Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

রমজানেও থেমে নেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২১, ০৩:২৫ পিএম

রমজানেও থেমে নেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
Swapno

মুসলমানদের কাছে রমজান মাস হচ্ছে সংযমের মাস। বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় নিজেদের কিছুটা শুধরে নেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় অনুসারীরা নিজেদের পাপ মোচন এবং ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের উপর  মনযোগী হন এই মাসে। কিন্তু ক্রমাগত এই সংযমও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে উঠতি তরুণদের মাঝে। কিশোর গ্যাং কালচারে জড়িয়ে সমাজে যে বিষ তৈরী করেছে তার সংক্রমন রোজার মাসেও কমেনি।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর কিশোর গ্যাং সদস্যরা জড়িয়ে পরেছে নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে। মেয়েদের বিরক্ত করা থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, মাদক সেবন, অপহরণ, মারামারি, এমনকি হত্যাকান্ডের সাথেও রয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা। এলাকাভিত্তিক ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম বিক্রি করে কিংবা তাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় গ্যাং।

এদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা। প্রায়ই কিশোর গ্যাং-এর কবলে পড়ে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে অনেককেই। অনেকেই তাদের ভয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ কিংবা কথা বলতেও সাহস পান না। উঠতি বয়সি এ ‘মাস্তানদের’অত্যাচারে নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত অভিভাবকরা। অপরদিকে বয়সে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পেশাদার সন্ত্রাসী না হওয়ায় থানা পুলিশ কেইসেও কিছুটা সহানুভূতি থাকে সকলের। এই সুযোগে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে গ্যাং সদস্যরা।


সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ও সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোর গ্যাং এর তান্ডবের ঘটনা উঠে আসে গণমাধ্যমে। রোজার মাত্র ১০ দিনের ভেতর ২টি বড় ধরণের কিশোর গ্যাং এর তান্ডবের ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক সহ সাধারন মানুষরা। গত ১৯ এপ্রিল বন্দর উপজেলার ছালেহনগর এলাকায় লেজার লাইট জ্বালানোকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা সামসুল হাসানের ছেলে সহ তার ৪ বন্ধুকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠে ছালেহনগর এলাকার পাবেল ও তার অনুসারী কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত সেহেতাবের বাবা সামসুল হাসান বাদী হয়ে ওই রাতে বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আহতরা হচ্ছে শাহী জামে মসজিদ এলাকার যুবলীগ নেতা সামসুল হাসানের ছেলে কলেজ ছাত্র সেহেতাব (১৮), একই এলাকার কবির মিয়ার ছেলে সাগর (১৯), মাসুদ মিয়ার ছেলে জুম্মান (২০), পারভেজ মিয়ার ছেলে ওমর (২১)।


মামলা সূত্রে জানা যায়, বন্দর শাহী জামে মসজিদ এলাকার যুবলীগ নেতা সামসুল হাসানের ছোট ছেলে ফাহাদ (১০) নিজ বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় লেজার লাইট নিয়ে খেলা করছিল। হঠাৎ করে ওই লাইটের আলো ছালেনগর এলাকার পাশের বিল্ডিংয়ের পাবেলের রুমে গিয়ে জলে উঠে। এর ধারাবাহিকতায় তাৎক্ষনিক ছালেনগর এলাকার ওই বিল্ডিং থেকে পাবেল, ছালে নগর এলাকার রশিদ মিয়ার ছেলে মামুন, ফরহাদসহ ৫/৬ জন এসে শাহী মসজিদ যুবলীগ নেতা সামসুল হাসানের বাড়ির সামনে এসে ফাহাদের বড় ভাই সেহেতাবকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। সেহেতাবের বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে পাবেল ছালেনগর গিয়ে পুনরায় লাঠিসোটা রড, চাকু নিয়ে যুবলীগ নেতা সামসুল হাসানের ছেলে সেহেতাব, সাগর, জুম্মান, ওমরকে এলোপাথারী পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোক এগিয়ে আসলে হামলাকারী পাবেল বাহিনী পালিয়ে যায়।


এই ঘটনার ২ দিন পর ২২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় রাতেই ৩ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো, তোফাজ্জল হোসেন (২১), সায়েম (১৮) ও মানিক (১৯)। একই ঘটনায় আহত হন দেলোয়ার হোসেন দোলন (২৫),রিপন (২৩), আল-আমীন (২১) ও আরিফ (১৮)।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়কে কেন্দ্র করে এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের দ্বন্দ চলে আসছিলো। এ দ্বন্দের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোর গ্যাং লিডার রাইসুল ইসলাম সীমান্তের নেতৃত্বে ‘টেনশন গ্রুপের’ ১৫-২০ জনের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এসে অপর একটি গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা টেনশন গ্রুপের ৩ জনকে আটক করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। জানা যায়, টেনশন গ্রুপের লিডার রাইসুল ইসলাম সীমান্ত। সে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের ছেলে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগেও কিশোর গ্যাং এর হামলায় বন্দরে সাংবাদিক হত্যা ও সিদ্ধিরগঞ্জে এক প্রবাসী যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার নজির রয়েছে। এতসব ঘটনার পরেও কিশোর গ্যাং সদস্যরা এলাকাগুলোতে দাপিয়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন অপকর্মের পর কয়েকজন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও মূল হোতা এবং আশ্রয় প্রশ্রয় দাতারা থেকে যায় বাইরে। ফলে নিয়ন্ত্রণে আসেনা এসকল অপরাধ সমূহ। একই ভাবে অপরাধীরাও জামিনে বেরিয়ে পুনরায় ভুক্তভোগীদের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে কিশোর গ্যাং এর রাম রাজত্ব চলছে পাড়া মহল্লা গুলোতে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন