একাধিকবার ভাষা সৈনিক সড়ক (বালুর মাঠ) এলাকার অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পুনরায় তা দখল হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। তিনি বলছেন, জায়গাটি যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের সেহেতু সংশ্লিষ্টদের সহায়তা ছাড়া জন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না ভাষা সৈনিক সড়কটি।
গত ৩ বছর আগে (২০১৮ সালের ৬ আগষ্ট) জাইকার অনুদানে প্রায় ২ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ভাষা সৈনিক সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সংস্কর কাজ শেষে এক মাসের মধ্যেই সড়কটিকে উন্মুক্ত করে নাসিক। এরপর থেকে স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যক্তিরা সড়কটির দুই পাশের ফুটপাত দখল করে খাবারের দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করে। এতে করে সাধারণ মানুষের চলাচলসহ ছোট বাহনগুলোকে মূল সড়কে যুক্তহতে বিরম্বনার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, বহিরাগত ব্যক্তিরা সড়কটি দখল করে আছে, সেই সাথে সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ড রয়েছে। জনস্বার্থে স্থায়ী ভাবে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগীতা প্রয়োজন। সেই সাথে সিএনজি, অটো, লেগুনা স্ট্যান্ডের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থাও করতে হবে।
সংরক্ষিত কাউন্সিলর শারমীন হাবিবা বিন্নী বলেছেন, সড়কটি পুনঃসংস্কর করা হয়েছে জন সাধারণের নির্বিঘœ চলাচলের জন্য। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর চাপ কমাতেই বিকল্প সড়ক হিসেবে ভাষা সৈনিক সড়কটি সংস্কার করা হয়। দ্রুতই সড়কটির অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজার কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম ভাষা সৈনিক সড়করে অবস্থা খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কার্যক্রম চলমান আছে। যেকোন সময় এলাকাটিতে অভিযান পরিচালনা করে দখল মুক্ত করা হবে সড়কটি। সৈয়দ রিফাত নামের এক ব্যক্তি জানান, সন্ধ্যার পর বালুর মাঠ (ভাষা সৈনিক) সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। বিভিন্ন খাবারের দোকানের লোকজন একপ্রকার জোর করেই বসাতে চায় তাদার দোকানে।
কামরুল হাসান নামের এক পথচারী জানান, বঙ্গবন্ধু সড়কে পরিবহনের চাপ দেখে বালুর মাঠ হয়ে রিক্সা করে বাড়ী ফিরছিলাম। প্রেস ক্লাব থেকে শান্তনা মার্কেট পর্যন্ত আসতেই বিশ মিনিট সময়ে ব্যয় হয়ে যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগনের ট্যাক্সেই সড়কটি পুনঃসংস্কার করেছিল নাসিক। কিন্তু দায়িত্ব অহহেলা কিংবা নজরদারীর অভাবে রাক্ষুসে ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছে সড়কটি।


