Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

পলাতক কাউন্সিলর খোরশেদ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২১, ০৯:১৩ পিএম

পলাতক কাউন্সিলর খোরশেদ
Swapno

গ্রেফতার এড়াতে ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন করোনা বীর বাহাদুর উপাধী পাওয়া নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। গত ১৬ মে খোরশেদের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা সাইদা আক্তার শিউলী খোরশেদ ও তার সহযোগি মানবাধিকার কর্মী ফেরদৌস আক্তার রেহানা ওরফে রেহানা মুসকানের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খোরশেদকে প্রধান আসামী করা হয়।

 

তবে, ১৬ তারিখে মামলার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে খোরশেদ এবং অপর আসামী রেহানা মুসকান। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ‘বাড়িতে অভিযান চালিয়েও পাওয়া যায়নি খোরশেদকে ; গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছে খোরশেদ।’


এদিকে, প্রভাবশালী কাউন্সিলর হওয়ায় খোরশেদকে এখনো আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে মামলার বাদী পক্ষের একটি সূত্র।
তবে, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান, ‘পুলিশ আইনের গতিতে চলে। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আইনের যত রকম পন্থা আছে, সেগুলোর বিষয় সামনে রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আর অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
জানা গেছে, খোরশেদ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা সাইদা আক্তার শিউলী নামে এক নারী। গতমাসে হঠাৎ খোরশেদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে। এবং পক্ষে-বিপক্ষে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হওয়া খোরশেদ-শিউলী ঘটনাটি অবশেষে মামলা মোকাদ্দমায় গড়ালো।


ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে সাঈদা আক্তার ওরফে সায়েদা শিউলী নামক এক নারীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা কাহিনী সাজিয়ে কুৎসা রটানোর অভিযোগে কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ অপর এক নারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভুগী। তিনি ফতুল্লা থানার ৩২১ নং উত্তর চাষাড়ার মৃত মো. জহিরুল হকের মেয়ে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী সাঈদা শিউলি নারায়নগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সি,এনজি ওনার্স এসোসিয়ানের সভাপতি এবং গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও বিজেএমইর সদস্য। ব্যবসার কাজে প্রায় সময় তাকে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়। আসামী খোরশেদের সাথে তার পরিচয় ছেলেবেলা থেকে।

 

তার ইতিপূর্বে একটি বিবাহ হয়েছিলো। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। সে ঘরে সন্তান রয়েছে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে খোরশেদ শিউলির সাথে ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতো। এক পর্যায়ে খোরশেদ শিউলিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে শিউলির সম্মতি না থাকলেও নানা ভাবে শিউলিকে প্রলুব্ধ করে খোরশেদ। একপর্যায়ে ২০২০ সালের ২ আগস্ট কাঁচপুর এস.এস ফিলিং স্টেশনে কাউন্সিলর খোরশেদ নিজেই কাজী নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেন মোহরে তাঁকে বিয়ে করে। কিন্তু শর্ত থাকে, খোরশেদের পূর্ব স্ত্রী সন্তান থাকায় তা গোপন রাখতে হবে। বিয়ের পর শিউলি এবং খোরশেদ স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় বিভিন্ন স্থানে একসাথে রাত্রি যাপন করে।

 

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে, খোরশেদ শিউলির সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় শিউলি ব্যবসায়ীক কাজে দুবাই চলে গেলে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খোরশেদ তার ফেইসবুক লাইভে এসে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর, মানহানিমূলক তথ্য উপস্থাপন করে এবং নানা বাজে মন্তব্য করে কুৎসা রটায় এবং শিউলিকে অস্বীকার করে। এর একদিন পর ২৫ তারিখে মামলার দ্বিতীয় আসামী আরটিএন ফেরদৌস আক্তার রেহানা ওরফে রেহানা মুসকান নামক ওই নারী খোরশেদের বাসায় বসে লাইভে এসে শিউলির সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে। তাকে রাস্তার মেয়েদের সাথে তুলনা করে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে এবং তার চুল কেটে ফেলা হবে বলেও ফেইসবুক লাইভে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেশে এসে স্বামী খোরশেদ এবং তার সহযোগী রেহানা মুসকানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।


এদিকে, কাউন্সিলর খোরশেদের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলা দায়েরের পর খবর পেয়ে গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছে খোরশেদ। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন ভাবে তদবির চালাচ্ছে আলোচিত এই কাউন্সিলর। তবে, মামলা দায়েরর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে তিনি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন