Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নারায়ণগঞ্জে শেষ ঠিকানার ব্যাপক উন্নয়ন

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২১, ০৫:৫৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জে শেষ ঠিকানার ব্যাপক উন্নয়ন
Swapno

# সকল মহলে প্রশংসিত মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জ শহরের মোট জনসংখ্যার শতকরা সত্তুর ভাগ মুসলমান আর ত্রিশ ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। আর এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষদের শেষ ঠিকানা হলো কবরস্থান আর শ্মশান। তাই শহরের মাসদাইর এলাকায় অবস্থিত এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে এই শহরের সব মানুষের আবেগের সম্পর্ক বিদ্যমান। আর এই বিষয়টি ধারণ করার জন্যই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী মাসদাইর কবরস্থান এবং শ্মশানের ব্যাপক উন্নয়ন করে চলেছেন।

 

তাই যারাই তাদের স্বজনদেরকে দাফন করার জন্য অথবা শেষ কৃত্যের জন্য সেখানে যাচ্ছেন তারাই কবরস্থান এবং শ্মশানের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে খুশী হচ্ছেন এবং মেয়র আইভীর প্রশংসা করছেন। মেয়র আইভী কবরস্থানে বিশাল মসজিদ নির্মান করেছেন এবং শ্মশানে মন্দির নির্মান করেছেন। তাই তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই কবরস্থান এবং শ্মশানের তিনি তাক লাগানো উন্নয়ন করে চলেছেন।

 

গতকাল সরেজমিন এই দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে দেখা যায় করস্থান এবং শ্মশানে প্রবেশের গেইটসহ দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছেন। তাই এই বিষয়ে প্রায়ই পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করতে আসা এক ব্যক্তি বলেন এখানে আমার বাবা মা সহ পূর্ব পুরুষরা ঘুমিয়ে আছেন। তারা চলে গেছেন। তাই বলেতো তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় নি। তাই প্রায়ই আসি পিতা মাতা সহ স্বজনদের কবর জিয়ারত করার জন্য। আসলেই মেয়র আইভী এই কবরস্থানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। একদিন হয়তো মেয়র আইভী থাকবেন না, কিন্তু থেকে যাবে তার কীর্তি। একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন মাসদাইর শ্মশানে আসা শিবু রঞ্জন দাস নামক এক ব্যাক্তি। গতকালই তার এক স্মজনকে এই শ্মশানে দাহ্য করা হয়েছে। দাহ্য শেষে চলে যাবার সময় তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, এই শ্মশানে আগেও এসেছি। কিন্তু এমন সুন্দর পরিবেশ আগে আর দেখিনি। সত্যি মেয়র আইভী ভালো উন্নয়ন করেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।

 

তবে শ্মশানের মাটি কবরস্থানে দেয়া নিয়ে ওই মুসলিম ব্যাক্তিটির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এই বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। এটা সম্ভবত রাজনীতির খেলা। আমি যতো দূর জানি মেয়র আইভী একজন ভালো মনের মানুষ। তিনি কখনোই কোনো নোংরা খেলা খেলেন না। আর কবরস্থান ও শ্মশানতো দুই ধর্মের মানুষদের আবেগের জায়গা। এখানে কোনো তিনি এমন কিছু করবেন যাতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তাছাড়া মেয়রের মা মৃত্যু বরন করেছেন। এই সময়তো তিনি মা হারানোর শোকে ব্যাকুল। এ সময় তিনি কেনো মাটি নিয়ে নোংরা খেলা খেলবেন।

 

আসলে এই শহরে কারা রাজনীতির নামে নোংরামি করেন সেটা জানে সকলেই। আমরা দেখতে পাচ্ছি মেয়র আইভী কবরস্থান আর শ্মশানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এটাই বড় কথা। এটা হয়তো তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সহ্য হচ্ছে না। তাই তারা শেষ পর্যন্ত কবরস্থান নিয়েও নোংরা খেলা খেলছেন। এটা কাম্য হতে পারে না।


অপরদিকে ওই হিন্দু ব্যাক্তি বলেন, দেখুন শ্মশানে আসার পর এমনিতেই মন নরম হয়ে যায়। শুনেছে এক পক্ষ অভিযোগ করছেন শ্মশানের এই যে পুকুরটির উন্নয়নের জন্য খনন করা হচ্ছে এইটির মাটি নাকি কবরে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কবরস্থান কর্তৃপক্ষ বলছে তারা এই মাটি কোনো কবরে দেয়নি। আর যাদের কবরে মাটি দেয়া হয়েছে সেই মাটি তারা নিজেরাই দিয়েছেন। কিন্তু সেই মাটি শ্মশানের এই পুকুরের মাটি নয়। তবে আমি বলবো এটা শ্মশানের পুকুর হোক আর কবরস্থানে পুকুর হোক। মাটিতো মাটিই। মাটি কি দোষ করেছে?

 

তিনি আরো বলেন আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন পুকুরটির এক পারে সরকারী রাস্তা আর দুই পারে শ্মশান আর এক পারে কবরস্থান। তাহলে এটা শুধু শ্মশানের পুকুর হয় কি করে? এছাড়া এই পুকুরের উপরেতো কিছুদিন আগেও মুসলমানরা পাটাতনের দোকান নির্মান করে মিষ্টির দোকান, ফলের দোকান সহ ব্যবসা করেছেন। তাহলে এটা শুধু হিন্দুদের সম্পত্তি হলো কিভাবে? আসলে এটা নিয়ে যা হলো সেটা নোংরা রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরো বলেন, আসলে এসব রাজনীতির বিষয় আমাদের দেখার কোনো দরকার নেই। আমরা সাদা চোখে যা দেখছি সেটা হলো মেয়র আইভী এই শ্মশান আর কবরস্থানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন