নারায়ণগঞ্জ শহরে বাড়ি ভাড়ায় ধ্বস নেমেছে। বিশেষ করে সারা শহরের বহুতল ভবনগুলিতে অনেক ফ্ল্যাট মাসের পর মাস খালি পরে আছে। গত বছর করোনা সংক্রমন শুরু হওয়ার পর লকডাউন ঘোষণা করা হলে সেই যে অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে তার আর আগের মতো চাঙ্গা হয়নি। ফলে ওই সময় চাকুরী হারিয়ে বহু মানুষ গ্রামের বাড়ি ফিরে গেছে। তারা অনেকেই আর ফিরে আসেননি।
এরই মাঝে এবার আরো ভয়ানক ভাবে হানা দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। ফলে দেশে চলছে দিনে পর দিন লকডাউন। ফলে বন্ধ রয়েছে আন্তঃজেলা বাস চলাচল এবং ট্রেন চলাচল। বেশ কিছুদিন মার্কেট ও দোকান পাটও বন্ধ ছিলো। ফলে অর্থনীতিতে আরো ঝেকে বসেছে অর্থনৈতিক মন্দা। এতে কাজ হারিয়ে গ্রামে ফিরছে মানুষ।
সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোর এক জরিপে দেখা গেছে করোনায় দেশের প্রায় আটচল্লিশ শতাংশ পরিবারে কেউ না কেউ কাজ হারিয়েছে। তাই বহু মানুষ গ্রামে চলে যাওয়ায় খালি হয়ে গেছে অনেক বাসা বাড়ি। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফতুল্লা শিল্প এলাকার আসপাশের পাড়া মহল্লায় ঘুরে দেখা গেছে বাড়িতে বাড়িতে ঝুলছে টু-লেট। শহরের ইসদাইর, মাসদাইর, গাবতলী, বাংলাবাজার এবং কাশীপুর সহ আশপাশের এলাকায় গুরে দেখা গেছে বাড়ি বাড়িতে টু-লেট ঝুলছে।
এমনকি কোনো বাড়িতে তিন/চারটি করে ফ্লাট মাসের পর মাস খালি পড়ে আছে। কিন্তু বাড়িওয়ালাদেরকে গ্যাস বিল সহ বিভিন্ন খরচ মিটাতেই হচ্ছে। এ বিষয়ে পশ্চিম মাসদাইরের বাড়িওয়ালা জহিরুল ইসলাম বাবুল বলেন, তার বাড়িতে চারটি ফ্লাট গত তিন মাস ধরে খালি। এই চারটির মাঝে দুটি খালি হয়েছে আরো পাঁচ মাস আগে। তার বাড়িটি পাঁচ তলা। আটটি ফ্লাট তিনি ভাড়া দিচ্ছেন, একটি ফ্লাটে নিজে থাকছেন। মাসে মাসে গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে বিদ্যুতের নূন্যতম মিটার ভাড়া। আর বছর শেষে ইনকাম ট্যাক্সতো আছেই।
তিনি আরো জানান আগে, তিনি যে টাকায় ভাড়া দিতেন এখন তিনি তার চেয়ে কম টাকায় ভাড়া দিতে চাইছেন। তার বাড়িতে গার্মেন্ট সেক্টরের লোকজনই ভাড়া থাকতো। কিন্তু কিছুতেই ভাড়া হচ্ছে না। ফলে তিনি টেনশনে আছেন। একই রকম অবস্থা লক্ষ্য করা যায় আরো অনেক বাড়িতে। এক কথায় এক সময় যেখানে থাকার জন্য বাসা পাওয়া যেতো না সেখানে এখন অধিকাংশ বাড়িতেই টু-লেট ঝুলছে। ফলে অনেক বাড়িওয়ালাই এখন দিশেহারা হয়ে পরেছেন।


