিনা বিচারে কারাগারে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন লেখক মুশতাক আহমেদ। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা করা নাগরিকদের কোন অপরাধ হতে পারে না। সরকারের সমালোচনা আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত করা এক হতে পারে না। দুটি ভিন্ন সত্ত্বা। সরকার দুটিকে এক করে ফেলেছে। ফলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কথা বলে নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকার হরণ করছে। যেটি সংবিধান পরিপন্থি কাজ। আদালতে ছয়বার জামিন চাইলেও তা নামঞ্জুর করা হয়। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে লেখক মুশতাককে হত্যা করা হয়। এর বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে। সরকারের অনিয়ম দুর্নীতি, লুটপাট, ভোটচুরি, গুম, খুন, দমনপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠরোধ করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, লেখক মুশতাকের হত্যাকা-ের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর বর্বরোচিত পুলিশি হামলা করা হয়েছে। এতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছিরউদ্দিন প্রিন্স, নারায়ণগঞ্জ জেলার অর্থ সম্পাদক মুন্নী সরদারসহ অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়। ৭ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করে জেলখানায় অন্তরীণ করা হয়। নেতৃবৃন্দ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান।


