ছুরিকাঘাত করে নগরীতে আবারও মিশুক ছিনতাই!
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২১, ০৮:১৭ পিএম
তখন রাত পৌনে ২টা। সারা শড়ীরে রক্তামাখা ২২ বছর বয়সী এক যুবক নগরীর চাষাড়া জিয়া হলের সামনে এসে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে যায়। তখন সেখানে থাকা কয়েকজনের প্রচেষ্টায় জ্ঞান ফিরে পায় সেই যুবক, স্থানীয়দের প্রশ্নে যুবক জানায় তার নাম দুলাল। ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য চাকু দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েগেছে একটি মিশুক।
ছেলেটির অবস্থা আশংকা জনক দেখে একজন থানায় সংবাদ দিলে ৩০ মিনিট পর সদর থানার পুলিশ রক্তাক্ত দুলালকে চাষাঢ়া থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার দিবাগত রাত দেড় টায় নগরীর আমলাপাড়া এলাকায় মিশুক চালক দুলালের উপর হামলা করে সস্ত্র ছিনতাইকারী চক্র। এ ঘটনায় রোববার সকালে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় চাষাঢ়া এলাকা থেকে ছিনতাই চক্রের চার সদস্য যাত্রীভেষে দুলালের মিশুকটি ভাড়া করে। চক্রটি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জের লক্ষীনারায়ণ ঘাট (বনানী ঘাট) এলাকায় যায়।
পরে সেখানে কিছু সময় থাকার পর একই মিশুকে চড়ে নগরীর কালীরবাজার এলাকায় আসে তারা। তখন কথিত ওই যাত্রীরা মিশুক চালককে অন্ধকারাচ্ছন্ন গলি রাস্তা দিয়ে আমলাপাড়ায় যেতে বললে দুলাল সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে চক্রটি ৫০০ টাকার ভাংটি নেই জানিয়ে চালককে নিয়ে গলি রাস্তা ধরেই আমলাপাড়া নিয়ে যায়, সেখানেই চালায় নৃশংসতা। অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সোহেল সিদ্দিক জানিয়েছেন, আহত দুলাল ফতুল্লার তল্লা জমজম টাওয়ার এলাকার আবু হোসেন সরকারের ছেলে। দুলাল এখনো নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরীয়া) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তিনি বলেন, কথা হয়েছে দুলালের সাথে, সুস্থ হলে তাকে নিয়ে করা হবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন।
তিনি বলেন, আমলাপাড়া সাত তলা বিল্ডিং এর সামনে থেকেই হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় দুলালের মিশুকটি। তিনি আরো বলেন, সন্ধান চলছে সিসি ক্যামেরা; ভিডিও উদ্ধারের পর শনাক্ত করা হবে অপরাধীদের। এদিকে দুলালের সাথে কথা হলে তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, অনেক রাত হওয়ায় তখন পুরো এলাকা ছিল নিরব। আমি ছিনতাইকারী বলে অনেক চিৎকার করেছি এবং পিছু নিয়েছি তাদের। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, দুলাল সাহায্য চেয়ে দৌড়ে আসে চাষাঢ়ায়। তখন তার পুরো শরীর ভেজা ছিল রক্তে। ছেলেটির সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে পুলিশকে ফোন করেছিলেন বেশ কয়েকজন। কিন্তু পুলিশ সময়ে কালক্ষেপন করে, পরে ত্রিশ মিনিট পর পুলিশের একটি দল এসে দুলালকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অপরদিকে বেশ কয়েকদিন ধরেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীভেষে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ড্রাইভারদের নৃশংসভাবে হত্যা করে ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে। ঘটনাগুলোতে একাধিক ছিনতাইকারীর সম্পৃক্ততাও পেলেও থামছেনা এই হত্যাযজ্ঞ। এদিকে স্থানীয়রা জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এক সময় এলাকাগুলোতে পুলিশের কঠোর নজদারী ছিল, যা বর্তমানে দেখা যায়না। এতে ছিনতাই ও চুরি বেড়ে গেছে, বেড়েছে হত্যাও। তারা বলছেন, রাতের সড়ক ফাঁকা তবুও থানা থেকে পুলিশ আসতে সময় লেগেছে ত্রিশ মিনিট। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের সাথে। ছুরিকাঘাত করে মিশুক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানা নেই তার।
তিনি বলেন, লকডাউন চলমান থাকায় এমনিতেই রাতের নগরীতে মানুষের সমাগম কম। অটো ও মিশুক চালকরা অনেক রাত পর্যন্ত চলাচল করে এবং গন্তব্যে পৌছেদেন অপরিচিত ব্যক্তিদের। তাদের অসচেতনার অভাবেই এমন ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোষ্ট বিসেয় দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। যার কারনে এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা যাচ্ছেনা। অবস্থার উন্নতি হলে তার জোরদার করা হবে। তার বক্তব্যে উঠে আসে সেই রাতের ভয়বহতার চিত্র।
দুলাল বলেন, দুই যুবক চাষাড়া থেকে চৌধুরী বাড়ী যাবে বলে তার মিশুকটিতে উঠেন। তাদের চৌধুরীবাড়ী নিয়ে যাওয়ারপর তারা বলেন আরেকটু সামনে যেতে। সামনে যেতে বলে তারা আমাকে ঘাটের সামনে নিয় যায়। সেখানে গিয়ে বলে তার কাছে টাকা পাবে একজন, পুনরায় চাষাড়া যেতে হবে। পরে তাদের সাথে আরো এক ব্যক্তি যুক্ত হয়। মেট্রো হল হয়ে বিআইডব্লিউটি এর অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে আমলাপাড়া যাই, তখন তারা একটি অন্ধকার গলি দিয়ে যেতে বললে আমার সন্দেহ হয় এবং আমি আর সামনে যাবেনা জানালে পিছন থেকে একজন আমার গলায় চাকু ধরে। এর পর আমি বাচার চেষ্টা করলে পিছন থেকে আরেকজন লাগাতার চাকু দিয়ে আঘাত করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় আমার মিশুকটি।


