শহরের কালিবাজার কুমুদিনী সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ অফিস ঈশা খাঁ সড়ক থেকে পুলিশ লাইন, চাষাড়া রাইফেল ক্লাব ছিনতাইকারীদের অভায়রণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন মানুষ তাদের শিকারে পরিণত হচ্ছে। লুটে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের টাকা স্বর্ণালঙ্কার মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী। অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা না হওয়ার কারণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীচক্র। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্পট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই চক্র। ফলে ছিনতাই এখন নিত্য দিনের ঘটনা।
ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া তৎপররতার কারনে অনেকটা নিরুপায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত নাট্য কর্মীজোটের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. শাহজাহান। ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তার সর্বস্ব নিয়ে গেছে ছিনতাইকারী। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের কালিবাজার কুমুদিনী সংলগ্ন বিআইডাবিøউ অফিস এর সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, মো.শাহজাহান ও তার বন্ধু সোহেল ওইদিন সকালে অটোরিক্সা যোগে ৫নং মাছঘাট যাচ্ছিলেন কালিবাজার কুমুদিনী সংলগ্ন বিআইডাবিøউ অফিস এর সামনে তাদের অটোরিক্সা গেলে ছিনতাইকারীরা অটোরিক্সার গতি রোধ করে। দুই ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্রদিয়ে শাহজাহান ও তার সহযোগীকে জিম্মি করে ফেলে। পরবর্তিতে তাদের সঙ্গে থাকা পনের হাজার টাকা ও দামী তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে মেট্রোহলের দিকে চলে যায়। এমন ঘটনার শিকার শুধু শাহজাহানই নয় অনেকেই শিকার হচ্ছেন এদের কবলে। শহরের ২নং রেলগেট, উকিলপাড়া মোড়, চাষাড়া, কালির বাজার, আমলাপাড়া পান্ডবআলী মার্কেটের মোড় ছিনতাইকারীদের অভারণ্য। প্রতিদিন প্রকাশ্যে দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
গতবছর এই সড়কেই মেয়ে তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পরে। ছিনতাইকারীরা অসুস্থ বাবাকে ছুরিকাত করে চিকিৎসার জন্য আনা অর্থ নিয়ে যায়। শহরের খানপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় তারা। ওই ব্যবসায়ী ওই সময় টাকা নিয়ে চাষাঢ়া থেকে পাগলা যাচ্ছিলেন। চাষাঢ়া থেকে বাড়ি ফেরার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন আদমজীর মো. মোতালেব মিয়া। তার মোবাইলফোন নিয়ে যায় তারা।
এছাড়া এমন অভিযোগের শেষ নেই। খানপুর হাসপাতাল রোড এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী মানিক মিয়া সে বাসায় যাওয়ার সময় অক্টো অফিসের সামনে তার রিক্সার গতিরোধ করে ছিনতাইকারী চক্র। এসময় মানিক মিয়াকে আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যেমে জিম্মিকরে ফেলে ছিনতাইকারীরা। তার সাথে থাকা নগদ অর্থসহ মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় তারা। লোহার মার্কেট, অক্টো অফিস, তোলারাম কলেজ এর মোড়, মহিলা কলেজ সংলগ্ন সিএনজি স্টান্ড, রাইফেল ক্লাব সংলগ্ন এখন ছিনতাইকারীদের হটস্পট।
এদিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলা করে না ভোক্তভোগীরা। আবার কেউ কেউ মামলা করলেও পাননি কোন প্রতিকার। আবার অনেকে পুলিশী হয়রানীর কারণে এ বিষয়গুলি চেপে যান। এতে করে অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনা গুলো রয়ে যায় অজানা। ফলে পোয়াবারো ছিনতাইচক্রের। কারণ ছিনতাই হলেও থানায় মামলা হচ্ছে না। আবার মামলা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর না।
জেলায় আশংকাজনকহারে ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। নিরাপদে ব্যাংকে লেনদেন করতে পারছে না গ্রাহকরা। বিকাশ-ফেক্সিলোড এজেন্ট সহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তাদের টাকা লেনদেন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মকর্তারা টাকা লেনদেন করায় ছিনতাইকারীচক্রের এখন টার্গেট তারা। এক্ষেত্রে বাধাঁ দিলেই ছিনতাইকারী ব্যবহার করছে চাকু ও আগ্নেয়াস্ত্র। এতে জান-মাল দুটিই যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে এটা ভয়াবহ রূপ নিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিনতাইকারীচক্র ধরতে তেমন একটা তৎপর না। এতে নিরুপায় হয়ে পরেছে জেলার সাধারণ মানুষ।


