Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শপিংমলগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২১, ০৭:২০ পিএম

শপিংমলগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
Swapno

নারায়ণগঞ্জে আবারও বেড়ে গেছে করোনা সংক্রমণ। গতকাল এক লাফে সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ এবং দুই জনের মৃত্যুর সংবাদও পাওয়া গেছে। অথচ একদিন আগে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণ কমতে ছিলো এবং সর্বশেষ গত ৩ মে সংক্রমন নেমে এসেছিলো ২৮ জনে। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে গতকাল সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে এবং মৃত্যু ঘটেছে ২ জনের। এর আগে গত এক সপ্তাহে কোনো মৃত্যুর সংবাদ ছিলো না। তাই হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের অফিস এবং সিটি করপোরেশনের ডাক্তাররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 


গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শেখ মোস্তফা আলীর সাথে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশেই করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমে এসেছিলো। কিন্তু এরই মাঝে গতকাল থেকে শনাক্ত বেড়ে যাওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের কেনাকাটা করার জন্য যেভাবে মানুষ মার্কেটে যাচ্ছে তাতে আবার সংক্রমণ বেড়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

 

ঈদের কেনাকাটায় সংক্রমণ বেড়ে কিনা এবং বেড়ে থাকলে কতোটা বেড়েছে সেটা বুঝা যাবে আরো কয়েকদিন পরে। তাই সবাইকে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান। তিনি বলেন, মার্কেটে গেলেও অবশ্যই সবাইকে ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে এবং সুযোগ পেলেই ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগেও ধারণা করা হয়েছিলো কোভিড সম্ভবত বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু পরে দেখা গেলো প্রথম ঢেউয়ের চেয়েও দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে আরো ভয়ানকভাবে। তাই দেশের অধিকাংশ মানুষ টিকা না নেয়া পর্যন্ত সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু মার্কেটগুলিতে গেলে দেখা যায় বিপুল মানুষের জটলা। তাই আবারও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুকি থেকেই যাচ্ছে।


এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের ফ্রেন্ডস মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেটগুলিতে ঘুরে দেখা গেছে মানুষের উপচে পরা ভিড়। বিশেষ করে ব্যাপকহারে নারীরা ঈদের কেনাকাটায় ব্যাস্ত। লক্ষ্য করে দেখা গেছে কেনাকাটা করতে আসা অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। যাদের মুখে মাস্ক আছে তারাও থুতনিতে মাস্ক ঝুলিয়ে রেখেছে। এছাড়া পায়ে পায়ে বারি খাচ্ছে মানুষ। তাই এই পরিবেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পরতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

 

নগরীর চাষাড়ার সমবায় সুপার মার্কেটের নন্দন ফ্যাশনের এক কর্মচারী জানান, রবি এবং সোমবার মার্কেটে আসা লোকজনদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। গত কয়েকদিন যাবৎ একটু বেশী চাপ পড়ছে, অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে কেনাকাটার জন্য এসেছেন। আবার অনেকেই জিনিসপত্র দেখে যাচ্ছে কিনছে না।
আরাফাত বস্ত্রালয়ের এক কর্মচারী জানান, আমরা যতটুকু পারছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতাদের দোকানের ভেতরে ঢোকাচ্ছি। কিন্তু অনেক সময় তা মেইনটেন করা হয়ে ওঠছে না। তিনি দোষ চাপান ক্রেতাদের ওপর।


এ বিষয়ে মার্কেটে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা এসেছেন নতুন জামা কিনতে। ঘুরে দেখছেন এবং পছন্দ হলে কিনছেন। করোনা ভীতি থাকলেও মার্কেটে এসেছেন তারা ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় কসমেটিক ও জুতো কিনছে। তাদের দাবি, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা মার্কেটে এসেছেন।


এদিকে নগরীর ফ্রেন্ডস মার্কেটে দেখা মেলেনি মার্কেট কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নজরদারি। সরকারের নির্দেশনা সেখানে উপেক্ষিত। আরো বেশ কিছু মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে নেই কোন পুলিশের উপস্থিতি। মার্কেট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঝেমধ্যে পুলিশ গাড়ী নিয়ে টহল দিতে আসে আবার চলে যায়।


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইমতিয়াজ বলেন, যত বেশী ভীড়, তত বেশী করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা। স্বাস্থ্যবিধির সরকারী যে নির্দেশনা তার মধ্যে একটা মাস্ক পড়া আর একটা ভীড় এড়িয়ে চলা। এই সংক্রমন কমাতে দুটোই মানতে হবে। যতটুকু সম্ভব সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই বজায় রেখে চলতে হবে।


নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা শপিংমল এবং অন্যান্য যে দোকান এসোসিয়েশন রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলেছি। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনেক মার্কেটে আমরা ভীড় লক্ষ্য করছি। প্রতিনিয়ত আমাদের মোবাইল কোর্টগুলো পরিচালিত হচ্ছে। যাতে নি¤œতম সামাজিক দূরত্বটাও মেনটেইন করা যায়। আমাদের যে কোভিড প্রটোকল আছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহার করা এগুলো যাতে নিশ্চিত করা যায় আমরা সেভাবেই কাজ করছি।


তিনি বলেন, এটা আমার নজরে ছিলো না, আমি পুলিশ সুপার সাহেবের সাথে কথা বলবো যাতে তাদের নজরদারী আরো বাড়ানো হয়।   


প্রসঙ্গত, পাশর্^বর্তী রাষ্ট্র ভারতে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ধুকঁছে গোটা ভারত। বাংলাদেশের তিন পাশেই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। যদিও সরকার সীমান্ত পথ বন্ধ করে রেখেছে। আর বাংলাদেশে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও অব্যাহত রয়েছে সংক্রমন ও মৃত্যু। গতকালও করোনায় ৬১ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই ঈদের কেনাকাটার কারণে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় বলা যায় না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন