নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়ে এই মুহুর্তে কি ভাবছেন নারায়ণগঞ্জের জনগণ? নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা আর আইভীর বিকল্প অন্য কিছু ভাবতেই পারছেন না। শহরের ডন চেম্বার এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আইভী টানা আঠারো বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন বলেই এই সিটি করপোরেশন এলাকার এতো উন্নয়ন হয়েছে।
তাই আমি মনে করি আরো অন্তত দশ বছর তার এই সিটি করপোরেশন এলাকার মেয়র থাকা উচিৎ। তাহলে তিনি যে সকল মেঘা প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছেন সেগুলো সুন্দর ভাবে শেষ হবে। এবং আরো নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। তিনি আরো বলেন, কোনো একদিন যদি আইভী চলে যান তাহলে নারায়ণগঞ্জবাসী বুঝবে তারা কাকে হারিয়েছেন। এমন সৎ এবং কর্মঠ জনপ্রতিনিধি আর নারায়ণগঞ্জবাসী পাবে কিনা তাতে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে।
এদিকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিতাইগঞ্জের আলমাস হোসেন।
তিনি আরো বলেন, আমরাতো মনে করে মেয়র আইভী যতোদিন বেঁচে থাকবেন ততোদিন তিনি এই সিটি করপোরেশনবাসীর সেবা করবেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন চালাতে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। আইভী নারায়ণগঞ্জকে ঢেলে সাজাতে যে সকল দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হতে নিয়েছেন সেগুলো শেষ করতে আরো সময়ের প্রয়োজন। এমনিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তাঘাট এবং ড্রেন ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণসহ বহু কাজ করেছেন তিনি। তাই আমরা চাই তিনি যতোদিন বেঁচে থাকবেন ততোদিন যে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সেবা দিয়ে যান। কারণ এখানে তার মতো মেধাবী, সৎ আর কর্ম পাগল মেয়রের কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে অনেকে মনে করেন আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নটাই হলো মূল চ্যালেঞ্জ। মেয়র আইভীই আবারও পাচ্ছেন এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। খবর পাওয়া গেছে যতো যাই করা হোক না কেনো মেয়র আইভীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে কোনো দ্বিধাদ্ব›দ্ব নেই। মেয়রকে খুবই ভালোবাসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়রের ব্যাপারে যে সকল তথ্য রয়েছে তার সবই ইতিবাঁচক বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিশেষ করে গোয়েন্দা রিপোর্টগুলি সবই রয়েছে মেয়রের পক্ষে।
এছাড়া সূত্র আরো জানায় মেয়রকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো গর্ব করেন। এর কারন আইভীর সততা। কর্ম পাগল আইভী সম্পর্কে সবই জানেন প্রধানমন্ত্রী। তাই যে যাই বলুক কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি আইভীকেই আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণের প্রস্ততি নেয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন সূত্র। তাই আইভীর বিরুদ্ধে যে যাই বলুক না কেনো তিনিই যে পাচ্ছেন আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই।
এদিকে এ বিষয়ে মেয়র আইভী বলেছেন মনোনয়নের মালিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচন করবেন। আমাকে দিলে আমি করবো আর অন্য কাউকে দিলে তিনি করবেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব কিছুই জানেন। তিনি সব খবরই রাখেন। তাই এখানে কারা কি ষড়যন্ত্র করলো তাতে কিছুই আসে যায় না। তিনি যথাসময়ে সঠিক লোককেই মনোনয়ন দেবেন আর সেই মনোনয়ন আমিই পাবো ইনশাআল্লাহ। আর যদি কোনো কারণে তিনি দলীয় মনোনয়ন না দেন তাহলে নির্বাচনই করবো না। একবার শামীম ওসমানের সাথে আর দুই বার বিএনপির প্রার্থীদের সাথে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছি। তাই দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করবো, না দিলে করবো না। তবে আশা করি প্রথানমন্ত্রী আমাকেই দেবেন মনোনয়ন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা মনে করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটে হারানো যাবে না মেয়র আইভীকে। তাকে যতোবার মনোনয়ন দেয়া হবে তিনি ততোবারই জয়ী হবেন। এমন কি নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে তিনি যে মার্কা নিয়েই নির্বাচন করেন না কেনো তিনিই জয়ী হবেন। তাই অনেকে মনে করেন আর যাই হোক মেয়র আইভীকে ভোটে হারানো যাবে না। তাই আগামী নির্বাচনে সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটা বলা যায় না।


