Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই খালি কুমুদিনী বাগান

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২১, ১০:৩০ পিএম

বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই খালি কুমুদিনী বাগান
Swapno

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের  বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই খালি শহরের উত্তর ও দক্ষিণ কুমুদিনী বাগান। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার আগেই বসবাসকৃত সাত’শ পরিবার তাদের ঘর- দুয়ারসহ মালামাল সরিয়ে অন্যত্থায় চলে গেছেন। কয়েকটি পরিবার ঘর ভাড়া পাইনি বলে এখনও রয়েছে গেছেন। তবে তারাও কয়েকদিনের মধ্যে চলে যাবে বলে জানাগেছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের দক্ষিণ ও উত্তর কুমুদিনী বাগানের বসবাসকৃত শ্রমিকেরা তাদের ঘর- দুয়ার  মালামাল খুলে অন্যত্থায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ বা ভ্যান আবার কেউ মিনি ট্রাক ভাড়া করে ভাড়া বাসার গন্তব্যে ছুটছে। আবার অনেকই বাগানের পাশে মালামাল খুলে বসে আছে। দীর্ঘ যুগের পর যুগ ধরে বসবাসের যে মায়া তা যেনো ছেড়ে যেতে পারছে না মন। যাওয়ার সময় যেনো বার বার ফিরে দেখে বসবারের শেষ ঠিকানাকে। দীর্ঘ দিন ধরে তিলে তিলে গড়ে তুলা ঘর-বাড়ি আসবারপত্র  কিছু যেনো রেখে যাচ্ছে না তারা। ঘরের টিনসহ বাঁশের পাল্লা এমনকি ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাইতাছে।

 

বসবাসকৃত ছেড়ে যাওয়া শ্রমিক পরিবার গুলো সাথে আলাপকালে তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনের সাংসদ আমাদেরকে ডিসি অফিসে ডেকে বলেছেন যেনো ২৫ জুনের মধ্যে আমরা  কুমুদিনী বাগান খালি করে দিতে। তিনি তো এমপি সাহেবে তার মুখের উপর কথা বলার তো সাহস কারও নাই। তিরি তো আমাদের গরীবের জন্য কিছুই করলেন না। আমরা কোথায় যাবো, কোথায় থাকব। এতো গুলো পরিবার দীর্ঘ যুগের পর যুগ বসবাস করলেও আমরা এখন মূল্যহীন। অর্থচ এই আমরাই ব্রিটিশ আমলে আমাদেরকে পাকিস্তান ও ইন্ডিয়া থেকে  এনে কাজ করানো হয়েছে। আর তখন থাকার জন্য দেওয়া হয়েিেছলো এই জায়গা। দীর্ঘ যুগের পর যুগ ধরে আছি আমাদের জন্য তো পূর্নবাসনের ব্যবস্থা তা তো করবে। আমাদেরকে পুর্নবাসনের জন্য দাবিও জানাইছি। কিন্তু কুমুদিনী কোম্পানী তা করেনি। কুমুদিনী কোম্পানী আমাদের সাথে বেইমানী করছে। আজকে এই সকল অসহায় মানুষ গুলো কোথায় যাবে। তারা চাইলে আমাদেরকে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে পারতেন। কিন্তু তারা করেনি । আল্লাহ্ আমাদের এইটা ব্যবস্থা অবশ্যই করে দিবে।। রোহিঙ্গারা যদি এদেশে আশ্রয় পায় এবং তাদেরকে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আমাদেরকে কেনা করা হবে না।

 

তারা আর বলেন, নিজেদের বাড়ি-ঘরের মতো করে থাকতাছি। স্বপ্নেও চিন্তা করেনি যে আমাদেরকে এই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের তিন পুরুষ ধরে আমরা এখানে বসবান করে আসছি। আমাদেকে লাঞ্চিত করে এখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা যেতে চাইনি বলে আমাদেরকে মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হয়। কারন আমরা তিন পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। আমাদের উঠাতে হলে অবশ্যই পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করেই উঠাবে। আমাদের শ্রমিকদের কারনেই আজকের এই কুমুদিনী। সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকে আমরা এই কুমুদিনীতে শ্রম দিয়ে কাজ করে তীলে তীলে আজকে এতো বড় কোম্পানী। আমাদের পূর্ব পুরুষরা যদি সেই সময়ে না আস্তো তাহলে আজকে কুমুদিনী হতো না। হাসপাতাল বানাবে ভাল কথা তা আমরাও চাই । তাই বলে এই ভাবে গরীবকে লাথিমেরে বের করে দিয়ে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো। আমাদের যেনো পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের তিন পুরুষ তো এই কুমুদিনী কাজ করেছিলো। এখন আমাদের শেষ ভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ।

 

এদিকে উত্তর কুমুদিনী বাগানের বসবাসকৃত শ্রমিকেরা তাদের ঘর- দুয়ার  মালামাল খুলে অন্যত্থায় সরাচ্ছে। আর কুমুদিনী কোম্পানী রাস্তার পাশের পুরনো  নতুন করে আবার দেয়ার নির্মাণ করছে। পুরনা দেয়াল ভেঙ্গে নতুন করে বেইছ করে নতুন দেয়াল নির্মিণের জন্য গর্ত করা হয়েছে। এবিষয়ে খানপুর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বেঙ্গল বিডি লিমিটেড পরিচালক মিসেস শ্রীমতি সাহার (পিএস) ইকবাল হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, সেলিম ওসমান এমপি সাহেব তাদেরকে বলেছেন ২৫ জুনের মধ্যে চলে যেতে। বেশীরভাগই শ্রমিক পরিবার গুলো চলে গেছে। যারা চলে গেছে তাদের সবাইকে তিন হাজার করে মালামাল সরানো বাবত দেওয়া হয়েছে। আর উত্তর কুমুদিনী বাগানের রাস্তার পাশে থাকা পুরনো দেয়াল ভেঙ্গে নতুন দেয়াল নির্মাণ করছে কতৃপক্ষ। ঔই দেয়ালটি বহু পুরনো তাই সেটি আগেই করা হচ্ছে।

 


প্রসঙ্গত, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বেঙ্গল বিডি লিমিটেড পাট কারখানার পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান তিনশ’ বিহারি শ্রমিক পরিবার বাস করেন উত্তর ও দক্ষিণ কুমুদিনী বাগানে। আরও তিনশ মতো বাঙ্গালি পরিবারও থাকে এই বাগানে। নারায়ণগঞ্জে কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স এন্ড ক্যান্সার রিসার্চ (কেআইআইএমএস কেয়ার) স্থাপন করা হবে। গত ১৪ ফেব্রæয়ারি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এইপ্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের আওতাধীন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের জন্য ঈশা খাঁ সড়কের নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের পাশের উত্তর কুমুুদিনী বাগানের জায়গা নেওয়া হবে। এজন্য এই বাগানে বসবাসরত শ্রমিকদের ঘর ছাড়তে হবে।

 

তবে  শ্রমিকদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন জুট প্রেসে (পাট কারখানা) কাজ করা শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনাদি পরিশোধের। অন্যথায় পুনর্বাসন দাবি করেছিলেন তারা। শ্রমিকদের দাবি থাকলেও মালিকপক্ষ তা দিতে নারাজ। গত ৮ জুন জেলা  প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে ঘর ছেড়ে দিলে মালামাল আনা-নেওয়া বাবদ ৩ হাজার টাকা  প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই শর্তে ঘর ছেড়ে দিতে হবে। এরপর গত ১২ জুন ‘ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধের পায়তারা করছেন‘ এমন অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের ব্যানারে এই মানববন্ধনে অংশ নেয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন