Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

অশ্রসিক্ত ‘বীর বাহাদুর’ খোরশেদ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৫ পিএম

অশ্রসিক্ত ‘বীর বাহাদুর’ খোরশেদ
Swapno

সারা বাংলাদেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে থেকেই করোনা মোকাবেলায় নেতৃত্ব দিয়ে দেশ ছাপিয়ে বিশ্বের গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছিলেন ‘বীর বাহাদুর’ খ্যাত নাসিক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ধর্ম-বর্ণ বিচার না করে করোনায় আক্রান্ত মৃতদেহ দাফন-সৎকারে গড়ে তোলেন টিম খোরশেদ। করোনা মোকাবেলায় নানাধরণের সেবা দিয়ে এককথায় দেশবাসীর অজস্র ভালবাসা কুড়িয়ে চলেছেন খোরশেদ।

 

কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের মধ্যে একটি খারাপ সংবাদ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্ত্রীকে নিয়ে ২৪ এপ্রিল রাত ৮টায় নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসেছেন তিনি। এক নারী খোরশেদকে বিয়ে করার জন্য নানাভাবে উত্ত্যক্ত করছে। সমস্যায় এপর্যন্ত গড়িয়েছে সাথে কাজী নিয়ে খোরশেদের বাড়িতেও চলে আসে। ওই নারীর বিড়ম্বনায় জীবন অতিষ্ট খোরশেদ পরিবারের। 


লাইভে খোরশেদ বলেন, সকলের ভালোবাসায় আমরা গোটা পরিবার সিক্ত হয়েছি, সম্মান পেয়েছি। আমি ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হয়েছি সেটি জানাবার জন্যই আমি ফেসবুক লাইভে এসেছি।  খোরশেদ বলেন, একজন মহিলার ব্যাপক ব্ল্যাক মেইলিং এর জন্য পুরো পরিবার যন্ত্রণায় ভুগছি। ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে, গতবছর আমি আর আমার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হবার পর অক্সিজেনের সংকটটি বুঝতে পারি। তখন থেকে ফ্রি অক্সিজেন দেয়া শুরু করি।

 

গণমাধ্যমে এক মহিলা সংবাদটি পেয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে জুনের শেষে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর করে। জুলাইয়ের শুরু থেকে ফেসবুকে এড. হয়ে আমার সাথে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা বলা শুরু করেন। কিছুদিন পর আমি তার মোটিভ বুঝতে পারি, এরপর থেকে তাকে এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করি। তখন থেকে প্রশাসনিকভাবে এবং দেশের উচ্চ পর্যায়ের বড় বড় ব্যক্তিদের পরিচয় দিয়ে হুমকি ধমকির মাধ্যমে কথা বলাবার জন্য বাধ্য করে। ওই নারীর তিন সন্তানের মধ্যে বড় দুই সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তার এক ছেলেকে তার মার ব্যাপারে জানাই। তখন তার ছেলেও আমাকে বলে এগুলো দুষ্টুমির ছলে বলে। এরপরেও যখন কোন কাজ না হওয়ায় ওই নারীর এক ভগ্নিপতিকে নভেম্বর ডিসেম্বর থেকে অভিযোগগুলো জানাই। এতে ওই নারী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।এবিষয়ে আমি আমার স্ত্রীকেও জানাই। যে ওই নারী আমাকে বাধ্য করছে তার সাথে নিয়মিত কথা বলতে, সম্পর্ক রাখতে।

 


খোরশেদ ১৯ মিনিটের ভিডিওতে বলেন, আমার স্ত্রীকে জানানোর পরও আমি হয়তো বিষয়টির গুরুত্ব ঠিকভাবে বুঝিয়ে বলতে পারিনি। ২১ জানুয়ারি ওই নারী কাজী নিয়ে আমার বাড়িতে এসে ওঠে। উদ্দেশ্য আমাকে নিয়ে গিয়ে আমাকে বিয়ে করবে। তখন আমার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন তাকে কাজীসহ গাড়িতে আটকায়। এবং বলে দেয় এগুলো কোনভাবেই সম্ভবনা। খোরশেদ বলেন, এরপর থেকে ওই নারী আমার জীবনটিকে বিষিয়ে তুলেছে। আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সকল জায়গায় ওই নারী যাচ্ছে,আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও গিয়েছে। কিন্তু কেউ ওই নারীকে উপেক্ষা করেছে। ওই নারী কখনো বলছে,তার বান্ধবীকে বিয়ে করেছি,কখনো বলছে তার ছোট বোনকে বিয়ে করেছি, কখনো বলছে তাকে বিয়ে করেছি। আমার সাথে তার ম্যাসেঞ্জারের কথোপকথোনের বিষয়টিকে সামনে এনে বিভ্রান্ত করে। সবাই যখন ওই নারীকে বিয়ের কাবিন দেখাতে বলে তখন ওই নারী ২৪ ঘন্টা ৪৮ ঘন্টা সময় নিয়ে এসে আর যোগাযোগ করেনা। খোরশেদ বলেন, সম্মানকে ভয় পাওয়ার কারণে ওই নারী ব্ল্যাক মেইলিং করে এতোদূর এসেছে। আমি ধৈর্য্য ধরেছি। দেশের মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসা, সম্মান দিয়েছে। তাই সমস্যাগুলো বলার চেষ্টা করছি। 


খোরশেদ লাইভে বলেন,  আমি লজ্জিত, ওই নারীর পাতা ফাঁদে পা দেয়ার জন্য। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ২১ জানুয়ারির পর থেকে  আমার স্ত্রী ও আমাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমাদের জীবন বিপর্যন্ত করে ফেলেছে। আমাকে হত্যা করার কথা বলেছে, আমাকে তাঁর স্বামী পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট করবে এমন হুমকি দিয়েছে। এগুলোর প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমার পরিবারের লোকজনকে বিরক্ত করছে। আমার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে, আমার ছেলে নকীবকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে। একের পর এক হুমকি দেয়ার কারণে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়ে রেখেছিলাম ফেব্রæয়ারি-মার্চ থেকে। নারীঘটিতবিষয় বলে আমি মুখ খুলিনি।


খোরশেদ বলেন, ওই নারীর অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। খবর বেড়িয়েছে, আমি দুই স্ত্রীর গ্যাড়াকলে আছি। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। আজ সবাইকে অবহিত করলাম। ফেসবুকে চ্যাটিং করলেই কি তাকে বিয়ে করতে হবে। আসলে ওই নারীর উদ্দেশ্যটা কি? এতোভাবে তাকে বুঝিয়ে বলার পর, এভোয়েড করার পর কেন তাকে বিয়ে করতে হবে।  আপাতত দুটি বিষয় পেয়েছি, সেটি হচ্ছে আমার ভাই সাব্বির আলম খন্দকারে মার্ডার কেসে তার এক ছোট ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।  সে আমাদের এজহারভুক্ত আসামী ছিলনা, কিন্তু পুলিশ তদন্তে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে। ওই সময় আমার কাছে তদবীরের জন্য আসলে আমি নাকি তাকে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

 

আরেকটি বিষয় , ওই নারী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের থেকে ডনচেম্বারে একটি জায়গা বরাদ্দ পেয়েছিলো কিন্তু রাজউকের সাথে মামলায় সিটি করপোরেশন মামলায় হেরে যাওয়ায় ওই জায়গার মালিককে জায়গা ফেরত দিয়েছে রাজউক। ওই জায়গাটি আমার ওয়ার্ডে হওয়ায় ওই নারীর ধারণা জায়গাটি ছুটে যাওয়ার পেছনে আমার হাত রয়েছে। কিন্তু আসলে এসব ব্যাপারে আমি জানিনা। 


খোরশেদ বলেন, ওই নারী চাকু ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের মতো করে আমার সাথে সম্পর্ক করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এখানে উদ্দেশ্য কি? এর উদ্দেশ্যর কারণটা জানতে চাই। ফেসবুকে কথা বলার কারণে এখন ওই নারীকে বিয়ে করতে হবে?  মানুষ কত সহ্য করতে পারে। ৬ মাস ধরে ওই নারীর অত্যাচারে আমার বাড়ি একটা মরা বাড়িতে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আমার বাচ্চাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয়, ওই নারীর সাতে তেল চোরদেরও একটা সখ্যতা রয়েছে।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন