সড়কে হকারদের তান্ডব: আটকের পর মুক্ত হাফিজুল, আসাদুল গ্রেফতার
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২১, ১১:০৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের তান্ডবের ঘটনায় হকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম ও জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস সাহা ও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি এমএ শাহীন ।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকেলে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ, যানবাহনে ভাঙচুর, পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তান্ডব চালায় হকাররা।
হকারদের এই তান্ডব চলে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত। পুরো শহরে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল থেকেই হকার নেতা আসাদুল ইসলামকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় তদবির করতে গেলে রাতে সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলামকেও আটক করে পুলিশ। ১ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, কয়েকটি বিষয়ে আমাকে সতর্ক করে আমাকে ছেড়েছে পুলিশ। আমি বাসায় যাচ্ছি।
এর আগে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমউল্লাহ সড়কের কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে হকাররা। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহা, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ জামান, পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। পুলিশ চাষাঢ়ার সাধু পৌলের গীর্জার সামনে এসে পৌছালে তাদের উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হকাররা। কয়েকটি যানবাহনেও ভাঙচুর চালায় তারা। পরে পুলিশের ধাওয়ায় স্থান ত্যাগ করেন তারা। পরে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে অবরোধ তুলে দেয় পুলিশ। পুলিশ যখন সাধু পৌলের গীর্জার সামনের আগুন নেভাচ্ছিল ঠিক তখন গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়ে আবারও অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ করে বিক্ষুব্দ হকাররা। এ সময় লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায় হকারদের। সেখানে গিয়েও আগুন নেভায় পুলিশ। পরিস্থিতি এক প্রকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে আবারও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পরে শহরের নবাব সলিমউল্লাহ সড়কসহ আরও কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে হকাররা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সাঁজোয়া যান, জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে। শহরজুড়ে টহলরত রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহা তাৎক্ষনিক এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, হকাররা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে। তাদের নিভৃত করতে গেলে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে কেউ গুরুতর আহত হননি। ঘটনাস্থল থেকে হকার নেতা আসাদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলার উর্ধ্বতন এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করেছে। বিক্ষোভরত হকারদের উপরে কোনো ধরনের লাঠিচার্জ করা হয়নি।
এদিকে রাতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি এমএ শাহীন বলেন, হকার নেতা আসাদুল ইসলামকে আটকের ঘটনা জানতে পেরে তাকে নিয়ে থানায় যান সিপিবির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। পরে সেখানে তাকে আটক করে পুলিশ। হাফিজুল ইসলাম বর্তমানে সদর মডেল থানার হাজতে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন এমএ শাহীন। ১ ঘন্টা আটকের পর ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাফিজুল ইসলাম।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ জামান, হকাররা শহরে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ, যানবাহনে ভাঙচুর, পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা করেছেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এসব অপরাধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান ওসি।


