আগুনে জ্বলছিল সড়ক, হতবাক নারায়ণগঞ্জবাসী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২১, ০৯:৪০ পিএম
হকারদের আগ্রাসী ও মারমূখী ভূমিকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শহরের অন্যতম ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়ক। বঙ্গবন্ধু সড়কসহ শহরের আশেপাশের সড়কগুলোতে আগুন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের পরিবহনসহ সড়কের বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তারা সন্ত্রাসী ও মারমূখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) দুপুরের পর থেকে প্রথমে বঙ্গবন্ধু সড়কে বিক্ষোভ মিছিল দিয়ে শুরু করলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে বিকেল ও সন্ধ্যায় তারা গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড় থেকে চাষাঢ়া, মিশনপাড়া ও লিংক রোডের চাঁনমারি এলাকায় তাদের এই আগ্রাসী ভূমিকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলের পর পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী সড়কে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
বেশ কিছু দিন ধরেই মিছিল, বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সড়ক গরম রাখছিল হকাররা। এর মাঝে গত ৭ মার্চ রোববার প্রথমে বঙ্গবন্ধু সড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে তারা। এগুলো ছিল তাদের ওয়ার্ম আপ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা যেন গা গরমসহ মাঠ যাঁচাই করছিল। তাই মঙ্গলবার ৯ মার্চ তারা আরো কঠোর হয়ে গাড়ি ভাঙচুর, সড়কে অগ্নিকা-ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা দিয়ে আহত করার মাধ্যমে একটা আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরী করে।
এ সময় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় আগুন এবং রাস্তার উপর আস্ত ও আধলা ইট বিছিয়ে রাখায় কোন গাড়ি চলাচল করা সম্ভব হয়নি। তার উপর গাড়ি ভাঙচুর ও রাস্তার উপর ইট ভেঙ্গে টুকরো করে বেপরোয়াভাবে ঢিল ছুঁড়ে চলাচলরত পথচারীদের আতঙ্কিত করে তারা। রাস্তায় চলাচলরত মহিলা, পুরুষ ও শিশুসহ সকলে দৌঁড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে দেখা যায়।
হকারদের এমন বেপরোয়া আচরণে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম হকারদের এই ধরণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, হকারদের প্রশ্রয় দেয়াতেই তারা এখন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে না নেয়াতে আজকের এই অবস্থা। তাদের আরো বাড়তে দিলে নারায়ণগঞ্জের শান্তি বিঘিœত হবে এবং নারায়ণগঞ্জটাই হকারদের দখলে চলে যাবে। যারা এই শহরটাকে জিম্মি করে রাখে, তারাই এই কাজগুলো করতেছে, তারা নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে চায়। বিষয়টা পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনকে বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, আমি আশা করব এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন জেলা প্রশাসন আরো সিরিয়াস হবেন, নতুবা এই শহর অশান্ত হবে। তাদের একদিন বসতে দেয়া আরেকদিন বসতে না দেয়া এই চোর-পুলিশ খেলা না হলে আজকের বিষয়টা ঘটতো না। হকাররা সংখ্যায় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ, যাদের কোন কাজকর্ম নাই, তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা খেয়ে তাদের লোকজন দিয়ে সহযোগিতা করে শক্তিশালী করছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি প্রশাসনের আজকের অবস্থানের সমর্থন জানিয়ে বলেন, শহরের চাষাঢ়া থেকে মন্ডল পাড়া পুল পর্যন্ত এই এলাকায় আমরা কোন অবস্থাতেই হকার চাই না। এছাড়া তারা যেকোন জায়গায়ই বসতে পারে। তিনি বলেন হকাররা যেভাবে জিম্মি করে নিয়েছে সে বিষয়ে প্রশাসনকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন তাদের এখানে বসতেই হবে এধরণের গো ধরা কেন? নারায়ণগঞ্জের মানুষ চায় না তারা এখানে বসুক।
পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, এ ধরণের কর্মকান্ড যারা করেছে তাদের সকলকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। রাস্তায় কারা অরাজকতা তৈরি করেছে আমরা খুঁটিয়ে দেখছি। যারা আহত হয়েছে তারা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। শীঘ্রই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।


