Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

মাদক ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ইসদাইর!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২১, ০৭:১৬ পিএম

মাদক ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ইসদাইর!
Swapno

# মাদকের মাসোহারা ও বিভিন্ন সেক্টর দখলে সক্রিয় একাধিক গ্রুপ  


# আধিপত্ত বিস্তারে ঘটছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যাকান্ড  


# সেল্টারে আ’লীগ নেতা ও আলোচিত এক নেতার অনুসারী


# কে কোন দলের বা ব্যক্তির তা দেখা হবে না : এসপি

 

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নির্বাচনি এলাকা ফতুল্লার বৃহত্তর ইসদাইর। এই এলাকায় আধিপত্ত বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে বরাবরই সক্রিয় রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের ব্যানার ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে পদপদবীতে না থাকলেও বিশেষ একটি পরিবারের প্রভাবশালী এক সদস্যের কাছের লোক হিসেবে নিজেদের জাহির করছেন। ওই দুই পরিচয়ে ইসদাইর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একাধিক বাহিনী। এসব বাহিনীর মধ্যে যেমন রয়েছে মাদককারবারি, তেমনই রয়েছে কিশোর অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও।

 

মূলত, ইসদাইর এলাকায় বসবাসকরা ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা এবং ওই বিশেষ পরিবারের এক সদস্যের কাছের লোক হয়ে উঠা কতিপয় ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ইসদাইর এলাকার মাদককারবারি, কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মহল্লা ভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি, মাদকের স্পট, ঝুট এবং বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপরাধিদের পশ্রয় দিচ্ছে ইসদাইরের কিছু নেতা। এর ফলে পৃথক বলয়ের নেতাদের সেল্টারে ইসদাইরে গড়ে উঠা ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ অপরাধ জগতে নিজেদের আধিপত্ত বিস্তার করতে প্রায় সময়ই জড়িয়ে পড়ছে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে। এতে ঘটে চলেছে প্রাণহানীর ঘটনাও। এভাবেই মাদক, কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বৃহত্তর ইসদাইর এলাকা।  

 

সবশেষ গত ২৮ জুন রাতে ইসদাইর রেললাইন ও চাষাঢ়া রেলস্টেশনে মাদকের স্পট থেকে মাসোহারা আদায় করাকে কেন্দ্র করে মাদককারবারী শামীম, রকি ও মানিক গ্রæপের সাথে ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার জামান, সোহাগ ও শিমুল গ্রুপের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘর্ষে শামীম গ্রæপের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয় রুবেল নামে এক রাজমিস্ত্রি। একই ঘটনায় মাদকের মাসোহারা দাবি করা সোহাগও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে জামান, সোহাগ ও শিমুল গ্রুপের লোকজন পাল্টা হামলা চালায়। এসময় ইসদাইর বাজারে অবস্থিত অখ্যাত ‘জয়যাত্রা ক্লাব’ ও কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

জানা গেছে, ওই সংঘর্ষে রাজমিস্ত্রী রুবেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েকৃত মামলায় উভয় পক্ষের ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এখনো পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার ফারুক হোসেন শিমুল ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মাসুমের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। চাষাঢ়া রেলস্টেশন ও ইসদাইর রেললাইন এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শিমুল ও তার সহযোগিরা মাসোহারা আদায় করতো বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

এদিকে, চাষাঢ়া রেলস্টেশন ও ইসদাইর রেললাইন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শামীম, মানিক ও রকিসহ তাদের সহযোগিরা ইসদাইর এলাকার বিতর্কিত নাসিরের শেল্টারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। নাসির নারায়ণগঞ্জের একটি বিশেষ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য ‘হাজী সাহেবের লোক’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকেন।  

 


স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কিশোরগ্যাংয়ের আধিপত্ত বিস্তার ও বিভিন্ন সেক্টর দখলের লক্ষ্যে এমন একাধিক গ্রæপ সক্রিয় রয়েছে ইসদাইরে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা শিমুল, তার সহযোগি জামান, সোহাগ এবং মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও মানিক গ্রæপ ছাড়াও রয়েছে কাপুরাপট্টি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী পেটকাটা রকি, ইসদাইর এলাকার পায়েল, কমল, মানিক, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী কিশোরগ্যাং লিডার ইভন, হাসান, উজ্জল, খান বাবু, অনন্ত ও মুরগি মামুন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে থানায় মামলা ও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপেই রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ। পান থেকে চুন খশলেই আধিপত্ত বিস্তারের লক্ষ্যে ইসদাইরে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া চালায় এসব সন্ত্রাসীরা। জড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। ভয়ানক হয়ে উঠা এসব অপরাধীদের উৎপাতে ভীত হয়ে পড়েছেন ইসদাইর এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা।  

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসদাইর এলাকার একাধিক বাসিন্দা দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান- ‘এসব সন্ত্রাসী, কিশোরগ্যাং ও মাদককারবারি গ্রæপগুলো ইসদাইরের শান্তিপ্রীয় মানুষের কাছে বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না কেউ। ইসদাইর বাজারে মানিক গ্রæপ গড়ে তুলেছে ‘জয়যাত্রা’ নামক একটি ক্লাব। যেখানে দিন রাত চলতো তাদের আড্ডা। বেপরোয়া হয়ে উঠা এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ইসদাইরের শান্তিপ্রীয় বাসীন্দারা।  

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘যারাই যেকোন ধরনের অপরাধ সংঘঠিত করছে, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। আর গত তিনদিন আগে ইসদাইরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে যেই হত্যাকান্ড ঘটেছে, ওই ঘটনায় আমরা মামলা নিয়েছি। ইতিমধ্যেই ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। অপরাধীরা যেই দলের বা ব্যক্তিরই হোক, তাদের বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবে না।’

 

তিনি বলেন, ‘ইসদাইরে চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল হোতাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। অটোও উদ্ধার হয়েছে। ওই ঘটনায় অন্যান্য যারা জড়িত, তাদেরকেও শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে। অটো ছিনতাইয়ের সাথে একটি চক্র আছে। যাকে ধরা হয়েছে, সে ১৫-২০টি অটো ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ছিলো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আর ছিনতাইকৃত অটো যারা কেনা-বেচা করে এবং এই চক্রের সাথে যারা জড়িত, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন