Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

মশার যন্ত্রণা : কাউন্সিলরের দাবি ওষুধ নেই সিটি করপোরেশনে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২১, ১০:০৯ পিএম

মশার যন্ত্রণা : কাউন্সিলরের দাবি ওষুধ নেই সিটি করপোরেশনে
Swapno

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ড ভৌগলিক কারণেই শহরের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। বৃহত্তর দেওভোগের নন্দীপাড়া, উকিলপাড়া ও পানির ট্যাংকি এলাকার বিশাল এক অংশ নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড। যেখানে প্রায় ১ হাজার ৫’শ টির মতো বাড়িতে বসবাস করে ৩০ হাজারেও বেশি মানুষ। তবে সড়কে ময়লার স্তুপ, বর্ষার অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এবং রাতে অলি-গলির ছোট্ট সড়কে অপর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাসহ নানান কারণেই প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দাকে। আর অন্যদিকে জলাবদ্ধতা, ময়লার স্তুপ ও অলি-গলির আলোক স্বল্পতা ছাড়াও এখন, স্থানীয় বাসীন্দাদের মাঝে আরেক ভোগান্তির নাম মশার উপদ্রব! যা দিন দিন ভয়ের কারণ হয়ে উঠছে সকলের কাছে।


১৪ নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজনের দাবি, মশার উপদ্রোপ কমাতে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় কাউন্সিলরের আদেশে বিভিন্ন জায়গায় মশার ঔষধ দেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু তা শুধুই লোক দেখানো। এই ঔষধে কাজের কাজ কিছুই হয়না, বরং মশার উপদ্রব আরো বেড়ে যায়! অন্যদিকে, এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দাবি মশা কমাতে যেই ঔষধটি বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে বর্তমানে সেটি সিটি করপোরেশন সরবরাহ করতে পারছেনা। তবে সেটা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চলে আসবে। তখন মশার উপদ্রব অনেকটাই কমে যাবে।
দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার মোক্তার মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া কুলসুম বেগম (গৃহিনী) বলেন, “আজকে বহুদিন ধরেই আমাদের ঘড়ের সবাই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। আগে দেখতাম এলাকার প্রতিটি বাড়ীর ভীতরে ঢুকে বড় মেশিন দিয়ে মশার ঔষধ দেওয়া হত, কিন্তু এখন বাইরে থেকেই কোনরকম দিয়ে চলে যায়। এতে মশা কমেনা। আমরা দিনের বেলাতেও ঘড়ে বসতে পারিনা। মশার কয়েল জ্বালাতে হয়। আর রাত হলেও তো কথাই নেই। ছেলে-মেয়রা পড়বে তো দূরের কথা এক জায়গাতে এক মিনিটও বসতে পারেনা। মশা পারলে তাঁদের উড়িঁয়ে নিয়েই চলে যায়”!   


ভোগান্তির কথা উল্ল্যেখ করে দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার অন্য এক বাসিন্দা শাহ্ আব্দুল হালিম বলেন, “মশার ঔষধ যদি দিতেই হয় তাহলে ভালো ভাবেই দেওয়া উচিৎ। কিন্তু ইদানিং আমারা দেখেছি যে, সিটি করপোরেশন থেকে ফগার মেশিন দিয়ে মশার ঔষধ দিতে এলে মেইন রাস্তার মধ্যে কিছুক্ষণ সেটা ছিঁটিয়ে তাঁরা চলে যায়। এতে মশা একটুও কমে না। সিটি করপোরেশনের উচিৎ এসব এলাকার প্রতিটি অলি-গলির মধ্যে গিয়ে ভালো ভাবে মশার ঔষধ ছিঁটান। যাতে একটি বাড়িও বাদ না যায়। তবেই মশার আক্রমণ থেকে আমরা বাঁচতে পারবো”।


এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মশার জন্য আমাদের ১৪ নং ওয়ার্ডের প্রায় অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখন ভোগান্তিতে রয়েছে। রাতে বাসা বাড়িতে বাচ্চারা পড়তে বসতে পারছে না। দিনের বেলায়ও সকলকে মশার কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। যা সত্যি সত্যিই খুব কষ্টকর। তাই আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য এই ওয়ার্ডের বর্তমান জনপ্রতিনিধিকে বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

 


এদিকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, “আসলে গত দুই মাস যাবৎ আমাদের ১৪ নং ওয়ার্ডে সকাল সন্ধ্যা যেই তরল স্প্রে-টা ছিঁটান হয় সেটা বন্ধ রয়েছে। মূলত এই ঔষধটি সিটি করপোরেশনে নেই। মেয়র কি কারণে এটা বন্ধ রেখেছে সেটা আমার জানি না! তবে আমাদের ফগার মেশিনের মাধ্যমে যেই স্প্রে দেওয়া হয় সেটা প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ বার করে প্রতিটি এলাকায় দিচ্ছি। এতে মশার উপদ্রব কিছুটা কমেছে। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের তরল স্প্রে-টা চলে আসলে মশার যন্ত্রণা একেবারেই কমে যাবে। মূলত আমি আমার ওয়ার্ডের প্রতিটি জনগণের সেবাতে নিয়োজিত আছি। এটা আগামী সিটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে”। 
 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন