মুষলধারে বৃষ্টিতে শহরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২১, ০৮:০৪ পিএম
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই শুরু হয় থেমে থেমে বৃষ্টি, চলে সকাল পর্যন্ত। এরপর দুপুর ১২ টা নাগাত আকাশ ছিলো পরিষ্কার; বৃষ্টিরও কোন সম্ভাবনা ছিলোনা। তবে দুপুরের পর নারায়ণগঞ্জ শহরে নামে, আষাঢ়ের প্রবল বর্ষণ। মুষলধারে এই বৃষ্টি চলতে থাকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বর্ষার এই অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট পানিতে গতকাল তলিয়ে যায় শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা। ফলে একদিকে লকডাউন ও অন্যদিকে কৃত্রিম এই জলাবদ্ধতা নগরবাসীর মাঝে মরার উপর খারার ঘাঁয়ে পরিণত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, নবাব সমিলউল্লা রোড, ঈশা-খা রোডসহ নগরীর প্রায় সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাই বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। কোন কোন স্থানে এই পানি রাস্তা টপকে ফুটপাত ছুঁই-ছুই। এছাড়া শহরতলীর গলাচিপা, ভূইয়ারবাগ, পানির ট্যাংকি, নাগবাড়ী, দেওভোগ মাদ্রাসাসহ অনেক এলাকা বৃষ্টির পানিতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মূলত এলাকার অধিকাংশ বাড়ি ঘরেই পানি ঢুকেছে। জানা যায়, গত একমাস যাবৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি চলতে থাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বৃষ্টির পানি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশন না হওয়ায় অল্প একটু বৃষ্টিতেই সব জায়গায় তৈরী হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা।
চাষাঢ়া সায়েম প্লাজা মার্কেটের সামনে শীলা আক্তার নামে এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, এক ঘন্টা যাবৎ আমি এই মার্কেটের ভিতরেই দাঁড়িয়ে আছি। আমার চোখের সামনে বৃষ্টির পানিতে পুরো বঙ্গবন্ধু সড়ক এবং পাশের ফুটপাতগুলো ঢুবে গেল। লকডাউনের কারণে যানবাহনও তেমন দেখছিনা, তাই বাড়ি ফিরবো কিভাবে সেটাই ভাবছি। নাসিক ১৪ নং ওয়ার্ডের গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা রজ্জব মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে আমার বাড়িতে হাটু সমান পানি উঠসে। কালকে রাত থেকে এখন পর্যন্ত ঘরের ভিতর থেকে হাজার লিটার পানি বাইর করসি। আর বৃষ্টি বেশি হওয়ার বাড়ির পাশের পুকুরের পানিও রাস্তায় উইঠা আইসে। তাই একটু পরপরই সড়সড় কইরা সাপ আসে বাড়ি মধ্যে। তো বোঝেন এবার কি অবস্থা আমাদের।
অন্যদিকে লকডাউনের কথাতো বাদই দিলাম! এদিকে গতকাল শুরুবার মুষলধারে বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছে নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ডের মাসদাইর ও এর আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ। মাসদাইর বাজরের মুদি ব্যবসায়ী রাজ্জাক মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমাগো পুরা বাজার পানিতে ডুবে গেছে। তাই কোন কাস্টমার (ক্রেতা) এখানে আসেনা। সারাদিনে মনে হয় ২’শ টাকাও বিক্রি হয়নি। শুনছি ফতুল্লার একটি খাল দিয়ে পানি ঠিক মতোই নামতে না পারায়, আমাদের এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ভোগান্তির কথা শিকার করে মাদাইর এলাকার বাসীন্দা আনু হোসেন বলেন, দুপুরে জুম্মার নামাজের পর বাসায় আইসা মাত্র ভাত খাইসি, আর এরমধ্যেই ধুম বৃষ্টি। এতে মুহূর্তের মধ্যে বাড়ি ঘর তলাইয়া গেল। এখন খাট পর্যন্ত উঠা বাকি। বাথরুম পাকের ঘর সব ঢুবে আছে। তাই এখন কি করবো সেই মাথায় আসছেনা।


