Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

পরকীয়া ও ১৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রি !

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২১, ০৬:২৬ পিএম

পরকীয়া ও ১৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রি !
Swapno


# ভিন্ন ধর্মের নারী ও পুরুষ জড়ান পরকীয়ায়
# সন্তান জন্ম দেন ক্লিনিকে, সেখান থেকেই বিক্রি
# ঘটনার জটিলতায় সন্তান হারিয়ে কাঁদেন মা  
# বিচারক, বিচারের সমাধান দুটো নিয়েই ধোঁয়াশা

 

পৃথিবীতে অসংখ্য বিচিত্র ঘটনা ঘটে। বিচিত্র আমাদের সমাজে বসবাস করা মানুষগুলো। প্রয়োজনে কাছে টানে, আবার মোহ কাটতেই ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এমনই এক অদ্ভুদ ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ শহরে। শহরের জাহানারা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে জন্ম নেয় এক নবজাতক। হাসপাতালের বিল দিতে না পারায় মাকে ওই নবজাতককে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, সিজারিয়ান অপারেশনের পর বিল পরিশোধ করার সামর্থ্য না থাকায় আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেই। এছাড়া সূত্র জানিয়েছে, একইসাথে বিল পরিশোধ শেষে সন্তান বিক্রির আরো ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেন। ভুক্তভোগী নারী হিন্দু ধর্মের অনুসারী হওয়ার পরেও নগরীর দেওভোগ ভূইয়ারভাগ এলাকার মুসলিম পরিবারের আবব্দুল কুদ্দুস নামের ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। এই ঘটনায় সামাজিকভাবে বসে ২০ হাজার টাকায় সমাধান করা হয় বলে জানান এলাকাবাসী। তবে সমাধানের এসব কথা জানেন বলে দাবি ওই নারীর। তবে সন্তানের প্রতি মায়ের মমত্ববোধ অকৃত্রিম ও তুলনাহীন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিলেও তার কথা মনে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পরেন হতভাগ্য মা।


স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারী নগরীর দেওভোগে চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। যারা সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন তিনিও চা বিক্রেতা। ভুক্তভোগী নারীর  আগের সংসারের ১ ছেলে সন্তান আছে। সেই সাথে আব্দুল কুদ্দুসের পরিবারে ৩ সন্তান আছে। পাশা পাশি দোকানদারী করায় তাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায় তারা অবৈধ মেলামেশায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানান ওই নারী। 


এদিকে ওই নারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার সন্তানকে লালন পালন করার সামর্থ্য না থাকায় আমি তাকে বিক্রি করে দেই। অনেকে সন্তানকে মেরে ডাষ্টবিনে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ভয়ে আমি তা করি নাই। অভাবের তারনায় পরে আমাকে এই কাজ করতে হয়েছে। যার সাথে আমার সম্পর্ক হয়েছে তাকে আমি কাকা বলে ডাকতাম। পরে শয়তানের ধোকায় পরে আমাদের মেলা মেশা হয়ে যায়। ভূঁইয়ার ভাগ এলাকার কয়েকজন এসে আমাকে বলে সামাজিকভাবে বিচার করে তার থেকে একটা অর্থ নিয়ে দিবে। কিন্তু কত দিবে তা বলে নাই। আমি অসহায় মানুষ এটা নিয়ে এত কিছু হবে তা বুঝতে পারি নাই। কারা বিচার করেছে তাদের নাম জানতে চাইলে তা তিনি বলতে পারেন নাই। 


তিনি আরও জানান, অভাবের তাড়নায় পরে সন্তান বিক্রি করে দিলেও তার জন্য আমার ঠিকই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কি আর করা। ১ সন্তান নিয়ে নিজেরাই ঠিকমত খেতে পারিনা। তার মাঝে আবার এই সন্তানের খরচ বহন করবো কোথা থেকে। এর মাঝে ভাড়া নেয়া দোকানটাও মালিক নিয়ে নিছে। আমরা এখন কিভাবে চলবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি। এত কিছুর পরেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে ফায়দা নিতে চাইতাছে। কেউ ফায়দা নিতে না পারে আমি তা চাই। আমি যেন ন্যায় বিচার পাই সবার কাছে এই কামনা করি। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন