আমাদের মধ্যে অতি উৎসাহিত কিছু মানুষ আছে : মাও. আউয়াল
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৭ এএম
হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ‘আমাদের কলুশিত বানিয়ে সমাজের কাছে, মানুষের কাছে অনাস্থার দলে পরিনত করা তাদের টার্গেট। আজকে বিভিন্ন অবস্থা আমরা দেখছি, ওমুক স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, উমুক স্থানে আগুন। এ গুলো কারা করছে? এ ঘটনার মধ্যে ২ দল আছে। একটি হলো আমাদের বিরুদ্ধে যারা মাঠে কাজ করে। অন্যটি আমাদের মধ্যে অতি উৎসাহিত কিছু মানুষ। যারা আন্দোলন বুঝে না। আফসোস হলো, সেই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বুঝতে আমরা ভুল করছি। না বুঝার ফলে সেই ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে কওমী মদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মকান্ডের আত্ম সমালোচনা করে গতকাল ডিআইটি মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘অনেকে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদের কথায় চলবো না। আমাকে আল্লাহ বিবেক দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন। কোরআন হাদিস গবেশনা করার যতটুকু যোগ্যতা দিয়েছেন, আমি সেইটুকু গবেশনা করেই সামনে বাড়বো।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহ পার্কও বলেছেন, ইসলামে অনেক গুলো দল হবে। কিন্তু কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের উপরে থাকবে। সেই দলটাই আমি মনে করি কওমী অঙ্গণ। যেহেতু আমরা সহি এবং হকের উপরে আছি। তাই বাকি ৮-১০টা দল, বুঝে-শুনে, চিন্তা করে এই হকের উপর থাকা কওমী অঙ্গণকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।’ মাওলানা আব্দুল আউয়াল আরও বলেন, ‘আমাদের কোন দাবী যদি সরকার থেকে আদায় করতে হয়। তাহলে সেই দাবী আদায় করার বিভিন্ন পথ আমাদের সামনে ছিল। সেই ভাবে আমরা সরকারকে বাধ্য করতে পারতাম। আর না মানলেও আমাদের বুঝান, এই কারণে দাবী আমরা মানতে পারি নাই। গত রমজান মাসে যখন করোনার কারণে সব কিছু বন্ধ ছিল। তখনও কিন্তু সরকার আমাদের দাবীর ফলে হেফজখানা গুলো চালু করে দিয়েছিলেন। ঈদের পরেও আমাদের সাথে সর্ম্পক থাকার ফলে কওমী মাদ্রাসা গুলো চালু করে দিয়ে ছিলেন। কওমী অঙ্গণ থেকে সম্প্রতি এই সমস্ত ভাঙচুর করার ফলে দেশের মানুষের সম্পদ নষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রতি ক্ষোভ থেকে এখন আবার কওমী মাদ্রাসা গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা উসিলা মাত্র।’ কোরআন শরিফের ৩টি আয়াত উপস্থাপন করে মাওলানা আব্দুল আওয়াল শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ‘রাগ কমিয়ে মাদ্রাসা গুলো খুলে দেন। আর যারা অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনুন। সকলকে এক পাল্লায় নিয়ে এসে শাস্তি দিবেন। তাহলে এটা অবশ্যই জুলুম হবে।’ এসময় মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘অনেকে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদের কথায় চলবো না। আমাকে আল্লাহ বিবেক দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন। কোরআন হাদিস গবেশনা করার যতটুকু যোগ্যতা দিয়েছেন, আমি সেইটুকু গবেশনা করেই সামনে বাড়বো।’


