# জরুরী প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বেরিয়েছে কম
# অযথা ঘোরাফেরাকারীদের বিরুদ্ধে তৎপর ছিল প্রশাসন
# গাড়ি চলাচলও ছিলো একেবারেই কম
গতবছর করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ঘোষিত লকডাউনে মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছির। এরপর করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনায় বারবার সরকার সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবার আহবান জানিয়ে আসছে। তবে এরপর সবগুলো লকডাউনেই মানুষের উদাসিনতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবার সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে অনেকটাই পাল্টে গেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের চিত্র। শহরের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে নেই তেমন যানবাহনের চাপ; সেইসঙ্গে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও কম।
তবে ভোর সকাল থেকে ৯ টা পর্যন্ত কিছু কিছু যানবাহন চলতে দেখা গেছে, যারমধ্যে চড়ে শ্রমিকরা তাঁদের গন্তব্যস্থানে গিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে কিছু পায়ে চালিত রিকশা ও আটো রিক্সা চলতে দেখা গেছে। এদিকে, লকডাউনের প্রথম দিন এ জেলায় (নারায়ণগঞ্জ) বিভিন্ন গণপরিবহন, স্কুল-কলেজ ও মার্কেটসহ সরকারি বেসকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, নগরীর লিংক রোড, চাষাঢ়া, দুই-নং রেলগেট, এক-নং খেয়াঘাট, নিতাইগঞ্জ এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে।
অন্যদিকে, লকডাউন কার্যকরে গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে ছিলো। জানা যায়, লকডাউন চলাকালীন জেলায় ৫ টি সেনাবাহিনীর টিম ও ৩ টি বিজিবি’র প্ল্যাটুন সড়কে উপস্থিত ছিলো। এ সময় জেলা প্রশাসনের ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ এবং আনসার সদস্যরাও লকডাউন কার্যকরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরেজমিনে ১ নং খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দিনব্যাপি শক্ত অবস্থানে আছেন সেনাবাহিনীর একটি টিম এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ। এ সময় নদী পারাপারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ জন যাত্রী নৌকায় উঠতে পেরেছে এবং মাস্ক ছাড়া কাউকে নদী পার হতে দেয়নি সেখানে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সেন্ট্রাল ঘাটের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিজান এ বিষয়ে বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের লকডাউন অনেক কঠিন। তাই যাত্রী পারাপারের চাপও কম। তাছাড়া সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নদী পারাপারে বাধ্য করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তবে সকাল দিকে পোশাক শ্রমিকরা যখন কর্মস্থলে গিয়েছিলো তখন যাত্রীদের চাপ একটু বেশি ছিলো। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপ কমে গিয়েছে। এদিকে নগরীর চাষাঢ়া ও দুই নং রেলগেট এলাকায় বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে পুলিশের একাধিক চেকপোষ্ট।
তাই কেউ বিনা কারণে বাসা থেকে বের হলেই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয়েছেন। দুই নং রেলগেট এলকায় অবস্থিত একটি খাবারের হোটেলের কর্মচারী বলেন, কিছুদিন আগেও এক সপ্তাহের লকডাউন গেল। তখনও প্রশাসনকে এত কড়াকড়ি হতে দেখি নাই। তবে আজকে তাঁদের (প্রশাসন) লকডাউন নিয়ে যেই গুরুত্ব দেখা যাইতাসে এটা অন্যান্য দিনের চেয়ে ভালো। গাড়ির চলাচল তো একেবারেই নেই। যা চলতাসে এগুলো ছোট ছোট রিক্সা। আর এর কারণে আমাদের হোটেলের বেচাকেনাও নেই। পার্সেলে আর কয়টাকা বিক্রি হয়। অন্যদিকে চাষাঢ়ার একটি মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী বলেন, সকাল থেকে চেয়ার নিয়ে মার্কেটের সামনে বসে আছি। রাস্তায় মানুষ আর গাড়ির চলাফেরা একেবারেই কম। মনে হইতাসে ঈদ ভাঙ্গা বাজার।
আর চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে জেলা প্রশাসকের ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, সকাল ছয়টা থেকে আমারা কঠোর ভাবে দায়িত্বে আছি। জরুরী পণ্য পরিবহন এবং রোগীদের আমরা লকডাউনের আওতার বাইরে রেখেছি। তবে যারা লকডাউনের আওতার মধ্যে আছে তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা খুবই শক্ত অবস্থানে আছি। করোনা নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা থেকে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন। সরকার ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী এই লকডাউন চলবে আগামী ৭ই জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।


