দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সারাদেশের যোগাযোগ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জসহ সাত জেলায় চলছে কঠোর লকডাউন দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানছেন না ।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে-সবাই সতর্ক হন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কিন্তু তাতেও ঘরে রাখা যাচ্ছে না সাধারন মানুষকে। প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করছে স্থানীয় প্রশাসন। লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাস্তায় অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ। কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছে।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েও মানুষকে থামানোর চেষ্টা করছে। তাতেও কাজ হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই শহরে কোনো কোনো জায়গা দোকানপাট, হোটেল রেস্টুরা খোলা রাখা হয়েছে। অনেকের অভিযোগ প্রশাাসনের নীরব ভূমিকার কারণে লকডাউন কোনো কাজে আসছে না। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে ঢিলেঢালাভাবেই পালন হচ্ছে লকডাউন। লকডাউনের তোয়াক্কা না করে চলছে সাধারন মানুষ। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও দোকানের সামনে বা আশপাশেই চুপচাপ বসে রয়েছেন দোকানের মালিক বা কর্মচারী। পরিস্থিতি বুঝে বন্ধ সাঁটার খুলে বেচাকেনাও করছেন তারা। আর ফুটপাতে দোকান মেলে বসে আছে হকার।
অনেক দোকানিরা সামনের কেচি গেইট অর্ধেক লাগিয়ে তাদের দোকান খোলা রেখেছেন। রাস্তার আশপাশের হাট-বাজারগুলোও বসছে আগের মতো এবং তা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত। এ সব হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। ক্রেতা-বিক্রেতা কারো মুখে মাস্ক নেই। প্রায় প্রতিটি এলাকায় নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অলিগলিতে চলছে আড্ডাবাজি। রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে আগের মতোই ভিড় এবং আড্ডা চলছে। গামেন্টস ও শিল্পকারখানার পাশাপাশি অধিকাংশ অফিসও খোলা রয়েছে। কলকারখানা খোলা থাকায় শিল্পাঞ্চল এলাকায় লকডাউনের প্রভাব নেই বললেই চলে। পোশাক শ্রমিকদের অনেকে পায়ে হেঁটে, অনেকে রিকশাভ্যান কিংবা অটোরিকশায় গাদাগাদি করে বসে যাচ্ছেন কর্মস্থলে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোথাও বালাই নেই। শহরের দিগুবাবুরবাজাসহ সবগুলো কাঁচাবাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে সামাজিক দ‚রত্বের কোনো বালাই নেই। বাজারের দোকানদার কিংবা বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েও মনুষকে থামানোর চেষ্টা করছে। তাতেও কাজ হচ্ছে না। আর শহরে রিকসা দিয়ে মাইকিং করা ছাড়া সরকার ঘোষিত নির্দেশনা কার্যকরে প্রশাসনের তেমন কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। শহরে ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্র আরিফুল বলেন, ভাই কলেজ তো বন্ধ। লকডাউন আর লকডাউন আর ভালো লাগে না। বাসায় ভিতরে থাকতে থাকতে বোরিং হয়ে গেছি। তাই বন্ধুদের ফোন করলাম আয় একটু আড্ডা দেই। তাই শহরে আসলাম।
পোশাক কারখানার শ্রমিক রহমত আলী বলেন, কলকারখানা খোলা রাখায় বাধ্য হয়েই তাদের অফিসে যেতে হচ্ছে। যানবাহন কম থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি আমরা । কিন্তু তি করবো কাজ না করলেও তো ঘরে খাবার কেউ দিবে না। তাই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি । নারায়ণগঞ্জের বিবি রোডের এক দোকানদার বলেন, বাধ্য হয়েই তারা দোকান খুলেছেন। মাস গেলেই দোকান ভাড়া কর্মচারীর বেতন দিতে হয়। সরকার লকডাউন দেয় আমাদের দোকান ভাড়া কর্মচারীর বেতন কে দিবে। তারাও স্বাস্থবিধি মেনে ব্যবসা করতে চান।


