Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

এখনো খাদ্য সহায়তা পায়নি পরিবারটি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২১, ০৬:২৪ পিএম

এখনো খাদ্য সহায়তা পায়নি পরিবারটি
Swapno

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ ফরিদ আহমেদ। ১৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে ও স্নাতক পড়–য়া মেয়েসহ স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। বৃদ্ধ বয়সেও নিজ কাঠে সংসারের ঘানি টানছেন তিনি। তা টানবেনই বা কেন! পরিবারে একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি যে তিনিই।

 

এক সময়ে স্থানীয় এক হোসিয়ারি কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করার পর দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয় ফরিদ আহমেদের। তাই এই বয়সে এসে এখন আর পূর্বের কাজ করতে পারেন না। ওই কারখানাতেই শ্রমিকদের উপর নজরদারি রাখা ও মালামাল ওঠা-নামানোর কাজের জন্য মাসে ৮ হাজার টাকা পান তিনি। তাতে কষ্টেসৃষ্টে চলছিল তার সংসার। তবে করোনাকালীন সময়ে পড়েন মহাসংকটে। একরকম নিরুপায় হয়েই জাতীয় কলসেন্টারের ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তার এক মানবিক আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ৩৩৩ তে কয়েক সেকেন্ডের সেই ফোনই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার গোটা পরিবারের জন্য। তিনি ৪ তলা বাড়ির মালিক- এমন তথ্যের জন্য তাকে সহায়তা দেয়নি উপজেলা প্রশাসন। উল্টো জরিমানা গুণতে হয়েছে তাকে।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরার নির্দেশে তাকে ১০০ জনের মাঝে চাল, আলু, ডাল, লবন ইত্যাদি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে হয়েছে। নিজের স্ত্রী-কন্যা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর গয়না বন্ধক দিয়ে ও ধার-দেনা করে বিতরণের জন্য এসব খাদ্যসামগ্রী কিনেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে চারিদিকে। ওই ঘটনায় ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সহায়তা চেয়ে শাস্তির মুখে পড়া বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত সেই ‘ক্ষতিপূরণ’ দিলো স্থানীয় ঢনাধ্য ব্যক্তি শহীনুর আলম।  

 

জরিমানাকৃত ত্রাণ বিতরণে বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন আহমেদের খরচ হয়েছিলো ৫৭ হাজার টাকা। সেখানে স্বপ্রণোদিত হয়ে শাহীনুর আলম ওই পরিবারটিকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তা নিয়েও আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র। কার ভর্তুকি কে দিলেন, তাই এখন আলোচ্য বিষয়।

এদিকে, এতো আলোচনা-সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন ওই পরিবারটিকে ক্ষতিপুরণ তো দিলই না, এমনকি এক প্যাকেট খাদ্য সহায়তায়ও দেয়া হয়নি সংকটে পড়া পরিবারটিকে। ফলে জেলা উপজেলা প্রশাসনের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

 

সচেতন মহল বলছেন, ‘প্রথমে হয়তো উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা ওই পরিবারের বিষয়ে ভুল তথ্য পেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু ওই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর যদি উপজেলা প্রশাসন থেকে সহায়তা প্রদান করা হতো, তাহলেও তা মানবিকতার সাক্ষর রাখতো। কিন্তু সেটাও করা হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহের কাছাকাছি সময় চলে আসলেও উপজেলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক প্যাকেট খাদ্য সহায়তা দেয়া হলো না পরিবারটিকে। জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দিলে প্রশাসন তথা সরকারের ভূমিকাই প্রসংশিত হতো। কিন্তু এই টুকুও করা হয়নি। যা আলোচনার দাবি রাখে।’

 

এদিকে, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরিফা জহুরা বলেন, ‘একজন লোকাল মানুষ ওই পরিবারটিকে হেল্প করতে চেয়েছে। আমি তাকে সেই সুযোগ দিয়েছি। এটা চ্যারিটেবল ফান্ড থেকেই দেয়া হয়েছে। আর বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিনের এক ছেলে প্রতিবন্ধী। তাকে সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয়া হবে। আরো কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা সেটা করবো।’

তবে, এই কথা এখনো বক্তব্যতেই সীমাবদ্ধ রয়েগেলো। বাস্তবতায় এখনো ওই পরিবারটিকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়নি।

 

জানা গেছে, আলোচিত ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজের জন্য আরও সাতদিনের সময় চেয়েছে। আজ সময় বৃদ্ধির বিষয়ে অনুমতি দেবেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ দৈনিক যুগের চিন্তাকে এই তথ্য জানান।   

গতকাল বুধবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিলো জেলা প্রশাসনের গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির। তবে, তদন্ত কাজে আরো সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে গতকাল জেলা প্রশাসকের কাছে আরো সাতদিনের সময় চেয়েছে তদন্ত কমিটি।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা জানতে গত ২৩ মে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারীকে প্রধান করে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও সহকারী কমিশনার কামরুল হাসান মারুফ’কে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ (গতকাল) বুধবার তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। তবে, তদন্ত কমিটি আরো ৭ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছে। আজ (গতকাল) সরকারি ছুটি থাকায় এই বিষয়ে কোন নির্দেশনা এখনো দেয়া হয়নি। আগামী কাল (আজ) তাদের অনুমতি দেয়া হবে। সঠিক ভাবে যেন তদন্ত করা হয়, সেজন্য তাদের তদন্ত কাজের জন্য সময় বাড়িয়ে দেয়া হবে।’   

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন