মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্ব, পঞ্চায়েত অফিসে হামলা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩২ পিএম
শহরের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাদল ও ফরিদ ফের র্যালীবাগান এলাকায় আনতে পঞ্চায়েত কমিটির অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে দৃবক্তরা। এসময় হামলাকারীদের বাঁধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন। হামলায় পঞ্চায়েত কমিটির অফিসে থাকা বিভিন্ন ছবি সহ আসবা পত্র ভাঙচুর করা। গতকাল বুধবার সকালে র্যালী বাগানের ভেতরে থাকা পঞ্চায়েত কমিটির অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার কমিটির লোকজন সদর মডেল থাকায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বৃহস্পতিবার তারা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। র্যালী বাগান এলাকার বাসিন্দা ও পঞ্চায়েত কমিটির লোকজন জানান, কয়েক বছর আগে মাদক সহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাদল ও ফরিদকে এলাকা ছাড়া করে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
এরপর থেকে তারা দীর্ঘদিন বন্দরে বসবাস করছে। সেখানেও মাদক বিক্রি করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে ফের বাদল ও ফরিদ র্যালী বাগানে আসতে নানা কৌশল অবলম্বর করে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে বাগানে আসতে চেয়েছে কিন্তু বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি তাদের ঢুকতে দেয়নি। এ কারণে বাগানের কিছু লোকজানের সাথে তারা আতাত করে।
স্থানীয়রা আরও জানান, কিছুদিন আগে র্যালী বাগানে নতুন করে পঞ্চায়েত কমিটি গঠন হয়। সেখানে বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিনের সাথে হেরে যায় গোবিন্দ। কয়েকদিন আগে তারা মাতৃ কল্যান নামে আরেকটি কমিটি করে। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাদল ও ফরিদের আত্মীয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার র্যালী বাগানে আসে বাদল ও ফরিদ সহ তাদের স্ত্রী ও স্বজনরা। এসময় তাদের এলাকায় আসতে বাঁধা দেয়া হলে স্থানীয়দের নানা হুমকি দেয়া হয়। রাতে এলাকাবাসি ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরীর কাছে। সেখান থেকে তারা ঘটনার আশ্বাস নিয়ে ফিরে আসেন।
এরপর বুধবার সকালে মন্ডলপাড়া এলাকার মাদক শাহালম, আকাশ,ও র্যালী বাগানের অপু। স্বপন সহ প্রায় ৪০ জনের একটি দল হামলা চালায়। তখন তাদের বাধা দিলে পঞ্চায়েত কমিটির সাধারন সম্পাদক মো. মুরাদ হোসেন পিতা আলমাছ মিয়া সহ আরও কয়েকজন আহত হন। তাদেরকে ভিক্টোরিয়া জেনালের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বাগানে নিষিদ্ধ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বাদল-ফরিদ পুনরায় বাগানে প্রবেশ করলে স্থানীয় ভূমি রক্ষা সমাজ উন্নয়ন পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ যুবসমাজ তাদেরকে বাধা প্রদান করে। এসময় আরও একটি পঞ্চায়েত কমিটির (দক্ষিণ র্যালিবাগান মাতৃভূমি রক্ষা সমাজ কল্যাণ পঞ্চায়েত কমিটি) নেতৃবৃন্দরা তাদেরকে সরিয়ে আনার দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে দুইটি পঞ্চায়েত কমিটির লোকজনসহ যুবসমাজ। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন রক্তাক্ত আহত হয়। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ ব্যাপক ভাংচুর করা হয় মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়া ওই পঞ্চায়েত কমিটির কার্যালয়। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত এবং অপর একজনের পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়।
ভূমি রক্ষা সমাজ উন্নয়ন পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের পঞ্চায়েত অফিস ভেঙে ফেলেছে। এই হামলার সাথে জড়িত আনোয়ার, মাদক বিক্রেতা শাহালম, আকাশ ও অপু এই হামলা করেছে। গত চার পাঁচ বছর আগে মাদক ব্যবসায়ী বাদল-ফরিদ ওরা গেছেগা। গেছেগা গেছেগাই। কিন্তু ওরা ওই মাদক ব্যবসায়ীগো আবারও এখানে আনছে। এখানে কোন টিকা দেয়া হয়না। ওরা মিথ্যা কথা কইছে। ওরা মাদক ব্যবসায়ীগো এ বাগানে আবারও ঢুকাতে চায়। ওরা আমাগো আওয়ামী লীগের দালাল কইয়া আমাদের অফিসে ভাংচুর চালাইছে। অফিসে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাংচুর করেছে। দরজা-জানলা, চেয়ার টেবিল সব ভাঙছে। আনোয়ারের নির্দেশে শাহআলম, আনোয়ার, অপুরা এ হামলা চালাইছে। এ হামলা মনির হোসেনসহ ৫ জন আহত হয়। একজনের পেটে চাকু দিয়ে পার মারে। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেলে আছেন। মঙ্গলবার রাতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করেছি তাই বুধবার সকালে তারা হামলা করেছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করবো।
এ বিষয়ে দক্ষিণ র্যালিবাগান মাতৃভূমি রক্ষা সমাজ কল্যাণ পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদ আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি ১৫ দিন ধরে অসুস্থ। আমর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা মিথ্যা। বরং ওই এলাকায় গাজি সালাউদ্দিন ও গোবিন্দর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে দন্ধ। আমরা যে কমিটি করেছি তার রেজিষ্ট্রেশন আছে। ওদের কমিটির নেই। তিনি বলেন, বাদল ও ফরিদ তারা আমার আত্মীয় হলেও আমি তাদের বিরুদ্ধে। গোবিন্দার বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। কোন হামলার সাখে আমি জড়িত নয় আর বাদল ফরিদ কে র্যালী বাগান ছাড়া করার সময় সব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো আমার। এখানে দন্ধ হয়েছে আমরা একটা কমিটি করেছি সেই কমিটি নিয়ে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ জামান জানান, র্যালী বাগান এলাকায় পঞ্চায়েতের লোকজনের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। ঘটনার তদন্ত চলছে । যারা ঘটনার সাথে জড়িত আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।


