Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শহরের ১০ জায়গায় ছিনতাইকারীর উপদ্রব

Icon

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২১, ০৫:৩৫ পিএম

শহরের ১০ জায়গায় ছিনতাইকারীর উপদ্রব
Swapno


# দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করে
# থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনা 
# তৎপরতা আরো বাড়ানো হবে : ওসি 

শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শেষে রাত আড়াইটার সময় নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ২ নম্বর রেলগেট এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ডিআইটি মসজিদের সামনে চাপাতি হাতে ৫ যুবক তার রিকশাটি থামিয়ে ছিনিয়ে নেয় মোবাইল সহ নগদ টাকা। এরপর মুহুতের মধ্যে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। প্রায় প্রতিরাতে এমন ঘটনা ঘটছে বঙ্গবন্ধু সড়ক ও নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে। ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করছে। তবে পুলিশের দাবি তারা সড়কে টহল দেয়। নাগরিক নেতাদের মতে, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে ছিনতাইকারী সড়কে ঘুরাঘুরি করে কিভাবে।


জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়ককের বলাকা পাম্প, গলাচিপার মোড,  উকিলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে, গুলসান হলের রাস্তায়, কমির মার্কেট এলাকায়, ডিআইটি মসজিদের সামনে ও নিতাইগঞ্জে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার গভীর রাতে অবস্থান করে ছিনতাইকারীরা। একই অবস্থা নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের কালিবাজার ১৬ তলার সামনে থেকে মেট্্েরা হল পর্যন্ত। সেখানে দলবদ্ধভাবে ছিনতাইকারীরা অবস্থান নেয়। তারা রিকশা ও ইজিবাই থামিয়ে যাত্রীদের ছুরি, রামদা ও চাপাতির ভয় দেখিয়ে সাথে থাকা মালামাল লুটে নেয়। ভুক্তভোগিরা সর্বস্ব হারিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। অনেকে থানায় গিয়ে অভিযোগও করেন।


নুর ইসলাম নামের ভুক্তভোগী বলেন, ৪ আগষ্ট রাত আড়াই টার দিকে তিনি রিকশা নিয়ে যাওয়ার সময়  করিম মার্কেটের সামনে থেকে ৫ জন যুবক দ্রুত রাস্তা পার হয়ে ডিআইটি মসজিদের সামনে তার রিকশা থামায়। তাদের মধ্যে একজন রিকশা চালককে মারধর করতে থাকে। অপর এক জনের হাটে চাপাতি ও অন্যরা তাকে চড়-থাপ্পর মারতে থাকে। এক পর্যায় পকেট থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি দ্রুত ছুটে যান ২ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান করা পুলিশের কাছে। সেখানে গিয়ে অবস্থানরত পুলিশকে ঘটনা জানিয়ে তাদের নিয়ে যায় ওই এলাকায় তবে সেখানে গিয়ে কাউকে পাননি তারা।


এ সড়কের গুলশান হলের সামনে কয়েকদিন আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছে ইমরান হোসেন নামের এক কাপর ব্যবসায়ী। চাষাড়া এলাকা থেকে মালপত্র নিয়ে রিকশা দিয়ে গুলশান হল এলাকায় গেলে সেখানে ৩ যুবক তার রিকশা আটককে মোবাইল ও সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় তিন জনের মধ্যে দুই জনের হাতে ছুড়ি ছিলো। ঘটনার সময় ছিনতাইকারীরা ইমরানকে হুমকি দিচ্ছিল মোবাইল ও টাকা না দিলে তাকে ছুরি মেরে দিবে এই ভয়ে তিনি সব দিয়ে দেন।


কয়েকদিন আগের বন্দরের এক বাসিন্দাও নবাব সলিমুল্লাহ সড়ককের কুমুদিনী এলাকার সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছেন। তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই এলাকায় তার রিকশা থামিয়ে রামদা দিয়ে ভয় দেখিয়ে সাথে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা লুট করে ছিনতাইকারীরা।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ দুইটি সড়ককে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথায় মানুষ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে মানুষ। তাই রাত ২ টার পর মানুষ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় পায়। ছিনতাইকারীরা সংঘবন্ধ ভাবে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়। সব কিছু লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের মোবাইল ও টাকা না দিলে আঘাত করার ভয় দেখায় এ কারণে প্রাণ বাঁচাতে সাথে থাকা সব দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে। তবে সড়ককে পুলিশ থাকলেও তাদের কার্যক্রম কম বলেই মনে করেন অনেকে।  তাই ছিনতাইকারীরা অতিতের সময়ের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ জানান জানান, রাতে একাধিক টহল টিম দুইটি সড়ককে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। সড়কে সব অলিগলি এলাকা গুলোর সামনে আমাদের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে যাতে করে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসে। 


এদিকে নাগরিক কমিটির নেতাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশ ঠিক মতো টহল দিলে ছিনতাইকারী কিভাবে সড়ককে অবস্থান করে। যে সব এলাকায় ছিনতাইকারীদের অবস্থান সেখানে পুলিশের টহল বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে সড়কের অন্ধকার জায়গা গুলোতে পুলিশের টহল দেয়া বিশেষ প্রয়োজন তাহলে ছিনতাইকারীরা সড়ককে অবস্থান করতে পারবে না। এমনিক অলিগলিতেও পালাতেও পারবে না।


নাগরিক নেতারা জানান, আগে গভীর রাতে চলাচল করলে পুলিশ যাকে সন্দেহ জনক মনে করতেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতো কিন্তু বর্তমানে তা দেখা যায় না। তাই ছিনতাইকারীও অবাধে ঘুরাফেরা করে। এমনটি ইজিবাইকে করেও রাতে এক দল ছিনতাইকারী শহরের চলাচল করে।


উল্লেখ্য, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায়ও ২৮ টি স্থানে রাতে ছিনতাইকারীদের চলাচল। সেখানেও মাঝ রাতে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে সাধারণ মানুষকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব কিছু লুটে নেয়। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন