# নেতৃত্বে ছিলেন হাজী রিপন, আক্তারসহ ৪০/৫০ জন
# আহত লিমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়
# একসময় আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন তিনি
ফতুল্লার মাসদাইর শেরে বাংলা রোড এলাকা থেকে তরিকুল ইসলাম লিমনকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার দুপরের দিকে পুলিশ লিমনকে নিজ বাসা থেকে আটক করেছে। রাতে মামলা দায়ের করা হয়। এজহারের ভাষ্য অনুযায়ী, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোসাইদ রহমান মুকিদ ব্যবসায়িক ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা লিমনের কাছে তার বাসায় চাইতে গেলে লিমন ওই ব্যবসায়ির উপর হামলা করে।
হামলার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ লিমনকে তার বাসা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তারিকুল ইসলাম লিমন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের লোক হিসেবে শহরে পরিচিতি রয়েছে। মুকিদের দায়ের করা মামলায় লিমনের সাথে আসামী করা হয়েছে লিমনের শ্যালক হেজবুল্লাহকে (৩০)। এদিকে রবিবারের ঘটনাটি একটি নাটক বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন অনেকেই। তারিকুল ইসলাম লিমন। মাসদাইর শেরে বাংলা রোড এলাকায় বসবাস করেন। আলহাজ্ব নাসিম ওসমান দুঃস্থ ও জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি তিনি। ইতিপূর্বে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান ও আজমেরী ওসমানের বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন শহরে সাটানোর কাজে লিমনকে দেখা যেতো। এছাড়াও পারভীন ওসমানের বিভিন্ন সমাবেশেও লিমন ও তার লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার দুপুরের দিকে লিমনের শেরে বাংলা রোডের বাসার সামনে ত্রিশ থেকে চল্লিশটি মোটর সাইকেলের বহর অবস্থান করে। এসময় আজমেরী ওসমানের লোক পরিচয়ে আক্তার সহ বেশ কয়েকজন লিমনের বাসায় তাকে খুঁজতে যায়। এসময় লিমন তার বাসাতেই অবস্থান করছিল। এক পর্যায়ে আক্তারসহ পুরো বাহিনীর সদস্যরা লিমনকে টেনে হিঁচড়ে তার বাসা থেকে বের করার জন্য চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় পুরো শেরে বাংলা রোড এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যারা এক সময় লিমনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে সাহস পেতো না, তারাই লিমনকে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে লিমন তার বসবাস করা বাসা থেকে তিনতলার ছাদে উঠে আত্মহত্যারও চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে আক্তারসহ বেশ কয়েকজন থানায় পুলিশকে ফোন করে। পুলিশ লিমনকে তার বাসা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে তামাক পট্টি এলাকার মোসাইদ রহমান মুকিদ ফতুল্লা মডেল থানায় ব্যবসায়িক কাজে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা লিমনের কাছে পাওনা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঐ পাওনা টাকার জন্য লিমনের বাসায় যাওয়ার পর লিমন মুকিদসহ অন্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়,লিমনকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসার পর লিমনের শ্যালককে পঞ্চবটি থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মুকিদ ও তার লোকজন। তবে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তবে একটি সূত্রের দাবী,বেশ কয়েক মাস ধরেই লিমনের সাথে আজমেরী ওসমানের মনোমালিন্য চলছে। একটি পক্ষ আজমেরী ওসমানের কাছ থেকে লিমনকে মাইনাস করার জন্য নানাভাবে প্রভাবিত করে আসছিল। এরই সূত্র ধরে গতকাল এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সাথে পরোক্ষভাবে হাজী রিপন জড়িত ও আক্তার জড়িত রয়েছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। এব্যাপারে আজমেরী ওসমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আনার জন্য মুকিদ ও তার লোকজন লিমনের বাসায় গেলে সেখানে লিমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে আঘাত করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মুকিদ নামের একজন ব্যবসায়ী।


