নাসিকের ২৭ ওয়ার্ডের ৮১ কেন্দ্রে একযোগে টিকা দান শুরু ৭ আগস্ট
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২১, ১০:৪৫ পিএম
# সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন মেয়র আইভী
# শুরু হচ্ছে ক্রাশ প্রোগ্রাম, করোনা মুক্ত হবে নাসিক এলাকা : শকু
# মেয়রের নির্দেশে সর্বাত্বক প্রস্তুতি নিচ্ছি, বাদ থাকবে না কেউ : রুহুল
# তিনিটি করে কেন্দ্রে এক যোগে চলবে টিকা দান কর্মসূচি : কবির
এবার টিকা নিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। আগামী ৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় টিকা দান কর্মসূচির আওতায় এই ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। জানা গেছে সিটি করপোরেশনের সাতাইশটি ওয়ার্ডের সব কয়টিতে এক যোগে টিকা দেয়া শুরু হবে।
শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে তিনটি করে সেন্টার খোলা হচ্ছে। এরই মাঝে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী স্বল্প সময়ের মাঝে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার সকল মানুষকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসাবে এক সঙ্গে সব কয়টি ওয়ার্ডের তিনটি করে সেন্টারে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দান সম্পন্ন করা হবে। এতে ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ৮১টি সেন্টারে দেয়া হবে টিকা। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা দ্রুতই করেনা মুক্ত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে গতকাল নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও তাদের প্রত্যেক ওয়ার্ডে তিনটি করে সেন্টার করার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাসেম শুকু জানিয়েছেন তার ওয়ার্ডে তিনটি সেন্টার হচ্ছে। এই সেন্টারগুলি হলো কাউন্সিলরের কার্যালয়, বার একাডেমী স্কুল এবং বাগে জান্নাত পথকলি স্কুল। তিনি আরো বলেন, এবার সরকারের নির্দেশনায় সিটি করপোরেশন যে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে তাতে শিগগিরই করোনার মহামারী নামক বিভীষিকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দারা মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চেষ্টা করবো এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে। আমি আমার ওয়ার্ডের সবাইকে আহবান জানাবো তারা যেনো ন্যাশনাল আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে এসে টিকা গ্রহন করেন।
এদিকে এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, আমার ওয়ার্ডে তিনটি সেন্টার হচ্ছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডেই তিনটি করে সেন্টার হচ্ছে। আমি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যাতে সুশৃংখল ভাবে টিকা গ্রহন করতে পারে সেই ব্যাবস্থা নেবো আমরা। তিনি আরো বলেন আপনারা জানেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ তার মায়ের মৃত্যুতে শোকে কাতর। তারপরেও এই কর্মসূচি সফল করার উপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদেরকে এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন তিনি নিজে গোটা সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দান কর্মসূচি নজরধারী করবেন। কাউন্সিলর রুহুল আমিন আরো বলেছেন এটা একটি বড় সুযোগ নগরবাসীকে এই ভয়ংকর মহামারি থেকে বাঁচানোর। তাই এখনই আমাদেরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামতে হবে। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত একজন ব্যক্তিও যাতে টিকা দান থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি শতভাগ সফল হবো ইনশা আল্লাহ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডে তিনটি সেন্টার হচ্ছে। এরই মাঝে আমি এ বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, মহামারি থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে এটাই সর্বোচ্চ সুযোগ। টিকা দান কর্মসূচি শুরু করার আগেই সবাইকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে তিনটি সেন্টার কোথায় কোথায় হচ্ছে আগামী ২/১ দিনের মাঝেই আমরা ঠিক করে ফেলবো। প্রয়োজনে মাইকিং করে জনগণকে জানিয়ে দেবো। মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন সরকারের বেধে দেয়া নির্ধারিত বয়স সীমার মাঝে একজন মানুষও যাতে টিকা গ্রহণের বাহিরে না থাকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তাই এ বিষয়ে আমরা এবং আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে খুবই সফল হবে ইনশাআল্লাহ।


