খোকন সাহার ‘পানিতেই হাঁটা উচিত’ : কাউন্সিলর শফি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২১, ০৯:৫০ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রায় সময় কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা। শহরের রাস্তাঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি, জলাবদ্ধতা নিয়ে বিভিন্ন সময় মেয়র আইভীকে ছেড়ে কথা বলেন না তিনি। যখনই কোথাও কথা বলার সুযোগ পান খোকন সাহা সেখানেই মেয়রকে এক হাত নেয়ার চেষ্টা করেন।
যদিও নগরবাসী তার এসব বক্তব্যকে তেমন পাত্তা না দিয়ে ‘রাজনৈতিক বিরোধিতা’ হিসেবেই দেখেন। কেননা রাস্তাঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাংলাদেশের যেকোনো সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ এগিয়ে অভিমত তাদের। কয়েক মাস আগে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে মেয়র আইভীকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগে মামলার আসামি হয়েছেন খোকন সাহা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আসামি হয়েও থামেননি তিনি। সর্বশেষ গত ২২ জুন টানা বৃষ্টিতে শহরে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিলে নিজের বাড়ির সামনের রাস্তায় জমে থাকা পানিতে দাঁড়িয়ে শার্ট ও লুঙ্গি পরে ছবি তোলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। সেই ছবি আবার অনুগত কর্মীদের দিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
জলাবদ্ধতার জন্য মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই ছবি তুলেছেন বলে প্রচার করেন। কিন্তু তারই এলাকার কাউন্সিলর ও ঘনিষ্ঠজনের বক্তব্যে বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। জানা যায়, বৃষ্টিতে বাড়ির সামনে যে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয় সেটার জন্য দায়ী খোদ খোকন সাহা নিজেই। তার বাধার কারণেই বাড়ির সামনে ড্রেন করতে পারেন নাই নগর কর্তৃপক্ষ। এমন দাবিই করেছেন নাসিকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তার ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা শফিউদ্দিন প্রধান। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রতিবেদককে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেন শফিউদ্দিন।
ওই প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘খোকন সাহার পানিতেই হাঁটা উচিত’। কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আমলে গলাচিপায় এলাকায় অ্যাডভোকেট খোকন সাহার বাসভবনের সামনে রাস্তা ও ড্রেন করার জন্য গেলে তার বাধার কারণে ড্রেন করতে পারি নাই। তার বাধার কারণে ফান্ড বরাদ্দ হলেও সেটার পরে ফেরত গেছে। এবারও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাস্তা ও ড্রেন করতে অর্থ বরাদ্দ করিয়েছিলাম। কিন্তু এবারে তিনি একবার অনুমতি দিলেও পরে আবারো মানা করেছে।’
শফিউদ্দিন প্রধান আরও বলেন, ‘অ্যাডভোকেট খোকন সাহার বাড়ির সামনে তার শিষ্য ডিস মাসুম ড্রেনের উপরে সিপটিন ও বালুসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী রেখে বাড়ি নির্মাণের কাজ করছে। এতে করে ড্রেন ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। মূলত অ্যাডভোকেট খোকন সাহার প্রশ্রয়েই ডিস মাসুম এমনটি করছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা একজন সচেতন নাগরিক হয়েও এলাকার প্রতি কোন ধরনের নজরদারী করেন না। যে কারণে তার (খোকন সাহার) পানিতেই হাঁটা উচিত।’
যুগের চিন্তাকে কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, আমাকে ছোট করার জন্য হয়তো তিনি জলাবদ্ধ পানিতে হেঁটেছেন। কিন্তু ওই ড্রেনটি কেন, কি কারণে এমন হয়ে রয়েছে সেটি খোকন সাহা খুব ভালোভাবে জানে। যাই বুঝাতে চান, আমার ওয়ার্ডে আমি ঠিকই কাজ করেছি। উনার বাড়ির সামনের কাজটি কি কারণে করা যায়নি এটা খোকন সাহা খুব ভালো করেই জানেন।


