Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

আইনের আওতায় আসছেন আউয়াল

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২১, ১০:২১ পিএম

আইনের আওতায় আসছেন আউয়াল
Swapno

হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা, নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সভাপতি এবং শহরের ডিআইডি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং এর প্রমান পাই, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল হুজুরের বিষয়টি আমাদের নলেজে এসেছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।’  

 

জানা গেছে, সরকার ঘোষিত লকডাউনের বিরোধীতা করে এর কঠোর সমালোচনা করছেন আলোচিত ইসলামী নেতা মাওলানা আব্দুল আউয়াল।   গত দুই জুমার খুতবায় তিনি সরকারের লকডাউন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। এর মধ্যে গত ২ জুলাই শুক্রবার জুমার খুৎবায় মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ‘সরকার পড়ে যাবে।’ এভাবে প্রায় প্রতিটি জুমার খুৎবায় রাষ্ট্র বা সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধীতা ও সমালোচনা করছেন, ছাড়ছেন হুংকারও। এতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও চটেছেন মাওলানা আব্দুল আউয়ালের প্রতি।

 

তাদের মতে, মাওলানা আব্দুল আউয়াল বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে মুসল্লিদের উস্কে দিতে চাইছেন। এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘হেফাজত ইসলামের নেতা ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল জুমার খুৎবায় বসে প্রতিনিয়তই রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলে মানুষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। করোনার সংক্রোমণ এড়াতে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও সরকার যখন লকডাউনের ঘোষণা দিচ্ছেন মানুষকে সংক্রোমণ থেকে বাঁচাতে, তখন এর বিরোধীতা করে মাওলানা আউয়াল প্রকাশ্যে লকডাউন নিয়ে সমালোচনা করছেন।

 

এছাড়াও তিনি বলছেন, মাক্স পড়ে লাভ নাই! গত জুমায় তিনি বলেছেন ‘সরকার পড়ে যাবে’। জুমার বয়ানে বসে মাওলানা আউয়াল সরকার পতনের এমন মন্তব্য করার কারণ কী? আর এমন বক্তব্যের পরও প্রশাসন নীরব ভুমিকায় কেন? প্রশাসনের প্রতি আমার আহবান, থাকবে মাওলানা আওয়ালের এমন মন্তব্যের কারণ অনুসন্ধান করে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। আমি তাকে গ্রেফতারের দাবি জানাই।’   নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মসজিদের মিম্বারে বসে এসব কথা আমরা প্রত্যাশা করিনা। আমার মতে, এই বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিৎ। তারা এই বিষয়গুলো জানে কিনা, তা আমার জানা নেই। তাদেরকে এই বিষয়গুলো অবগত করা উচিত।

 

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদেরকেও এই বিষয়ে নজর দিতে হবে। যারা সরকারের নির্দেশনা মানে না বরং বড় বড় কথা বলে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। আর মাওলানা আউয়াল সাহেব সরকারের পতন চেয়ে এমন মন্তব্য কেন করছেন তা তদন্ত সাপেক্ষে বেড় করা উচিৎ।’ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, সরকার লকডাউন দিয়েছে মানুষকে নিরাপদে থাকার জন্য। আর যেই মাওলানা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন। সরকার বিরোধী কথা বার্তা বলছেন। সে একটি দুষ্ট চরিত্রের লোক। আমরা তার গ্রেফতার চাই। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হোক। তিনি প্রতিনিয়তই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং সাধারণ মুসল্লিদের উস্কে দিচ্ছে। দেশে আবারও হেফাজতের নৈরাজ্যতার ছক আঁকছে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজর দেয়া উচিৎ।’ 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন