Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

হকারদের তাণ্ডবে স্তব্ধ শহর, আর্থিক ক্ষতিসহ আহত অনেকে!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২১, ০৯:১৬ পিএম

হকারদের তাণ্ডবে স্তব্ধ শহর, আর্থিক ক্ষতিসহ আহত অনেকে!
Swapno

চাষাঢ়ার বঙ্গবন্ধু সড়কে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই শহরকে অশান্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলো হকার নেতারা। গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় নগরীর সাধু পৌলের গীর্জার সামনে, রাস্তায় আগুন জ্বেলে শহরকে অশান্ত করার মৃদু বার্তাও দেয় হকাররা। এতে আধাঘন্টা বন্ধ থাকে যান-চলাচল। তবে মঙ্গলবার ৯ই মার্চ হকারদের করা, বিক্ষোভ পুরো শহরকে স্তব্ধ করে দেয়। সৃষ্টি হয় থমথমে পরিস্থিতির। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন, পথচারী ও পুলিশের উপড় অতর্কিত ভাবে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে রীতিমতো তান্ডব দেখায় হকাররা। ভেঙে ফেলে পুলিশের গাড়ি, প্রাইভেটকার, বিআরটিসি বাসসহ অসংখ্য গাড়ি। পাশাপাশি আগুন জ্বেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়, সড়কের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে। এ সময় হকারদের এমন হিংস্র আচরণে বেশ কয়েকজন পথচারী এবং সাংবাদিকের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। হয়েছে আর্থিক ক্ষতিও!

ভিডিও লিংক পেতে ক্লিক করুন
ভাঙচুর হওয়া বন্ধন পরিবহনের (রেজিঃ নং- ১৪২০)  চালক মো. হানিফ জানান, “১নং রেলগেইট এলাকার বাস টার্মিনাল থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। বঙ্গবন্ধু সড়কের নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে আসা মাত্রই বাসসহ আশপাশের অন্যান্য যানবাহনে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। কিন্তু পাশের সড়কে গাড়ি প্রবেশ করানোর পরও তারা ইটপাটকেল মারতে থাকে। বাসের জানালার গ্লাস ভেঙ্গে আমিসহ ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। এর মধ্যে ৬-৭জন রক্তাক্ত হয়েছে। আমিও রক্তাক্ত হয়েছি”।


আল্লাহর ভরসা পরিবহনের চালক মো. আবুল হোসেন জানান, “আমার গাড়িতেও ১৮-২০ জন যাত্রী ছিলো। আমি ও কন্ট্রাক্টর জামালসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। যাত্রীরা সবাই আতঙ্কে বাস থেকে নেমে দৌড়ে চলে যায়। বাসের সামনের গ্লাসসহ জানালার গ্লাস ভেঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। এখন এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে”?


অন্যদিকে, এ ঘটনা শুরুর আগেই বঙ্গবন্ধু সড়কের সমবায় সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান করা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকায় অবাক হয়েছেন পথচারীসহ সকলে। হকারদের দুঃসাহসে সৃষ্ট এমন পরিস্থিতির প্রত্যেক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, পুলিশ একটু আক্রমণাত্মক হলেই হকাররা থমকে যেত।


এ শহরে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে সায়মা রহমান নামে এক নারী বলেন, “আমি আমার ছোট মেয়ে তানিয়াকে নিয়ে মার্কেটে এসেছি কিছু কেনাটারা করতে। কিন্তু রিক্সা থেকে নেমে পানোরমা প্লাজার সামনে আসতেই দেখি দক্ষিণ দিক থেকে বৃষ্টির মতো ইট ছোঁড়া হচ্ছে। তাই আমি দ্রুত আমার মেয়েকে নিয়ে পাশের একটি মার্কেটে অবস্থান নেই। কিন্তু অবার করার বিষয় হচ্ছে রস্তার উত্তর দিকে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশদের আমি একটুও এগিয়ে আসতে দেখিনি। তাঁরা যদি একটু ধাওয়া দিত তাহলে যারা ঢিল ছুঁড়ছিলো তারা হয়তো পিছনে সরে যেতো। মূলত যেমনটা দেখলাম এতে মনে হল এই শহরের মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তাই নেই”!  
আর সন্ধ্যা ৭টায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের এবিষয়ে বলেন, “হকাররা শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় আগুন দিয়েছে, ইট-পাটকেল বিছিয়ে সড়কের যানচলাচল ব্যাহত করেছে। জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। যারা এ ধরণের কর্মকান্ড করেছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এভাবে রাস্তায় কারা অরাজকতা তৈরি করেছে আমরা সেটি খুঁটিয়ে দেখছি। যারা আহত হয়েছে তারা প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। শীঘ্রই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে”।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন