ভবন উচ্চতায় সীমাবদ্ধে কৃষিজমির উপর চাপ পড়বে : বৈঠকে বক্তারা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৯ পিএম
‘নারায়ণগঞ্জ শহরের উন্নয়ন প্রেক্ষিত ড্যাপ ২০৩৫’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, ড্যাপ (ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান) এর নতুন পরিকল্পনায় ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ড্যাপ এসি রুমে বসে জনবিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা করেছে। নইলে নারায়ণগঞ্জের মতো শহরে তিন ও চার তলার বেশি উচ্চতার ভবন করা যাবে না এমন কোনো প্রস্তাব কোনো পরিকল্পনায় থাকতে পারে না।
তারা আরো বলেন, ভবন নির্মাণ তিন-চারতলায় সীমাবদ্ধ থাকলে কৃষিজমির উপর ভয়াবহ চাপ তৈরী করবে। এ ধরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষিজমি ব্যাপকভাবে কমে যাবে। তারচেয়ে বরং নগরীতে সু-উচ্চ ভবন তৈরীতে আরো উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন এবং এসব ভবন যাতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে তৈরী হয় সেদিকে তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তারা নারায়ণগঞ্জকে রাজউকের আওতায় না রেখে ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামের পৃথক সংস্থা করার দাবী জানান।
শনিবার (১৩ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জ রিয়েল এষ্টেট ডেভেলপার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে এ ধরণের মতামত প্রকাশ করেন বক্তারা।
বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এডভোকেট এ বি সিদ্দিক বলেন, ড্যাপ প্রণয়নের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসির সাথে যে আলোচনা করা হয়েছিলো সেখানে ভবনের উচ্চতা নিয়ে রাজউক কোনো প্রকারের আলোচনা করেনি। সেখানে আলোচনা হয়েছে কোথায় পার্ক হবে, কোথায় জলাশয় হবে এসব বিষয় নিয়ে। রাজউকের এ পরিকল্পনায় স্বচ্ছতার ব্যাপক অভাব রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেন, নারায়ণগঞ্জ শ্রমিকের শহর। সাড়াদেশ থেকে জীবিকার তাগিদে আসা লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারি এখানে বসবাস করেন। তাই এই শহরে আবাসন সংকট রয়েছে। সমস্যা সমাধানে এখানে আরো সু-উচ্চ ভবন দরকার। তবে ভবনগুলো যাতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে নির্মিত হয়, ভবন নির্মাণ ব্যায় যাতে কম করা যায়, মানুষ যাতে ভবন নির্মাণে কম সুদে ও সহজে ঋন পায় সে ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু এখানে রাজউক তার উল্টোটি করছে। রাজউকের এ সিদ্ধান্ত মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে।
নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু বলেন, এক ডিআইটি মার্কেট ছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরে রাজউক আর কোনো উন্নয়ন কাজ করেনি। বরং নারায়ণগঞ্জের ভূমি নিয়ে তারা ব্যবসা করেছে। অধিগ্রহণ করা জমি তারা উচ্চ মুল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে। এখন তারা একটি অবাস্তব, জনবিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই যে, ইচ্ছে করলেই কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া যাবে।
নারায়ণগঞ্জ রিয়েল এষ্টেট ডেভেলপার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা রাজধানীতে বসবাস করি না। রাজউক নারায়ণগঞ্জে কোনো দায়িত্বই পালন করে না। এমনকি তাদের কর্মকর্তাদের তিনদিনেও একদিন পাওয়া যায় না। তাই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা প্রয়োজন।
নগরীর চাষাড়ার লুৎফা টাওয়ারে অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে এ গোল টেবিল বৈঠকে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার সাঈদের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ রিয়েল এষ্টেট ডেভেলপার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি (ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট) হারুন অর রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি খন্দকার হাদিউল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান,
এসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার এস এম পাভেল, যুগ্ম সম্পাদক শাহাবুুদ্দিন তালুকদার, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির খোকন, টাইলস দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, প্রাসাদ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রমজান মোল্লা, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসির যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ হোসেন প্রমুখ।


