Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শত কোটি টাকার নগরভবন নির্মাণের কাজ শেষ আগস্টে 

Icon

মাহফুজ সিহান

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২১, ০৮:১৯ পিএম

শত কোটি টাকার নগরভবন নির্মাণের কাজ শেষ আগস্টে 
Swapno

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও নগরভবনটি ছিল সেই পুরোনো আমলের। জায়গা সংকীর্ণ এবং ভবনটি জরাজীর্ন থাকায় সেবা পেতে বেগ পেতে হতো সেবাগ্রহীতাদের। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচঁছে শীঘ্রই। চলতি বছরের আগস্টেই শেষ হতে যাচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যায়ে ১০ তলা বিশিষ্ট নগরভবন নির্মাণের কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ এন্ড আব্দুল মতিন লিমিটেড (জেভি) ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন।

 

তিনি বলেন, এই প্রজেক্টের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, চলতি বছরের আগস্টেই নগর ভবনের কাজ পুরোপুরিভাবে শেষ হবে।  প্রকল্প সংশিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রজেক্টের কাজটি সমাপ্ত হলে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অফিসভবন নির্মিত হবে, সম্প্রসারিত কর্মস্থল তৈরি হবে, নাগরিকের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সিটি করপোরেশনকে একিট উত্তম সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। 

 


প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যমতে, নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য বর্তমান নগরভবনটিতে পর্যাপ্ত কর্মস্থলের ব্যবস্থা না থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং দিনদিন নাগরিক সেবার উৎস ও মান বৃদ্ধি পাওয়ার দরুণ এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এসমস্যা  হতে উত্তরণের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০১৫ সালে নিজস্ব ও সরকারি অর্থায়নে ১০তলা ভীত বিশিষ্ট নগর ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। স্বনামধন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লি. নগর ভাবনের ড্রয়িং-ডিজাইন প্রণয়ণ করা হয়েছে। ভবনের প্রথম তলা হতে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ১৪ হাজার ৭২০ বর্গফুট। ষষ্ঠ হতে ১০মত তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট।

 

ভবনটি নির্মাণে খরচ হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ৮৪ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল হতে কাজটি শুরু করা হয় এবং ৩টি পর্যায়ে সর্বমোট ৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। পরবর্তীতে সরকারেরর সহযোগিতায় আরও ২৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। পরিশেষে নিজস্ব হবিল হতে ইন্টেরিয়র ফার্নিশিং ও ফার্ণিচার সরবরাহের জন্য মোট ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার দরপত্র আহবান করা হয়।

 


প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যানুসারে, সিটি করপোরেশনের নবনির্মিত এই ভবনের লেভেল ১ এ থাকবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার (তথ্য কেন্দ্র), কার পার্কিং, অডিটোরিয়াম (দক্ষিণ অংশে) যার আসন সংখ্যা থাকছে ৬৬০টি।  এই লেভেলে থাকবে জেনারেটর রুম।  লেভেল দুই এ থাকবে, ফুড এন্ড স্যানিটেশন অফিসার, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধীকরণ, টিকাদান করা, এটিএম বুথ। লেভেল তিন এ থাকবে রাজস্ব/কর আদায় শাখা, ক্যাফেটেরিয়া এবং ঝুলন্ত চালবাগান। লেভেল ফোর এ থাকছে নগর জাদুঘর, যেটিতে স্থান পাবে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প/সংস্কৃতি, এিৈতহাসিক ব্যক্তিত্ব, নৌ-বন্দর, ডকইয়ার্ড ইত্যাদির ছবি।

 

লেভেল পাঁচ এ থাকবে, মাননীয় মেয়র মহোদয়ের দপ্তর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর, সচিবে দপ্তর এবং ভিআইপি লাউঞ্জ। লেভেল ছয় এ থাকবে হিসাব বিভাগ,পরিবহন শাখা,পরিচ্ছন্ন শাখা, লাইসেন্স শাখা, বাজার শাখা, কাউন্সিলর লাউন্স। লেভেল সাত এই থাকবে স্বাস্থ্যবিভাগ, সম্পত্তি বিভাগ, আইন শাখা, সমাজকল্যাণ ও বস্তিউন্নয়ন শাখা এবং নামাজের স্থান। লেভেল ৮ এ থাকবে প্রকৌশল বিভাগ, নগর পরিকল্পনা শাখা, সার্ভার রুম, সভাকক্ষ।  লেভেল নয় এ থাকবে ৩টি মাল্টিপারপাস হল এবং লেভেল ১০ এ থাকবে গেস্ট রুম। 

 


প্রকল্প সংশ্লিষ্টররা জানান, এই প্রজেক্টে চারটি পর্যায়ে সর্বমোট ৭৯ কোটি ৬ লাখ ৬৭ হাজার ১৪০টাকা ব্যয় হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে (২০১৫) প্রায় ১২ কোটি, দ্বিতীয় পর্যায়ে (২০১৬) প্রায় ২০ কোটি, তৃতীয় পর্যায়ে (২০২০) প্রায় ১৭ কোটি এবং চতুর্থ পর্যায়ে (২০২০) প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ইন্টিরিয়র ফার্নিশিং এবং ফার্নিচার ক্রয় বাবদ প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন