Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

কোন অনুশোচনায় শামীম ওসমান তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন :এড.মাসুম (ভিডিও)

Icon

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২১, ১১:১৩ পিএম

কোন অনুশোচনায় শামীম ওসমান তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন :এড.মাসুম (ভিডিও)
Swapno

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেছেন, আজকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধপরাধীদের বিচার হয়েছে। আমরা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলাম ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচারও আমরা পাব। কিন্তু নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তার শোক সভায় প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন, ওসমান পরিবারের সাথে আমি আছি, তার সাথে সাথেই ত্বকী হত্যার বিচারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। সবাই হাত গুটিয়ে ফেলল, ত্বকী হত্যার বিচার প্রধানমন্ত্রী’র নির্দেশ ছাড়া হবে না।


 
তিনি বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বিচারের নির্দেশ দেন বা না দেন, আমরা ত্বকী হত্যার বিচার আদায় করে ছাড়বো। সেই দিন বেশী দুরে নয়, আপনি বলবেন, র‌্যাব চার্জশীট দিবে, বিচার হবে, আসামীকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে, এই প্রত্যাশাই করি, এই স্বপ্নই দেখি।
 


শুক্রবার (৫ মার্চ) বিকেলে আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তনের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সমাবেশে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।


 
মাহবুবুর রহমান মাসুম আরো বলেন, যেদিন খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয় সেদিন তার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়, সে ভাল রোজাল্ট করে। কিন্তু আফসোস! প্রধানমন্ত্রী’র মন গলে না। প্রধানমন্ত্রী কঠিন মানুষ, শুধু তিনি সহজ হয়ে যান তার ভাই রাসেল বেলায়।


 
তিনি বলেন, আমরা প্রতিমাসে একবার করে এই নারায়ণগঞ্জবাসির সামনে এসে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ওয়াদা করি যতদিন পর্যন্ত ত্বকী হত্যার বিচার না হবে, আমরা রাজপথ ছাড়বো না। আজকে ত্বকী হত্যার আট বছর পূর্ণ হতে চলেছে। আইনের শাসনের এ দেশে গণতন্ত্রের এই দেশে আজকে ত্বকী হত্যার বিচার হয় না। সাগর রুনির হত্যার বিচার হয় না।


 
তিনি বলেন, এই আইনের শাসনের দেশে আইসিটির আইনে আটক মোশতাককে নির্মমভাবে মৃত্যুর শিকার হতে হয়েছে। আজকে নারায়ণগঞ্জের চঞ্চল হত্যার বিচার পাইনি, বুলু , মিঠুসহ অনেক হত্যার বিচার পাইনি। ত্বকীর হত্যার বিচারও আমরা পাই না। কেন পাচ্ছি না? সেই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই। সরকার প্রধান, র‌্যাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় তাদের কাছেও নেই।
 
কার কাছে উত্তর পাব প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা হতাশ হওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না। ইনশাহআল্লাহ, এই বাংলার মাটিতে এই নারায়ণগঞ্জের মাটিতে ত্বকী হত্যার বিচার হবে। যতদিন বিচার হবে না ততদিন আমরা এই রাজপথ ছাড়বো না। এই ওয়াদা করে আমরা রাজপথে নেমেছি, এই রাজপথ আমরা ছাড়বো না।


 
মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ত্বকী হত্যার নির্দেশ দাতা শামীম ওসমান। এই সন্ত্রাসী গডফাদার শামীম ওসমান এখন নাকি সারা রাত্র তাহাজ্জুদ নামাজই পড়ে। এখন নাকি ওনি সারাদিনে একশত দেড়শত রাকাত নফল নামাজ পড়েন। কিসের জন্য, কোন অনুশোচনায়? ত্বকীকে হত্যা করিয়েছেন, ত্বকী হত্যাকান্ডে আপনার পরিবারের সদস্যরা জড়িত। এ কথা কিন্তু আমরা বলিনি, বলতেও চাইনি। র‌্যাব ও তদন্তকারি কর্মকর্তারা বলেছে। এগারো জনের কিলিং মিশনে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছিল।
 


তিনি বলেন, র‌্যাব বলেছে আজমেরী ওসমান যুক্ত। র‌্যাব বলেছে রফিউর রাব্বির দোষ! সে ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কথা বলে, মেয়র নির্বাচনে প্রধান মূখ্য ভূমিকা রেখেছে, সেটাই রফিউর রাব্বির দোষ। র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি তখন কি কি কারণে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে তা সাংবাদিকদের ডেকে বলেছিল। র‌্যাব চার্জশীট জমা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল, আমরাও চার্জশীটের খসড়া কপি পেয়েছি।


 
তিনি আরো বলেন, আজকে নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেয়র যেখানেই উন্নয়ন কাজে হাত দিচ্ছেন সেখানেই শামীম ওসমানের শরীরে ফোঁসকা পড়ে যাচ্ছে। একটা মসজিদ করতে গেলেও ওর দোষ, একটা মন্দির করতে গেলেও ওর দোষ। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একে  (মেয়রকে) অপ্রিয় করার জন্য নানা-রকম কা- ঘটাচ্ছে।


 
তিনি বলেন, আজকে তারা (শামীম ওসমান) বিভিন্ন কাজে হেফাজতকে ব্যবহার করছে। এই হেফাজতকে দিয়েই তারা রফিউর রাব্বিকে ইসলাম থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করেছিল, আমরা তখন রুখে দাড়িয়েছিলাম। আমরা কোর্টে গিয়ে যাতে রফিউর রাব্বির জামিন আনতে না পারি সে জন্য তারা হেফাজত বাহিনীদের কাজে লগিয়েছিল। সেদিন সেটা তারা পারেনি।
 
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সময় এখনো আছে, আপনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন। সাত খুনের বিচার করছেন, আর ত্বকী হত্যার বিচারের কার্যক্রমটা বন্ধ করে রেখেছেন। এটা অন্যায়, এই অন্যায় সৃষ্টিকর্তা সহ্য করবে না। আপনি ত্বকী হত্যার বিচার শুরু করার নির্দেশ দিন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করুক, ওসমান পরিবার কি সুপরিকল্পিতভাবে ত্বকীকে হত্যা করেছে তা প্রমাণ হয়ে যাবে।

 

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, খেলাঘর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সিপিবি জেরা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায়, গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল সুজন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন