দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত ১৪দিনের কঠোর লকডাউনে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন। লকডাউনের শুরুতে কড়াকড়ি থাকলেও ১১তম দিনে নগরজুড়ে ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করা গেছে। এদিকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না অনেকেই। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রশাসন।
সোমবার (২ আগষ্ট) কঠোর লকডাউনের ১১তম দিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় মানুষজন অবাধে চলাচল করছেন। এছাড়া নানা মানুষকে অযুহাতে ঘর থেকে বেড়িয়ে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে। অনেকেই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না।
এদিন শহরে সবকটি কাঁচাবাজার, মুদির দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও অন্যন্যদিনের মতো নগরীর বিপনীবিতান, মার্কেটসহ সকল ফ্যাশন হাউজ বন্ধ রয়েছে। শহরে জরুরি পরিবহন চলাচল ছাড়াও ব্যক্তিগত যানবাহন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা ও কিছু মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে ভোর থেকে নগরীর সকল প্রবশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি শুর করে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ চেকপোস্টগুলো অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা নমনীয়। তবে কিছু কিছু প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল আরোহীদের পুলিশি বাঁধার মুখে পড়তে দেখা গেছে।নগরীর চাষাঢ়া ও কালীরবাজার এলাকায় গত দুই দিনের তুলনায় মানুষের আনাগোনা অনেক বেশি দেখা গেছে। শহরের ফুটপাতে একই সাথে ভ্রাম্যমাণ ব্যাবসায়ীদেরও সড়কে বসে ব্যবসা করতে দেখা গেছে। এতে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা বা চলাচল।
এদিকে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে প্রধান সড়কে জনসমাগম কম থাকলেও অলিগলির রাস্তার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। নগরীর খানপুর, মিশনপাড়া, আমলাপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, দেওভোগ, নিতাইগঞ্জ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এমন চিত্র চোখে পড়ে। মূল সড়কে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও শহরের অলিগলিতে অন্য সময়ের মতোই জনসমাগম দেখা গেছে । এসব এলাকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ সকল ধরনের দোকানপাটই খোলা রয়েছে। নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। মাস্ক না পড়েই এসব দোকানে বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসছেন অনেকেই। এর বাইরে অনেকেই দেখা গেল কৌতূহলবশত বাসার বাইরে বের হতে বা ঘুরতে। কঠোর লকডাউনের খুব একটা রেশ নেই শহরের এইসব এলাকায়। চায়ের দোকান, রাস্তায় কিংবা গলি গুলোতে চলছে আড্ডা আসর।


