চৌদ্দ দিন কঠোর লকডাউনের পর ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে ঈদের আগে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সাময়িক সময়ের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে দোকানপাট এবং বিপণিবিতানগুলো। এতে করে শিথিল করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।
এর মধ্যে দুই সপ্তাহ কেটে যাওয়ায় এসব ক্ষেত্রে তাই স্বাভাবিকভাবেই ভিড় হওয়ার কথা। কিন্তু গত কয়েকদিনের লকডাউনে জনগণ হয়তো ভেবেছে তাদের বিরাট কোন ক্ষতি হয়ে গেছে, আর সেই ক্ষতি তারা একদিনেই পুষিয়ে নিতে চাচ্ছে। আর তাই শহরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপণি বিতানে দেখা যায় সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। যেখানে করোনা মহামারির সাধারণ সতর্কতা সামাজিক দুরত্বের কোন লেশ মাত্র ছিল না। প্রশাসনের একটু সিথিল হওয়াতে যেন তারা তাদের খোলস ছেড়ে বের হতে বাধ্য হয়েছেন।
গতকাল শহরের সমবায় মার্কেট, প্যানোরমা, জামান টাওয়ার, সায়াম প্লাজা, শরীফ সুপার মার্কেট থেকে শুরু করে ডিআইটির বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনে এমন চিত্রই ফুটে ওঠেছে। শহরের ফুটপাতসহ শপিংমলগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। শহরের চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি এলাকার ফুটপাতসহ বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পশের দোকানপাটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের কোন প্রকার সুযোগ ছিল না। এসব এলাকার ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতেও গাঁ ঘেষাঘেষি করে চলতে হয়। আর শপিং মলগুলোতেতো প্রবেশেরই কোন উপায় নেই। অনেককেই দেখা যায় তাদের ছোট ছোট বাচ্চাসহ পুরো পরিবার নিয়ে বেরিয়েছেন কেনাকাটা করার জন্য। বড়দের মুখে মাস্ক থাকলেও মাস্ক নেই ছোটদের মুখে।
এ সময় বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে নারীদের তৈরী পোশাক বিক্রেতা রফিকের এখানে দেখা যায় তার চারদিক দিয়ে ঘিরে আছে নারী ক্রেতারা। তাদের সবাই হাতে পোশাক নিয়ে দেখছেন এবং পছন্দের পোশাকটি বাছাই করছেন কেনার জন্য। আবার অনেক সময় দেখা যাচ্ছে একই পোশাক হাত ঘুরে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জনের কাছে। রফিক তার পোশাক এমনভাবে রাখছেন যে, তার এখানে ক্রেতারা দাঁড়িয়ে ভিড় করায় ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা থাকছে না। এ বিষয় প্রশ্ন করা হলে রফিকের সোজা উত্তর, ‘পাবলিকের দিকে চাইলে কি আর আমাগো দিন যাইবো। এমনিতেই ফুটপাতে বসলে পুলিশে দৌড়ায়, তারপরও সুযোগ বুঝে যা-ই একটু আধটু বসতাম লকডাউনের কারণে সেটাও সম্ভব হয়নি। আমাদের ও সংসার চালাতে হয়।
তাই এখন পাবলিকের চিন্তা করার সময় আমাগো নাই। ছোট ছোট তিনটি শিশু ও স্ত্রীকে নিয়ে পাইক পাড়া থেকে কেনাকাটা করতে এসেছেন হাসান মিয়া। তার এবং তার স্ত্রী’র মুখে মাস্ক আছে ঠিকই কিন্তু তাদের তিনটি শিশুর একটির মুখেও মাস্ক নেই। তার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে হাসান মিয়া বলেন, ‘ওরা বাচ্চা, ওদের সমস্যা নাই।’ এ সময় পাশে থাকা অন্যান্য ক্রেতা-বিক্রেতারা হেসে উঠেন। জামতলা থেকে চাষাঢ়ায় ঔষধ কিনতে আসা আরিফ হোসেন বলেন, দেশের মানুষের কোন মাথা ব্যথা নাই, যা মাথা ব্যথা সরকারের।
যেভাবে মানুষজন চলা ফেরা করছেন তাতে মনে হয় তারা কোন নিয়ম কানুন মানতে চায় না। এতদিন প্রশাসনে নজরদারি ছিল তাই মানতে বাধ্য হয়েছে, যেই প্রশাসন একটু ডিল দিয়েছে তাতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠতে শুরু করেছে মানুষজন। তিনি বলেন, করোনার ভয়াবহতার বিষয়ে প্রত্যেকের নিজেকে সচেতন হতে হবে। এটা শুধু সরকারের ক্ষতি নয়, প্রত্যেকেটা পরিবারেরই ক্ষতি। যখন কেউ আক্রান্ত তখন শুধু তার পরিবারই এর গুরুত্ব বুঝে।


