৩০ টাকা কেজি চাল কিনতে কাঠফাটা রোদে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২১, ০৯:৩২ পিএম
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে ন্যায্যমূল্যে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা কিনতে দুপুরের কাঠফাটা রোদে নিম্নআয়ের মানুষ জনকে প্রায় ঘন্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুরে শহরের দিগুবাবু বাজারে প্রবেশমুখে ট্রাকে করে এসব চাল ও আটা বিক্রি করতে দেখা যায়। ঘন্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা কিনতে পারছেন তারা। তবে এসময় অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। তাদের সামাজিক দূরত্বও মানতে দেখা যায়নি।
রিকশা চালক নাদিম মিয়া বলেন, ‘লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হলেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যারেজের জমা খরচের ৩০০ টাকা ভাড়া পাই না। কারণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ রিকশা আটকে যাত্রী নামিয়ে দেয়। খুব কষ্টে সংসার চলছে। চাল ১০ কেজি দিলে ভালো হতো। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আর মাকে নিয়ে আমার পরিবার। তিনবেলা ভাত খাইলে দুই দিনে পাঁচ কেজি চাল শেষ হয়ে যায়।’
চাল ও আটা কিনতে আধাঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রিকশাচালক নয়ন মিয়া। তিনি বলেন, ‘কম দামে চাল ও আটা কিনতে পেরে আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। তবে এর সঙ্গে তেল, লবণ, ডাল, আলুসহ আরও কিছু থাকলে ভালো হতো।’
ওএমএস চাল ও আটা বিক্রির ডিলার মো. শাহীন শেখ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে খাদ্য অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ওএমএস বিশেষ ট্রাকসেল শুরু হয়। এখানে প্রতিদিন একজন ব্যক্তি পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারবেন। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও প্রতি কেজি আটার দাম ১৮ টাকা।’ আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত এই বিক্রি চলবে। এর মধ্যে শুক্রবার বন্ধ থাকবে। তাছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাকসেল চলবে।
ডিলার শাহিন আরও জানান, প্রতিদিন আমাদের দেড় টন আটা ও আড়াই টন চাল বিক্রির জন্য দেয়া হচ্ছে। বিকেলের মধ্যে চাল ও আটা সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে গেছে।


