শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর হোন্ডাবাহিনী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২১, ০৭:৫৪ পিএম
# এই বাহিনীর সদস্য হাজী রিপনের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের জিডি
# এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নাসিক মেয়র ডাক্তার আইভী
নারায়ণগঞ্জ শহর এবং ফতুল্লায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এক ভয়ংকর হোন্ডা বাহিনী। আর এই হোন্ডাবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে হাজী রিপন, মনির এবং মোর্শেদ নামক তিন সন্ত্রাসী। এর আগে এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলো লিমন নামক এক সন্ত্রাসী। আর এই সন্ত্রাসীরা এই শহরে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে কথিত ‘হাজী সাহেব’ নামক এক ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে। ফলে এই মুহুর্তে গোটা নারায়ণগঞ্জ শহর এবং ফতুল্লা থানা এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পাড়া মহল্লার সাধারন মানুষকে টার্গেট করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। কারো বাড়ি বা জমি নিয়ে ভেজাল করছে আবার কারো বাড়ি গাড়ি লিখে দেয়ার নাম করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে। ফলে একেবারে অসহায় পরেছে সাধারন মানুষ। কারন এই বাহিনীর পেছনে নারায়ণগঞ্জ শহরের এক প্রভাবশালী পরিবারের কথিত হাজী সাহেবের হাত রয়েছে বলে বাহিনীর সদস্যরা দাবি করছে। তাই এখনই যদি এই বাহিনীকে দমানো না যায় তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরে আবারও গুম খুন বেড়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
এদিকে এই বাহিনীর অন্যতম সদস্য হাজী রিপন গতকাল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ উদ্দিন সবুজের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছে। এ সময় তার সঙ্গে অন্য অজ্ঞাতনামা আরো এক সন্ত্রাসী উপস্থিত ছিলো। ফলে সাংবাদিক সবুজ নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। সাধারণ ডায়েরীতে প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক সবুজ তার অভিযোগে লিখেছেন হাজী রিপন নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে।
তাই এই সন্ত্রাসী ভবিষ্যতে সবুজের ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন। তিনি অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য আবেদন জানান। তাই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যেই সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে হুমকি দেয় তাদের কাছে এই শহরবাসী এখন কতোখানি নিরাপদ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহর এবং ফতুল্লা থানা এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা দাবড়িয়ে বেড়ানো এই হোন্ডা বাহিনীর তিন সন্ত্রাসী হাজী রিপন বাস করে দক্ষিণ জামতলা এলাকায়, মোর্শেদ থাকেন ফতুল্লা থানার আফাজনগর এলাকায় এবং মনির থাকে ফতুল্লার গাবতলী এলাকায়। এই তিন জনের নেতৃত্বে হোন্ডা বাহিনীর সন্ত্রাসীরা এখন এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে তারা যখন কাউকে টার্গেট করে তখন কারো কলিজায় পানি থাকে না। ভয়ে চুপসে যান সকলে।
অভিযোগ রয়েছে বাড়ি দখল, জমি দখল এমন কি কারো কারো দামি গাড়িও নিয়ে যায় তারা। ফলে পরিস্থিতি এখন যেদিকে গিয়েছে তাতে নারায়ণগঞ্জ শহর এবং ফতুল্লার মানুষ এই হোন্ডা বাহীনির কাছে একেবারে জিম্মি হয়ে পরেছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র রবিবার এক বক্তৃতায় বলেছেন হোন্ডা বাহিনীর সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে দমাতে হবে। অন্যথায় জনগণ বিক্ষুব্দ হয়ে উঠলে তারা গণপিটুনির শিকার হতে পারে। ঘটতে পারে বড় ধরণের অঘটন। তাই এখনই র্যাব এবং পুলিশের কর্তারা যদি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা না নেন তাহলে এই শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনিত ঘটবে। এরই মাঝে বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে একই সঙ্গে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


