শীতলক্ষ্যার খালপাড়ে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২১, ১১:২৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের চারারগোপ এলাকায় আতাউর রহমান (৬৪) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা কুমুদিনী খালের পশ্চিম পাশের পাড়ের ঝোপের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। পঁচে-গলে যাওয়ায় মরদেহের চেহারা চেনার মতো অবস্থায় নেই। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনরা পরনের পোশাক দেখে মরদেহটি আতাউর রহমানের বলে শনাক্ত করেছেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মর্গে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।
নিহত আতাউর রহমান মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। খানপুর ব্রাঞ্চ রোড এলাকায় জনৈক জয়নাল কমিশনারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শহরের কালীরবাজারের চারারগোপ এলাকায় ফল-সবজি ওঠানো-নামানোর কাজ করতেন আতাউর। তার স্ত্রী সুলতানা বেগম জানান, গত ২৩ জুলাই সকাল দশটার দিকে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। কোথাও খোঁজ না পেয়ে থানায় জিডিও করেন স্বজনরা। বিকেলের দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।
সুলতানা বলেন, কারও সাথে কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব ছিল না আতাউরের। আত্মহত্যা করার মতোও মানসিক অবস্থা ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো ধারণা করতে পারছেন না তিনি। তবে আতাউরের অসুস্থ মাকে নিয়ে চিন্তিত ছিল বলে জানান।
কুমুদিনী খালের পশ্চিমপাশে প্রাণ ও মাম পানির ডিলারশিপের গোডাউন রয়েছে। গোডাউনের সীমানা প্রাচীরের অপর পাশের ঝোপের ভেতর ঝুলছিল আতাউরের মরদেহ। তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও গেঞ্জি। মুখমন্ডল অনেকটা পঁচে-গলে গেছে। গোডাউনের শ্রমিকরা জানান, ঈদের পর রোববার গোডাউন খোলা হয়। গত সোমবার দুপুর থেকে গন্ধ পাচ্ছিলেন। কোরবানির বর্জ্য বা মরা পশুর গন্ধ বলে ধারণা করেছিলেন। মাম পানির ডিলার মাহমুদ হোসেন বলেন, দুপুর থেকে গন্ধ তীব্র হওয়ায় সীমানা প্রাচীরের ওপারে লোকজন নামানো হয়। পরে তারা মরদেহটি দেখতে পান।
ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর-ই-আলম বলেন, নিহত ব্যক্তি নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা তার পরনের পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


