নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এবং আশপাশের এলাকা এখন ভিআইপি এলাকা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাবুরাইল খালকে ঘিরে একটি পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়ায় একেবারে পাল্টে গেছে গোটা এলাকার চিত্র। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাতের ছোঁয়ায় বদলে গেছে বাবুরাইল, বৌবাজার, আমবাগান ও বাংলাবাজারসহ আশপাশের বিশাল এলাকা।
এরই মাঝে শেষ করা হয়েছে ওই এলাকার খাল নির্মাণের বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। রাস্তা নির্মান সহ আরো কিছু কাজ চলামান রয়েছে যা কিনা খুব শিগগিরই শেষ হবে। এরই মাঝে খালের কাজ শেষ করে দুই পাড়ে লাইটিং করা হয়েছে। তাই রাতে ওই এলাকায় গেলে মনেই হয় না এটা বাংলাদেশের কোনো এলাকা। একেবারে ইউরোপ, আমেরিকা অথবা জাপানের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে গোটা এলাকাটিকে। তাই রাতের বাবুরাইলে তৈরী হয়েছে এক মনোরম পরিবেশ। ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর খুবই খুশী এই বাবুরাইল খালের দুই পারের মানুষ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যায় করে এই খালটি নির্মান করা হয়েছে। খালটির দুই পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে মানুষের পায়ে চলার পথ। আর খালের উত্তর দিকের মন্ডলপাড়া টু বাংলাবাজার রাস্তাটি ব্যাপক প্রশস্ত করা হয়েছে। খালের দুই পারে বসানো হয়েছে রং-বেরঙের স্ট্রিট লাইট। এক কথায় এই খাল নির্মানের ফলে একেবারে পাল্টে গেছে গোটা এলাকার চেহারা। সূত্র আরো জানায় খালটি নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক ধকল পোহাতে হয়েছে মেয়র আইভীকে। কাররণ পুরো খালটিই ছিলো অবৈধ দখলদারদের দখলে। তাই এই সকল দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে মেয়রকে ভিন্ন ভিন্ন পথে হাটতে হয়েছে। অনেকে সহজে বুঝেছেন আবার অনেকে বুঝতে চাননি। মামলা মোকদ্দমাও হয়েছিলো। কিন্তু এতোটুকু দমেননি মেয়র। শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি।
এছাড়া খালটির নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেও পোহাতে হয়েছে ব্যাপক বিড়ম্বনা। কারণ খালের উপরে বাঁশের সাকো, কাঠের সেতু এবং কংক্রিটের ব্রিজ সহ প্রায় শতাধিক ব্রিজ ভাংতে হয়েছে তাদেরকে। এছাড়া খালের ভেতর দিয়ে দুই পারের বাড়িঘরে সংযোগ নেয়া হয়েছে শত শত গ্যাস লাইন এবং ছিলো বিপুল সুয়ারেজের পাইপ। ফলে এসব নতুন করে পুন:স্থাপন করতে হয়েছে। এক কথায় সম্পূর্ণ একটি নর্দমায় পরিনত হয়েছিলো বাবুরাইল খাল। আর এখন সেই নর্দমাকে একটি দৃষ্টিনন্দন খালে রূপগঞ্জ করা হয়েছে। ফলে এই খাল নির্মাণ নিয়ে গোটা খালের দুই পারের মানুষদের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ উল্লাস।
এ বিষয়ে ১নং বাবুরাইলের বাসিন্দা সামাদ রিপন বলেছেন, আমি বাবুরাইলের স্থায়ী বাসিন্দা। আগে আমাদের বাড়ির সামনের এই রাস্তা এবং খালের এতোটাই খারাপ অবস্থা ছিলো যে ঘর থেকে বাহিরে বের হতে মন চাইতো না। আর এখন ঘর থেকে বের হলে মন ভরে যায়। বিশেষ করে রাতের বেলা বের হলে আমি নিজেই চিনিনা আমাদের এই বাবুরাইলকে। এটা যেনো ইউরোপের কোনো এলাকা। তাই আমি অন্তর থেকে মেয়র আইভীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তার আরো সাফল্য কামনা করছি।
এ বিষয়ে আম বাগান এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান বিশ্বাস বলেন, আমরা কখনো কল্পনাও করিনি এভাবে আমাদের এলাকার এই খালটির এমন উন্নয়ন হবে। এছাড়া আমাদের এলাকাটি পরেছে কাশীপুর ইউনিয়নে। এটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কোনো এলাকা নয়। কিন্তু তারপরেও মেয়র আইভী যেভাবে আমাদের এলাকার উন্নয়ন করলেন এতে আমরা নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। সত্যি আইভী একজন উদার মনের মানুষ। আমরা তার আরো সাফল্য কামনা করছি।


