কঠোর লকডাউন চলছে, আছে সেনাবাহিনীর পাঁচটি দল
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২১, ০৮:০৪ পিএম
# সেনাবাহিনীর প্রতি টিমে ১৫ জন করে সদস্য থাকবেন
# ৩ প্ল্যাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে
# জেলা প্রশাসনের ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২০টি টিম
# পুলিশের ৩১টা টিম জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করবেন
সারাদেশে আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে কড়া বিধিনিষেধ অনুযায়ী চলছে কঠোর লকডাউন। করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত এই বিধিনিষেধ চলাকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর পাঁচটি দল নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন সেনা সদস্যরা। একই সাথে বিজিবি-৫২ এর ৩ প্ল্যাটুনও কাজ করবে জেলায়।
এছাড়া জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ৫১টি দল সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুরো জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ জুন) রাত পৌনে আটটায় মুঠোফোনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল থেকে সারাদেশে সরকারঘোষিত কড়া বিধিনিষেধ অর্থ্যাৎ লকডাউন শুরু হবে। এই সময়ে সেনাবাহিনীর পাঁচটি টিম কাজ করবে জেলায়। প্রতি টিমে ১৫ জন করে সদস্য থাকবেন। একই সাথে ৩ প্ল্যাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করবেন, জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আগামীকাল ওনাদের সাথে কর্মকৌশল নির্ধারণ করবো। বেসামরিক প্রশাসনকে ওনারা সহযোগিতা করবেন। লকডাউন কার্যকরে সহযোগিতা করতে বিজিবি’র ৩ প্ল্যাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২০টি টিম কাজ করবে জেলায়। এছাড়া পুলিশের ৩১টা টিম জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করবেন। র্যাব, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, আনসার সদস্য সবধরনের জনবল লকডাউন কার্যকরে কাজ করবে।’
মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কোভিডের পরিস্থিতি খারাপ। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সকলকেই ঘরে থাকার নির্দেশনা দেবো। তবে খুবই জরুরি প্রয়োজন থাকলে সেটা সরকারি বিধিনিষেধ মেনে নিজের পরিচয়পত্রসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন ঘর থেকে বের হন। আমরা আইন ও বিধির মধ্যে থেকে কাজ করতে চাই। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, লকডাউনে কারখানা খোলা রাখা যাবে। তবে গণপরিবহনসহ অন্যান্য যাত্রী পরিবহন সেবা বন্ধ থাকবে। সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের চলাচল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘শ্রমিকরা পায়ে হাঁটা দূরত্বে অবস্থান করবেন। খুবই জরুরি হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে কয়েকটা স্টাফ বাস মালিকপক্ষ সড়কে নামাতে পারবেন। তবে তাতে কেবল শ্রমিক পরিবহন করার অনুমতি থাকবে।’
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন থেকে নারায়ণগঞ্জসহ সাত জেলায় গণপরিবহন বন্ধসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ ছিল। এই বিধিনিষেধ ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে সরকার আরেক ঘোষণায় ১ জুলাই থেকে সারাদেশে কড়া বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। এ বিষয়ে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


